somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নক্ষত্রের বাতিঘর

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আতর আর আগরের গন্ধে মফস্বলের বাতাসে বাতাসে লেপ্টে থাকে মাঙ্গলিক উৎসবের আমেজ । সে আমেজের সাথে আমাদের ঢাকা শহরের বিশাল ফারাক । আয়োজনিক প্রক্রিয়াগুলো ঠিকঠাক একই রকম থাকার পরও সেবারের শবে বরাতটা বেশ ভিন্ন ছিল । আর সেই ভিন্নতার জন্যেই বিষয়টা এখনও খুব স্পষ্ট । শৈশবের সবকিছুতেই থাকে ভাললাগার মিশেল । রুটি, হালুয়া, নামাজের জন্য রাতে পুকুরে ঝাপাঝাপি করে গোসল । সে রাতে কে কত বেশী নামাজ পড়বে কি ভীষন প্রতিযোগীতা ! অথচ সারা বছর কেউই এর ধারে কাছে ঘেষতাম না ।

এমন এক শবে বরাতের রাতে রাত্রি জাগরনে প্রচুর আয়োজন শেষে যখন নামাজের সময় হলো, তখন আমাদের পাশের বাসার হিন্দু প্রতিবেশীদেরও কোন একটা বিশেষ পূজা ছিল । যথারীতি তারাও তাদের জীবন পদ্ধতির স্বাভাবিক চন্দন আর ফুলের সুবাসে ভরিয়ে তুলল আঙ্গিনা । এখানে উল্লেখ্য যে আমাদের দু’বাড়ির মাঝখানে কোন দেয়াল ছিলনা । মাঝখানে বড় উঠানের দু’পাশে দুই সম্প্রদায়ের বাস । তাতে এতদিন কারো কোন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি । কিন্তু সেদিন যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল খুব বেশী নিরবতা । যেখানে আমরা নিরবতা, স্থিরতা দিয়ে আমাদের প্রার্থনা সম্পন্ন করি । সেখানে তারা ঢাকের আওয়াজ আর উচ্চকন্ঠের কীর্তন দিয়ে তাদের প্রার্থনা সম্পন্ন করে । কোলাহলশূণ্য রাত্রির গভীরে তাদের কোরাস আরও শব্দবহুল হতে থাকে । এখনো আমার মনে পড়ে সেদিন বড়দের সাথে সাথে আমরাও খুব অপ্রস্তুত হযে পড়েছিলাম উপদ্রুত এমন বিরক্তিতে । শীতল চোখের নিশ্চুপ প্রতিবাদে বিরাজ করেছিল এক থমথমে পরিবেশ ।
এর কয়েকমাস পর কুরবানী ঈদ । আমাদের উঠানেই কুরবানী হয় । অথচ উঠানের অন্য পাশে যাদের বাস তাদের জন্য এটা অসূচী । কুরবানীর আগেই তারা তাদের দরজার খিল এটেঁ দেয় । দিন যত বাড়তে থাকে মাংশ বিষয়ক অনুষদগুলো তত বাড়তে থাকে । সারাদিন আমরা এটা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত আর তারা পুরোটা দিন গৃহবন্দি হয়ে থাকে । এ পাড়ায় অনেক হিন্দু পরিবারের বাস । তাদের প্রত্যেকের একই অবস্থা । তারাও সেদিন খুব অপ্রস্তুত হযে পড়েছিল উপদ্রুত এমন বিভক্তিতে । যথারীতি পরবর্তী কয়েকদিন আবারো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে ।

দুটি ঘটনাই খুব সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও এগুলো নিয়ে পরবর্তীতে কোন শালিসি বা নালিশী কোন কিছুই ঘটেনি ।দু’পড়শীই বিরক্ত ছিল কিন্তু এগুলোকে কেন্দ্র করে কোন তিক্ততা হয়নি, হয়নি কোন হানাহানি অথবা নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোন বিঘ্নতার সৃষ্টি হয়নি । যা কিছু তিক্ত সেটা প্রত্যেকে নিজেদের মধ্যেই সীমাবন্দী করে রেখেছিল। এটা কোন উদারতা নয়, একটি নৈমত্তিক অভ্যাস, একটি লৌকিক শিক্ষা। এ বাসার তৈরী পিঠা তার ঘরে আবার তাদের বাসার তৈরী আচার এ ঘরে । দুপক্ষ মনেও নিয়েছিল, মেনেও নিয়েছিল । এরপর দুই বাসার ছেলেমেয়েরা একসাথে স্কুলে গিয়েছে, একই শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে, বিকেল হলে বৌচি, দড়িলাফ, ডাংগুলি খেলতে খেলতে বড় হয়েছে । তাতে দুপক্ষের ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় নৈতিকতায় অথবা মানবীয়তায় কোন প্রভাব পড়েনি। প্রত্যকের স্বাতন্ত্র্য ঠিক ঠিক রক্ষিত হয়েছে ।


হয়তো এমন উদাহরন আমাদের এই বাংলার প্রত্যন্ত অনেক গ্রামে বা শহরেই আছে । আমি নিশ্চিত আমরা অধিকাংশ সবাই এভাবেই বেড়ে উঠেছি । সেদিন সেই অপরিণত বয়সে একটি পরিণত বোঝাপড়া হয়েছিল আর তা হলো আসলে যারা শেকড়ের পর্যায়ে তারা অনেক শক্তিশালী, যা সকল সময়ের প্রবাহেই খুব গুরুত্বপূর্ণ । আমাদের পারষ্পরিক ভালো মন্দ বিষয়গুলো শেযার করতে পারি কিন্তু চাপিয়ে দিতে পারিনা । তা পারিবারিক বা সামাজিক যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন? কিছু দূর্বল এবং অনুর্বর মস্তিস্কের দূষিত চিন্তায় তলিয়ে যায়না প্রিয় পৃথিবী। ঝড়ো হাওয়ার অস্থির ধূলায় গ্রীষ্ম বর্ষা এক হয়ে গেলেও পৃথিবী তার দারুন শক্তি নিয়ে অখন্ডই থেকে যায় ।

সম্প্রতি সাওতাল প্রসঙ্গে আমার সে বোধ আর শিক্ষার সুতোয় বড্ড টান পড়ছে ...............
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০২
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×