
এই সুন্দর পৃথিবীতে সবাই যেমন চিরদিন বেঁচে থাকতে চায় তেমনি সবাই চায় তাঁর প্রিয় মানুষ গুলোও বেঁচে থাকুক চিরদিন কেননা আশেপাশের প্রিয় মানুষ গুলো ব্যাতিত বেঁচে থাকার কোন অর্থই হয় না। তেমনি সুন্দর এই পৃথিবীতে গিলগামেশও তাঁর বন্ধু এনকিদুকে হারিয়ে বেঁচে থাকার অর্থও হারিয়ে ফেলেছিল। গিলগামেশ কে?? গিলগামেশ ছিলেন হাজার হাজার বছর আগে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মেসোপটেমিয়া'র উরুক শহরের রাজা। উনার পিতা একজন মানুষ এবং মাতা একজন দেবি হওয়ায় উনার শরীরের কিছু অংশ ছিল দেবতা এবং কিছু অংশ ছিল মানুষ। একারণে তিনি ছিলেন অমর এবং অসীম শক্তির অধিকারী। রাজা হিসেবে খুবই ভাল ছিলেন তিনি কিন্তু উনার সবচেয়ে বড় দোষ ছিল খামখেয়ালীপনা। উনার এই খামখেয়ালীপনার কারণে প্রজাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হত। এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রজারা দেবতাদের শরণাপন্নয় হলে তাদের সাহায্যের জন্য দেবতারা গিলগামেশ এর সমান শক্তিধর একজন লোক প্রেরণ করেন, যার নাম এনকিদু। এই এনকিদুর সাথে প্রথম দেখায় তুমুল যুদ্ধ হলেও একসময় তারা একে অন্যের প্রাণ প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠেন। তারা যা করতেন একসাথে করতেন। ঘটনাক্রমে একসময় এনকিদুর মৃত্যু হয়। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুকে মেনে নিতে না পেরে রাজা গিলগামেশ বেরিয়ে পড়েন অমৃতের খুঁজে। পাড়ি দেন পৃথিবীর এক কোণা থেকে আরেক কোণা। এই অমৃত না পেলে তাঁর প্রিয় বন্ধু ফিরে পাবে না তাঁর জীবন। গিলগামেশকে তাঁর সারা জীবন কাটাতে হবে একা একা। রাজা গিলগামেশ কি পারবে অমৃত এনে তাঁর বন্ধুকে বাঁচাতে??
গিলগামেশ হল অ্যাসিরীয়-ব্যাবিলনীয় পুরান। এ পর্যন্ত জানা এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম উপাখ্যান এবং পৃথিবীর প্রথম গল্প। এই উপাখ্যানের নায়ক গিলগামেশ হল একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। কথিত আছে তিনি ঐ অঞ্চলে প্রায় ১২৬ বছর রাজত্ব করেছিলেন। তিনি ঐ অঞ্চলে এতোটাই জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত ছিলেন যে, উনাকে নিয়ে প্রচুর গল্প, উপকথা জন্মলাভ করেছিল। এই গল্প এবং উপকথা গুলোকে এটেল মাটি দিয়ে তৈরী তক্তিতে লিপিবদ্ধ করে ঐ সময়ের অ্যাসিরীয় অঞ্চলের এক বিশাল পাঠাগারে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তিতে উনবিংশ শতকের পঞ্চাশ দশকের দিকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই পাঠাগারটিকে আবিষ্কার করেন এবং সেখানেই খুঁজে পান গিলগামেশ এর উপখ্যান। উপাখ্যানটি পদ্যে লেখা ছিল বলে এর নাম রাখা হয়েছিল "Epic of Gilgamesh" অথবা " গিলগামেশ মহাকাব্য"। পরবর্তীতে একে বিভিন্ন ভাষায় অনুদৃত করা হয়। বাংলা একাডেমীর পক্ষ থেকেও গিলগামেশ এর এই উপাখ্যান বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সুলেখক হায়াৎ মামুদ সর্বপ্রথম ১৯৮৫ সালে ছোটদের জন্য গিলগামেশ উপাখ্যানটি নিয়ে ছোট একটি বই লিখেন। ছোট কিন্তু অসাধারণ এই বইটিতে হায়াৎ মামুদ তাঁর অসাধারণ লেখনশৈলীর মাধ্যমে উপাখ্যানটি ফুটিয়ে তুলেছেন সুচারো ভাবে। ছোটদের জন্য লেখা কিন্ত বড়দের জন্যও সুখ পাঠ্য এই বইটি।
হাতে দুই ঘন্টা মত সময় থাকলে পড়ে নিতে পারেন বইটি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

