ঘড়ির অ্যালার্মের শব্দে চমকে উঠে ছেলেটা চোখ বন্ধ করেই বিছানা থেকে হাতড়ে বিছানার পাশে থাকা টেবিলে ঘড়িটা খুঁজতে গিয়ে...
খচ করে কিছু একটার খোঁচা অনুভব করে আঙ্গুলে... উফস করে চিৎকার করতে গিয়ে তাকিয়ে দেখে কিছু ভাঙ্গা চুড়ি টেবিলে...
সেই চুড়িতে আঙ্গুল লেগেছে... ব্যাথাময় অনুভবটা কেটে গিয়ে অন্যরকম একটা ভাবনায় ছেলেটা ডুবে যায়...
মনে পড়ে কাল বিকেলে মেয়েটার হাতে চুড়ি পড়াতে গিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছিলো দু’খানা চুড়ি...
আনমনে সেই চুড়ি কুড়িয়ে পকেটে রেখেছিলো ছেলেটা...
মেয়েটা অদ্ভুদ দৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছিলো চোখের ভাষায়...
ছেলেটা মুচকি হেসেছিলো শুধু... মেয়েটা কি বুঝেছিলো কে জানে...
কিন্তু ছেলেটা যত্ন করে সেই ভাঙ্গা চুড়ি রেখে দিয়েছিলো বিছানার পাশের টেবিলে...
ঘোরালাগা ভাবনা থেকে ছেলেটা কিছুটা ধাতস্থ হয়ে আবার ভাবে...
একদিন এই অ্যালার্ম কিংবা চুড়ির খোঁচাতে না ... মেয়েটার আদুরে বকাতে তার ঘুম ভাঙবে ...
ঘুম থেকে উঠেই ছেলেটা ওয়াশ রুমে চলে যায়...
ফ্রেশ হতে মুখে পানির ঝাপটা দিতে গিয়ে বেসিনের আয়নায় চোখ আটকে যায়...
দেখে কপালের মাঝখানে একটা কালো টিপ...
ঘোরলাগা দৃষ্টিতে কপাল কুঁচকে ভাল করে তাকাতে গিয়ে দেখে... টিপটা আয়নায় আটকানো...
এক চিলতে হাসি ছেলেটার ঠোঁটের কোণে ছড়িয়ে যায়...
ছেলেটার মনে পড়ে কাল বিকেলে মেয়েটার এলো চুল ঠিক করে দিতে গিয়ে
টিপটা চুপিসারে নিয়ে মানিব্যাগের পকেটে লুকিয়ে বাসায় এনে এই আয়নায় আটকিয়ে রাখে...
একদিন হয়ত এভাবে চুপিসারে মেয়েটির টিপ আনতে হবে না...
কারন একদিন মেয়েটা সাজতে এসে... কিংবা মুখ ধুতে এসে এভাবেই আয়নায় টিপ আটকিয়ে রাখবে...
ভালোবাসা এমন-ই মধুর... কখনো কাছে থাকা মুহূর্তগুলো ...
কখনো আয়নায় কালো টিপটি আটকে থাকার রহস্যগুলো ...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



