পৃথিবীর তাবৎ সৃষ্টি এবং সংকলন-সামঞ্জস্য-রূপায়ণের মাঝে আমরা অনেক বৈচিত্রই লক্ষ্য করি। যা কিছু কালের অনন্ত থেকে বিবেকবানদের বিবেকের সাক্ষী হয়ে আছে, তাতে আমাদের কোন হাত নেই। আল্লাহ্ বলি, কিংবা ঈশ্বর, ভগবান, প্রকৃতি যাই বলি না কেন, এসবই তাঁর সৃজন এবং সংরক্ষণ। এসবকিছু থেকেই উপকৃত বিবেচক-অবিবেচক, প্রাণী-অপ্রাণী নির্বিশেষে সকল সৃষ্টি। হোক ভূগী কিংবা ভুক্তভূগী, সুবিধাপ্রাপ্ত কিংবা সমন্বয়কারী, সবাই। কখনো কখনো মনে-মগজে এই বৈচিত্র, এই বৈশিষ্ট অথবা এই শৃংখলা বোধগম্যতা পায় না, নির্বোধ তখনি বলে উঠে ঃ 'এ এখন অচল, নতুন চাই'। আর জ্ঞানীর চিন্তা তখন ঘুরপাক খায় স্রষ্টার এই সৃষ্টির কল্যাণ-অকল্যাণ, চাওয়া অথবা না চাইতেই পাওয়ার জটিল গাণিতিক রেখা বরাবর। অবশেষে জ্ঞানীর অন্তর আলোকিত হয় স্রষ্টার সৃষ্টির কল্যাণ-জ্যোতি দর্শনে। তখন অবশ্য জ্ঞানপাপী কেউ কেউ খোয়াড়ে বন্দী মোরগের রবে রবে ধ্বনি তোলেন ঃ ধর্মান্ধ, মৌলবাদী; কিংবা স্বদেশী চেতনা(?)য় 'রাজাকার'।
নতুনত্বের নিরন্তর সাধনা আদম-সন্তানের মনের চিরন্তন প্রকৃতি-স্বভাব। আর তাতেই তার মনে প্রেরণা জাগে সৃষ্টির। কিন্তু সৃষ্টি তো হয়েই আছে তার নিজের সৃষ্টিরও বহু পূর্বে। মানুষ যাকে সৃষ্টি বলে তা মূলতঃ সমন্বয়। মানুষ সমন্বয়কারী মাত্র। আর নির্ভরশীল মানুষের পক্ষে স্বনির্ভর সৃষ্টি সম্পাদন তো অসম্ভব। তাই যে সমন্বয়ই সম্পাদিত হোক না কেন মানুষের দ্বারা, তা অবশ্যই পর্যায়ক্রমিক সংশোধনের যোগ্যতা রাখে। পৃথিবীর আবিস্কারের ধারার প্রতি লক্ষ্য করলেই আমরা তার উদাহরণ পেয়ে যাই। একটা আবিস্কারের সংশোধিত অগ্রগতি-উন্নতি আমরা প্রতিনিয়তই পরিলক্ষণ করছি। একটি গ্রন্থ রচিত হলেও পরবর্তী সংস্করণে তার সংশোধিত রূপ পাঠক মাত্রেরই পরিচিত। বিধান- তা জীবনের জন্যই হোক আর দেশ-রাষ্ট্রের জন্যই হোক সে ক্ষেত্রেও এ পরিবর্তন-সংশোধনের ধারা অব্যাহত-অনিবার্য।
কিন্তু আমাদের জ্ঞান-চিন্তা-উপলব্ধি দ্বারা অনাদি থেকে যে সূর্য-চন্দ্র, আলো-বায়ু, রাত্রি-দিনসহ আরো গুনা-গুন্তিহীন যেসব বস্তু-নিয়ম-শৃংখলা দেখে আসছি, পৃথিবীর ইতিহাসে সময়ের কোন ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের জন্যও তার কোন ব্যতিক্রম দেখেনি পৃথিবীবাসী। জ্ঞানীমাত্রই এর কারণ উপলব্দিতে সক্ষম। স্রষ্টাকে যে যে নামেই ডাকি না কেন, এসব বস্তু-নিয়ম-শৃংখলার সবটুকু নিয়ন্ত্রণ তিনি একমাত্র তাঁরই হাতে রেখেছেন। তিনি এসবের হেফাযত বা সংরক্ষণ করছেন সরাসরি। আর তাই এসবে যেমন নেই কোন সন্দেহ, সংশয় ও ত্রুটি প্রবেশের সম্ভাবনা, তেমনি নেই কোন অনিয়ম বা অবহেলা। অনুরূপভাবে সেই মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের পক্ষ থেকেই পৃথিবীবাসীর জন্য তিনি পাঠিয়েছেন জীবন চলার পরিপূর্ণ একটি বিধান, যার নাম "আল-কুরআন"; যাতেও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আর একথা বলাই বাহুল্য যে, আল-কুরআন পৃথিবীবাসীকে 'ইসলাম'-এর দিকে আহ্বান করে, আল-কুরআনের সত্যিকারের অনুসারী কিংবা অন্ততঃ আল-কুরআনের বিধি-বিধানে বিশ্বাসীরাই পৃথিবীর বুকে ইসলামের অনুসারী বা মুসলিম নামে পরিচিত।
মহান আল্লাহ্ তা'আলা বলেন ঃ
অর্থাৎ, "We have, without doubt, sent down the Message; and We will assuredly guard it (from corruption)."
"আমিই কুরআন নাযিল করেছি এবং অবশ্য আমিই তার সংরক্ষক।" [সূরা আল-হিজ্র ঃ 9]
স্রষ্টার এ চিরন্তন বাণীর সামনে পৃথিবীর পাঠক, গবেষক স্তম্ভিত! এমনকি ঔদ্ধত্য অবিবেচকও যেখানেই স্বীয় ধৃষ্টতাক কিঞ্চিত দূরে সরাতে পেরেছে, অমনি এ বাস্তব সত্যকেই অবলোকন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যেখানে রয়েছে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের বাণী, আমাদেরই জন্য- তার সত্যতা, সৌন্দর্য চির-অম্লান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

