somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোধোদয় (দ্বিতীয় পর্ব)

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাস্তার ধার দিয়ে কুদ্দুস খানিকটা উদাস মুখে হাটতে থাকে। খালি পা, ছেঁড়া গেঞ্জি আর ময়লা প্যান্ট দেখে সহজেই তাকে মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
উদাস চেহারা আর নোংরা বেশভূষার একটা সুবিধা হলো- সহজেই পার্টনার খুঁজে পাওয়া যায়! গাজার কলকের ভাগ দেয়া বন্ধু হলো পরম বন্ধু। বড় রাস্তায় ঘুরলে অবশ্য এরকম বন্ধু পাওয়া ভার। ঘুরতে হয় অলিগলিতে। তার মতো নোংরা একজনকে পেলেই অসঙ্কোচে কাঁধে হাত দিয়ে বলা যায়-
"দোস্ত, টানবা নি?"
লোকটা নেহাত পাগল না হয়ে মাদকসেবী হলে ভাব জমে যায় তখুনি! এরা চেনা অচেনা সবার সাথেই সদ্ভাব রাখে, কারণ, ফিফটি- ফিফটি পার্টনারশীপ ছাড়া হেরোইন-গাজার দাম কুলানো মুশকিল!
কুদ্দুস অবশ্য তার গতকালের পার্টনারকে খুঁজছে।
গতকাল গাজার বিল মিটিয়েছিলো সে নিজে, আজ তার খাওয়ার পালা।
ভাঙা লোহা লক্কড়ের একটা গলিতে ঢুকতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে কে যেন হাক দিলো,
ঃ ওওওও .... কুদ্দুস ভাই।

কুদ্দুস পেছনে ফেরে। বস্তির সুপরিচিত নারী-শিকারী ১৯ বছর বয়সী মোতাহার!
মোতাহার নোংরা দাঁত বের করে হেসে বললো,
ঃ টানতি যাচ্ছো বুঝি?

কুদ্দুস উত্তর দেয়না। এইসব ছেলে-ছোকরাদের তার ভালো লাগেনা। মায়ের দুধ ছাড়ার আগেই এরা বস্তির মেয়েদের সাথে অসভ্যপানা শুরু করে।
এসব তার পছন্দ নয়, এর চেয়ে গাজা ঢের ভালো।
উত্তর না পেয়ে নিরুৎসাহিত হলোনা মোতাহার। একপা এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বললো,
ঃ রাঙামাসীর বাড়ি একটা নতুন মা'য়া আইছে, কী ফিগার মাইরি। নাচতিও জানে। ক্যাটরিনা ফেইল একবারে!
যাবা নাকী?

ঃ না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়ে সামনে পা বাড়ায় কুদ্দুস। ক্যাটরিনা কে সে জানেনা। নাচ দেখারও তার দরকার নেই।
পেছন থেকে মোতাহার তবু তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যায়; নতুন খদ্দের ধরে দিয়ে রাঙামাসীর মোটা বখশিস হাতছাড়া করতে চায়না সে!




বেশ খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরির পর কুদ্দুস তার পার্টনারকে পেয়ে যায়। ঘাড়ে হাত রেখে বলে,
ঃ বন্ধু, চলো।

পার্টনারটি দাঁত বের করে বলে,
ঃ কুদ্দুস ভাই, আইজ এখনো কোন ব্যবস্থা করতি পারলামনা যে।

কুদ্দুস পাল্টা হেসে পিঠ চাপরে বলে,
ঃ দুর ব্যাটা, এইডা কোন কথা হইলো!
চল্ִ দেখি, কিছু উপায় করা যায় নেকি।

পরষ্পর পরষ্পরের কাঁধে হাত রেখে দুই মাদকসেবী হাটতে থাকে।
এদের চোখ উদভ্রান্ত কিন্তু মুখে হাসি লেগেই আছে সর্বক্ষণ!
জীবনের কাছে এদের কোন আশা নেই বলে এরা কখনোই হতাশ হয়না!!





রহিমা বেগমের পাশের ঘরের হাসিনা খালার মুরগীর ঝাক থেকে যথাসময়ে দুটো মুরগী উধাও হয়ে গেলো।
বেচারা হাসিনা খালা যখন টের পেলেন, তারস্বরে চেঁচিয়ে নালিশের হুমকী দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার রইলোনা; রহিমা বেগম, শুকুর আলী দুজনের কেউই তখন বাড়িতে নেই, গারমেন্টসে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বুনো মহিষের পাল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৯



ঘনিয়ে এসেছে প্রস্থানকাল; অনেককিছুর মতো আমিও
হারিয়ে যাবো কালের গর্ভে বা কৃষ্ণচুড়ার লালে লালে।
মূলত হারিয়ে যাওয়ার জন্যই আবির্ভূত হয়ে,
মাঝখানে সবার সাথে খেলে গেলাম বনভোজন বনভোজন।

অনেকদিন ধরেই মগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×