somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

1/// অবিনাশী এক আলোর কথা

১১ ই জুন, ২০০৬ সকাল ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





পৃথিবীর তাবৎ সৃষ্টি এবং সংকলন-সামঞ্জস্য-রূপায়ণের মাঝে আমরা অনেক বৈচিত্রই লক্ষ্য করি। যা কিছু কালের অনন্ত থেকে বিবেকবানদের বিবেকের সাক্ষী হয়ে আছে, তাতে আমাদের কোন হাত নেই। আল্লাহ্ বলি, কিংবা ঈশ্বর, ভগবান, প্রকৃতি যাই বলি না কেন, এসবই তাঁর সৃজন এবং সংরক্ষণ। এসবকিছু থেকেই উপকৃত বিবেচক-অবিবেচক, প্রাণী-অপ্রাণী নির্বিশেষে সকল সৃষ্টি। হোক ভূগী কিংবা ভুক্তভূগী, সুবিধাপ্রাপ্ত কিংবা সমন্বয়কারী, সবাই। কখনো কখনো মনে-মগজে এই বৈচিত্র, এই বৈশিষ্ট অথবা এই শৃংখলা বোধগম্যতা পায় না, নির্বোধ তখনি বলে উঠে ঃ 'এ এখন অচল, নতুন চাই'। আর জ্ঞানীর চিন্তা তখন ঘুরপাক খায় স্রষ্টার এই সৃষ্টির কল্যাণ-অকল্যাণ, চাওয়া অথবা না চাইতেই পাওয়ার জটিল গাণিতিক রেখা বরাবর। অবশেষে জ্ঞানীর অন্তর আলোকিত হয় স্রষ্টার সৃষ্টির কল্যাণ-জ্যোতি দর্শনে। তখন অবশ্য জ্ঞানপাপী কেউ কেউ খোয়াড়ে বন্দী মোরগের রবে রবে ধ্বনি তোলেন ঃ ধর্মান্ধ, মৌলবাদী; কিংবা স্বদেশী চেতনা(?)য় 'রাজাকার'।

নতুনত্বের নিরন্তর সাধনা আদম-সন্তানের মনের চিরন্তন প্রকৃতি-স্বভাব। আর তাতেই তার মনে প্রেরণা জাগে সৃষ্টির। কিন্তু সৃষ্টি তো হয়েই আছে তার নিজের সৃষ্টিরও বহু পূর্বে। মানুষ যাকে সৃষ্টি বলে তা মূলতঃ সমন্বয়। মানুষ সমন্বয়কারী মাত্র। আর নির্ভরশীল মানুষের পক্ষে স্বনির্ভর সৃষ্টি সম্পাদন তো অসম্ভব। তাই যে সমন্বয়ই সম্পাদিত হোক না কেন মানুষের দ্বারা, তা অবশ্যই পর্যায়ক্রমিক সংশোধনের যোগ্যতা রাখে। পৃথিবীর আবিস্কারের ধারার প্রতি লক্ষ্য করলেই আমরা তার উদাহরণ পেয়ে যাই। একটা আবিস্কারের সংশোধিত অগ্রগতি-উন্নতি আমরা প্রতিনিয়তই পরিলক্ষণ করছি। একটি গ্রন্থ রচিত হলেও পরবর্তী সংস্করণে তার সংশোধিত রূপ পাঠক মাত্রেরই পরিচিত। বিধান- তা জীবনের জন্যই হোক আর দেশ-রাষ্ট্রের জন্যই হোক সে ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তন-সংশোধনের ধারা অব্যাহত-অনিবার্য।

কিন্তু আমাদের জ্ঞান-চিন্তা-উপলব্ধি দ্বারা অনাদি থেকে যে সূর্য-চন্দ্র, আলো-বায়ু, রাত্রি-দিনসহ আরো গুনা-গুন্তিহীন যেসব বস্তু-নিয়ম-শৃংখলা দেখে আসছি, পৃথিবীর ইতিহাসে সময়ের কোন ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের জন্যও তার কোন ব্যতিক্রম দেখেনি পৃথিবীবাসী। জ্ঞানীমাত্রই এর কারণ উপলব্দিতে সক্ষম। স্রষ্টাকে যে যে নামেই ডাকি না কেন, এসব বস্তু-নিয়ম-শৃংখলার সবটুকু নিয়ন্ত্রণ তিনি একমাত্র তাঁরই হাতে রেখেছেন। তিনি এসবের হেফাযত বা সংরক্ষণ করছেন সরাসরি। আর তাই এসবে যেমন নেই কোন সন্দেহ, সংশয় ও ত্রুটি প্রবেশের সম্ভাবনা, তেমনি নেই কোন অনিয়ম বা অবহেলা। অনুরূপভাবে সেই মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের পক্ষ থেকেই পৃথিবীবাসীর জন্য তিনি পাঠিয়েছেন জীবন চলার পরিপূর্ণ একটি বিধান, যার নাম "আল-কুরআন"; যাতেও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আর একথা বলাই বাহুল্য যে, আল-কুরআন পৃথিবীবাসীকে 'ইসলাম'-এর দিকে আহ্বান করে, আল-কুরআনের সত্যিকারের অনুসারী কিংবা অন্ততঃ আল-কুরআনের বিধি-বিধানে বিশ্বাসীরাই পৃথিবীর বুকে ইসলামের অনুসারী বা মুসলিম নামে পরিচিত।

মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন ঃ
অর্থাৎ, "We have, without doubt, sent down the Message; and We will assuredly guard it (from corruption)."
"আমিই কুরআন নাযিল করেছি এবং অবশ্য আমিই তার সংরক্ষক।" [সূরা আল-হিজ্র ঃ 9]

স্রষ্টার এ চিরন্তন বাণীর সামনে পৃথিবীর পাঠক, গবেষক স্তম্ভিত! এমনকি ঔদ্ধত্য অবিবেচকও যেখানেই স্বীয় ধৃষ্টতাক কিঞ্চিত দূরে সরাতে পেরেছে, অমনি এ বাস্তব সত্যকেই অবলোকন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যেখানে রয়েছে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের বাণী, আমাদেরই জন্য- তার সত্যতা, সৌন্দর্য চির-অম্লান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×