আজ ১০/১১/২০১৭, রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষা( যা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষারমতো ডাক্তারদের একটি স্নাতকোত্তর কোর্সে চান্স পাওয়ার পরীক্ষা) সম্পন্ন হল এবং একই দিনে ফল প্রকাশিত হল। গত বছর ঠিক এইদিনের পরেরদিন মানে ১১/১১/২০১৬তে একটা অপ্রত্যাশিত হাসিতে হেসেছিলাম, আজ যেরকম প্রত্যাশিত হাসিতে হাসলো আমার বেশ কিছু বন্ধু, কেউ NICVD,কেউ DMC তে চান্স পেল। কিন্তু এই সাময়িক আনন্দের মুহূর্তটি আমার জন্য পরবর্তীতে মোটেও সুখকর হয়নি। আপনার যদি পিছনে ব্যাক আপ দেওয়ার কেউ না থাকে, আপনি যদি কার্যোদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্যাপক পটু আর সুচারু না হন, তবে আপনার এই কোর্স স্বস্তির বদলে অতৃপ্তি নিয়ে আসবে প্রতিটা মুহূর্তে। যেমনটা ঘটেছে আমার জীবনে কারন যে সময়টাতে আমার দরকার ছিল আমার বাবার পাশে দাঁড়ানোর সেই সময়টাতে আমাকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হল, ধরাবাঁধা ১০০০০/- টাকার মধ্যে। এর উপর করতে হল বিয়ে। বিয়ের ২/৩ মাসের মাথায় যা কিছু জমিয়ে ছিলাম, সব ফুরাতে শুরু করল, সংসারে শুরু হল অভাব উদ্ভূত অশান্তি। আমাদের ২জনের প্রায় আলাদা থাকার উপক্রম। কাজের জন্য এর কাছে, ওর কাছে ঘুরতে লাগলাম, চেম্বার খুজলাম, একবার আশা পাই তো দুইবার হতাশা। আমার বউ খুব স্বল্প মজুরির একটা হাসপাতালে কাজ করতে থাকে, আমিও মাঝে ফাঁকা পেলে ২/১টা রাত্রিকালীন ডিউটি করতে থাকি। এদিকে আমার ওয়ার্ডে যথেষ্ট কাজের চাপ। এভাবে চলে যায় ৩মাস। হঠাৎ আল্লাহপাকের অশেষ করুণায় আমারই এক কলিগের সুবাদে, আমার স্ত্রীর চাকরি হয় একটি ফ্যাক্টরির ডাক্তার হিসেবে মোটামুটি ভালো বেতনের। সংসারে সুখ ফিরতে থাকে আমার স্বল্প আর আমার স্ত্রীর মিলিত বেতনের যোগফলে, যদিও আমার বেতনটা রীতিমত ২/৩ মাস অন্তর অন্তর আসে। ঈদের সময় বিবাহের পর প্রথম ঈদ বলে আমার পরিবারের দিক থেকে কিছু, আমাদের কিছু ও আমার শ্বশুর বাড়ির কিছু, সব মিলিয়ে যোগ-বিয়োগের মাঝে সাধ্যমত সবার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি। হয়ত অনেক্ষেত্রেই পরিমান ও গুনগতমানের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারিনি এই দুর্মূল্যের বাজারে। এভাবেই চলে আমার আধমরা পড়াশোনা আর আমার স্ত্রীর আত্মত্যাগ। দুজনই ছুটছি একটা চাকরির পিছনে, যার নাম সোনার হরিন বিসিএস।
আমি এমন এক বিষয়ে পড়ছি, যাতে আমার আগ্রহ খুব একটা বেশি নেই, কিন্তু আবার ছাড়ারও সাহস করতে পারছি না। এই প্রতিযোগিতার যুগে ২য় বার সুযোগ আসবে কিনা সেই ভয়ে। কারন ঘরপোড়া গরু, সিঁদুর দেখে ভয় পায়। তবুও ছেড়ে দিতাম, পারি না আমার পারিপার্শ্বিকতার জন্য।
তাই জীবনের প্রতিটা সাফল্যই যে পরবর্তীতে সুখ নিয়ে আসবে, তা বলা যায় না। একটা সুখের অপর পাতায় কি লেখা, তা কেবল আল্লাহ তায়ালাই জানেন। জীবনের নির্বুদ্ধিতা আর সিদ্ধান্তহীনতার জন্য অনেক ঘুরতে হয়েছে, তাই আজও ঘুরে ফিরছি।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


