১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষন এবং হত্যা করা হলে একটা কথা উঠে আসে মিডিয়াতে, কথাটি তখনই প্রথম শুনেছিলাম।
আমি সেই বছর এসএসসি পাশ করেছি, টেলিভিশন বলতে বিটিভি তাও আবার ইয়াসমিন সংক্রান্ত কোন খবর নাই ভরসা কেবল সংবাদপত্র, প্রতিটা সংবাদপত্রে শিরনাম ছিল একটাই, "রক্ষক যখন ভক্ষক" !
কথাটি আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেল এবং আসলে বলতে কি মনের মধ্যে গেঁথে গেল, স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবে মাত্র কলেজে গেছি, গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে শহরে আড্ডা মারা শুরু, চোখ কান নাক সহ সব ইন্দ্রিও সজাগ ।
কলেজে গেলে নাকি সবার চোখে রঙ্গীন চশমা উঠে আমার চোখে উঠল মোটা কাচের সাদা চশমা, জানিনা চশমার কারনে নাকি সৃজনশীল চিন্তা ধারার কারনে সেই বয়স থেকেই বিভিন্ন শ্রেণী পেশা, ভিন্ন বয়স, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কত রক্ষককে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতির্ন হতে দেখলাম !
কিন্তু মজার এবং আশ্চর্যের বিষয় সেই সব ভক্ষকের হিরোদের ভূমিকা আমাকে খুব বেশী অবাক করতে পারেনি।
তবে এখনকার একটা বিষয় আমি কিছুতেই মানতে পারছিনা সেটি হল "হেফাযতে ইসলাম" !
হেফাযত কথাটির অর্থ, রক্ষা করা। হেফাযতে ইসলাম অর্থাৎ ইসলাম রক্ষা। একজন পুলিশকে যখন ভক্ষক হতে দেখেছি আশ্চর্য হয়নি, একজন ব্যাবসায়ীকে বা সরকারী চাকুরে অথবা গ্রামের মোড়ল মাতব্বরদের ভক্ষকের ভুমিকাটি আমার কাছে এতটা কষ্ট দেয়নি
কিন্তু একজন আলেম যিনি আমাদের দ্বীনি শিক্ষা দেন তিনি যখন রক্ষার নামে ভাংগেন তখন আমাকে পিড়া দেয় কারন
পবিত্র কোরআন শরীফ এর কোন সুরা বা কোন আয়াত এ কি লিখা আছে, সহীহ হাদিস সমূহতে আমাদের নবী করিম (সাঃ) কি করতে বলেছেন কি নিষেধ করেছেন এটা আমরা না জানলেও তারা জানেন খুব ভাল ভাবেই। তারা জানেন ফিতনা সৃষ্টিকারীর শাস্তি কি, জানেন জনমনে আতংক সৃষ্টি করলে তার শাস্তি কি, উনারা ভালভাবে জানেন মানুষ হত্যা করবার শাস্তি কি, মালের বিনষ্ট করলে আল্লহপাক কখনো কোন অবস্থায় ক্ষমা করবেন না, যতক্ষন পর্যন্ত সেই ক্ষতি গ্রস্থ মানুষটি না তাকে ক্ষমা করেন এটাও তারা ভালোভাবে জানেন, তারা জানেন মানুষকে হুমকি দেয়ার সাজা কি অথবা মুসলমানদের সাথে অমুসলিমের সম্পর্ক কি হওয়া উচিত এটাও তাদের জানার কথা ! রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা ঈমানের অঙ্গ এটাও তারা ভালো জানেন কেননা তারা ছোট থেকেই শিক্ষা গ্রহন করেছেন পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের আলোকে।
একজন আলেমের কাজ হল দিক ভ্রষ্টদের সঠিক পথ দেখান, ইসলাম শান্তির ধর্ম সেই শান্তি যেন সর্বদা বজাই থাকে সেই চেষ্টা করে যাওয়া, সেই শান্তিকে বজাই রাখতে গিয়ে প্রয়োজনে শহীদ হওয়া। কিন্থু আজ যারা ইসলাম রক্ষা করবার নামে ইসলাম বিরধী কাজ করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন,
আমাদের নবীযীকে অপমান করা হয়েছে বলে যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এটা ফিতনা না, হরতাল ডেকে মানুষের জান মালের ক্ষতি করছেন এর মাফ কি আল্লাহ তাবারকতালা করবেন ?
একটা হরতালে আমাদের মত ছোট ব্যাবসায়িদের যে আর্থিক ক্ষতি করছেন এটার জন্য কি আল্লাহ্ আপনাদের মাফ করে দেবেন ?
পবিত্র কোরআন এবং হাদিস শরীফের উপর আপনাদের এত অগাদ জ্ঞান থেকেও আপনারা যদি তা না মানেন তবে এটার শাস্তি কি এটাও আপনাদের ভালো জানার কথা !
পরিশেষে একটা কথা না বলে পারছিনা, আপনারা যা করছেন বা করে বেড়াচ্ছেন তা আসলে হেফাযতে ইসলাম না এটা কেবল হেফাযতে সাঈদী এবং হেফাযতে রাজাকার আর হেফাযতে জামাতীতো বটেই !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






