somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার আমাদের ঈদ কিন্তু একটাই ......।। (ঈদ চিঠি)

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা, এই ঈদেও তুই আমাকে চুড়ি কিনে দিলি না...? !? তোর কি কোনদিন একটুও বুদ্ধি-সুদ্ধি আক্কেল হবে না রে? এক ডজন চুড়ির দাম কি খুব বেশি- বল? অথচ দেখ, এই ঈদ -এ আমার হাতের মেহেদীটাও তোর কিনে দেয়া মেহেদী হতে পারতো! মেহেদীর দাম ও তো- মাত্র ৪০/টাকা! তোর মন কোথায় থাকে রে? আমার কান্না পাচ্ছে খুব! এবার যদি না কিনে দিস তাহলে তো আর কখনোই কিনে দিবি না...আমার আর কখনোই পড়া হবে না তোর কিনে দেয়া চুড়ি... তোর কিনে দেয়া মেহেদী দিয়ে হাত রাঙানো হবে না...! আমার মেহেদী পড়া হাতের সুযোগ নিয়ে তুই যা ইচ্ছে তা করতে পারবি না... আমি মেহেদী দেয়ার অযুহাতে তোর কাছে ভাত খাইয়ে দেয়ার আদুরে আবদার করতে পারবো না... ! আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে... খুব! ...তারপর-ই সেই কল্পনার কল্পিত অংশ ---
- ওকে বাপ, এরপর ভুল হবে না, আচ্ছা দাড়া এনে দিচ্ছি! কিন্তু টাকা নাই তো! তোর পার্স দে, টাকা নেই? কত দাম এক ডজন চুড়ির?আর মেহেদীর?
- আজোও তুই আমার পার্স নিবি হারামী?
- কেন নিলে কি হইছে? ওকে যা পরে সব শোধ দিমুনে তো!
- থাক লাগবে না, আমার কেনা চুড়ি গুলি-ই পড়িয়ে দে... আমার কেনা মেহেদী-ই হাতে লাগাবো!
- ইস্‌ ঢং কত! আজকে চুড়ি পড়িয়ে দে, মেহেদী দিয়ে দে, কাল বলবি- খাইয়ে দে, পরশু বলবি- কাপড় ধুয়ে দে... শালা হারামী! আমি কি তোর চাকর না কি রে?
- হাহহা! হু তুই আমার আব্দুল! ওকে যা লাগবে না! তুই গিয়ে তোর অই ছাগল মার্কা দাড়ি শেভ করে আয়, আমার দেয়া পাঞ্জাবিটা পড়! আমি শাড়ি পড়ি! যা এখন! ভাগ!
- অই অই তুই না শাড়ি পড়তে পারিস না? আমি পড়িয়ে দেবো না কি রে?
- না থাক লাগবে না, পড়ে বলবি- আমি তোকে দিয়ে কাজ করিয়েছি! যা আমার সামনে থেকে, তোকে দেখলেই গা জ্বলে যাচ্ছে আমার!
- আরে বাপ যাচ্ছি তো!
- চুপচাপ নিজের কেনা চুড়িগুলি হাতে নিয়ে ভাবছিলাম- চুড়ি আর মেহেদী তো একটা বাহানা রে! তোর কাছে এই ছোট্ট চাওয়াটা নিয়ে ঝগড়া করতে যে আমার খুব ভাল লাগে, তোর অসহায় মায়া মায়া মুখটা দেখতে, আমার পার্স নিয়ে তোর টানাটানি সব-ই যে আমার ভাললাগার ... কিন্তু তুই গাধা আজো বুঝিস না তা! ইচ্ছে করেই তো তোকে উল্টাপাল্টা কথা বলি আর দেখি তোর অসহায় চেহারা নিয়ে মায়া মায়া ভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা... মনে মনে ভাবি- আমার এই বকা-ঝকাগুলির কাছে তোর মত একটা ডানপিটে ছোকড়া / ডাকাত কি করে অসহায় হয়ে যায়... ? একটুও হম্বি-তম্বি করতে পারিস না! আবার কল্পনা...
- অই অই হয়নি তোর? মুখে কি আলকাতরা মাখতেছিস?
- লাত্থি খাবি কিন্তু কইলাম, আমি মুখে আলকাতরাও মাখি না, চুনকাম/ প্লাস্টারও করি না হারামী! আমি শুধু পাউডার/ ফেস পাউডারের প্রলেপ দেই একটু! নে চল, রিকশা ডাক দে, ঘুরতে যাবো! অই শোন, ঘুরে এসে তোর পাঞ্জাবির সাথে যে ওড়নাটা দিয়েছি ওটা আমাকে দিয়ে দিস কিন্তু!
- কেন রে হারামী? কিপ্টি! গিফট দিয়ে প্রতিবার ফেরত নিস? এইবার দিমু না, এইটা রাইখা দিমু, বিয়া করলে বউ রে দিমু!
- ঠিক আছে রেখে দে! দিস তোর বউকে!
- অই দেখ, কেমন গাল- ফুলিয়েছে! আচ্ছা, তুই কি জানিস? তুই নীরবে খুব পেইন দিতে পারিস? শালা হারামী! এক কথাতে মাইরা দিস! বুকের ভেতর জ্বালাইয়া দিস... হু হু করে উঠে বুকটা ... ইচ্ছে হয় তোকে ছুঁয়ে দেই!
- হাহাহা! দে না, কি মানা করেছে তোকে ? না থাক, আমার কপালে তো কিছুই নেই! শুধু কল্পনা ছাড়া! অই বাদ দে, চল, আইসক্রিম খাবো!
>>এরপর পাশাপাশি বসে রিকশায় এদিক- সেদিক ঘোরা - ফেরা... আইসক্রিম খাওয়া ... আর তোর নাকে ঘষে দেয়া... তারপর... বাসার কাছে ফিরে তোর বুকের সাথে লেপ্টে গিয়ে অনুভব করা- “ তুই আমার”! তারপর ওড়নাটা নিয়ে মুগ্ধতায় দুজনের বিদায়...! কি অদ্ভুদ তাই না...? এবার কিন্তু আমাদের ঈদ একটাই ... ! তাই চাঁদ রাতের এই ঘোরা- ফেরা আনন্দ... ঈদের শুভেচ্ছা... সব এক দিনেই! ঈদ মোবারক হাম্বা! অনেক অনেক শুভ কামনা! ভাল থাকিস!
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০০




জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth....

জেফরি আর্চারের A Prisoner of Birth মূলত এমন এক উপন্যাস, যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, শ্রেণিবৈষম্য, বিচারব্যবস্থা, প্রতিশোধ এবং বুদ্ধিমত্তার লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। উপন্যাসটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×