মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -
কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। অথচ তারই ছেলে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।
ছেলেটার বয়স তখন খুব বেশি ছিল না - ষোলো-সতেরো হবে।
কর্নেল হায়দার ছিলেন তাদের প্রশিক্ষক ঐ ছেলেটাও তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং তার তাবুর পাশের তাবুতেই থাকত।
কর্নেল হায়দার প্রায়ই ছেলেটিকে বলতেন -
"বেটা, তুই কি মুক্তিযুদ্ধ করতে আসছিস? তোর বাপ তো শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান!"
কথাগুলো ছেলেটার মনে গভীরভাবে আঘাত করত। একসময় বলত-
"স্যার, আমি কি করব? আমার বাপের দায়-দায়িত্ব আমি কি নিতে পারব?"
একসময় হঠাৎ দেখা গেল, সে আর সেখানে নেই। কোথায় চলে গেছে, কেউ জানে না।
দুই-তিন দিন পর, রাতে ছেলেটা দৌড়ে কর্নেল হায়দারের তাবুতে ফিরে আসে।
এসেই চিৎকার করে বলে -
"স্যার, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান রসুল আহমদ এখন আর বেঁচে নাই। আমি আমার এই এসএমজির ত্রিশটা বুলেট তার বুকের ওপর ফায়ার করে মেরে আসছি।"
ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে ওই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা তখন আড্ডায় মশগুল ছিলেন। ছেলেটার মুখে কথাটি শোনার পর তিনি নিজেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন। তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল -
"তুই কী করলি, পাগল? তুই কী করলি? নিজের বাপকে হত্যা করলি!"
~ একজন মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও ইণ্টরভিউ ছিলো। ইণ্টারভিউতে উনার চোখে কান্না-কান্না ভাব ছিলো। লিংকটা এখন খুঁজে পাচ্ছি না। পরে অ্যাড করে দিবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



