somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার নীল রঙের কাকের মাংস খান না

৩০ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা সম্ভবত ২০০৬ সাল।
যতদূর মনে পড়ে এস. এস. সি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় একদিন শুনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে 'সাধারন ছাত্রছাত্রীরা' হামলা করেছে। সারা বাংলোতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সবকিছু তছনছ করে দেয়া হচ্ছে। বিশাল ক্যাওস!

ভার্সিটির কাছাকাছি থাকার কারনে তৎকালীন ভিসি মোসলেউদ্দিনের ব্যাপারে টুকটাক জ্ঞান ছিল। বিএনপিপন্থী এই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত ছিল না ছাত্র-শিক্ষকদের। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য টাইপের যত আকাম-কুকাম ভিসির চেয়ারে বসে করা সম্ভব তার সবই করেছিলেন তিনি।

সুতরাং তার বাড়িতে হামলা একটা দেখার দৃশ্য হবে নিশ্চিত ভেবে বন্ধুরা মিলে রওয়ানা দিলাম। যদিও ভার্সিটির মূল ফটক ছিল বন্ধ, কিন্তু আমাদের আটকায় কে? ঘুর পথে বাংলোর কাছাকাছি গিয়ে রণহুংকার শুনেছি আর দেখেছি উড়ন্ত কালো ধোঁয়া।

ধ্বংস যজ্ঞ কাকে বলে সেদিন বুঝেছিলাম। পরের দিন পত্রিকা-টিভি দেখেও জেনেছিলাম। রীতি মত গাছপালা ভেঙে, আগুন ধরিয়ে, ঘরের ভেতর লুটপাট চালিয়ে, ভিসির বৃদ্ধা মা সহ স্ত্রী,পুত্র,কন্যাদের ছাদে পাঠিয়ে ম্যাসাকারের এক শেষ করা হয়েছিল। নেতৃত্বে অবশ্যই ছিল ছাত্রলীগ, কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই সেটি ছিল সাধারন ছাত্রদের 'আন্দোলন', আমি জানি। আমার পরিচিত নন-পলিটিক্যাল অনেক বড় ভাইই এই সব ভাঙাভাঙিতে সক্রিয় ছিলেন। শোনা যায় ভিসির স্ত্রীর গয়নাগাঁটিও নাকি লুটপাট করা হয়েছিল। সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে এক ভাইয়ের মুখে ফ্রিজে রাখা মিষ্টির প্যাকেট সাবাড় করার গল্প শুনেছিলাম, মনে পড়ে। আরো শুনেছি হুইস্কি,বিয়ারের বোতল মেরে দেওয়ার কাহিনি। এগেইন, সত্য মিথ্যা জানি না।

তবে ধ্বংস যজ্ঞ হয়েছিল, এটুকু নিশ্চিত। ভিসির পরিবার পরিজন ভয়ংকর একটা দিন কাটিয়েছিল এটা নিশ্চিত। তো গতকাল মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কলাম পড়ে বারবার ঐ ঘটনার কথা মনে পড়ছিল। সেই সময়ও তিনি শাবির শিক্ষক ছিলেন, বলাই বাহুল্য। তিনি ঐ ভিসিকে (বা তার পরিবারকে) বাঁচানোর কোন চেষ্টা করেন নি, ভিসিবিরোধী ছাত্রদের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব থাকা সত্ত্বেও। ঐ হামলার প্রতিবাদে কোন কলামও লেখেন নি। তো সেই জাফর স্যার যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রেক্ষাপটে লেখেন-

"একজন ভাইস চ্যান্সেলরকে তার অফিসে দিনের পর দিন আটকে রাখা খুব বড় একটা অন্যায় কাজ।

কিংবা, যখন লেখেন-

"সাধারণ মানুষ যখন দেখে- এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা স্বাধীন দেশের একজন নাগরিককে জেলখানার মতো একটা ঘরে আটকে রেখেছে, তখন তারা নিশ্চয়ই হতবাক হয়ে যায়। সবচেয়ে বিচিত্র ব্যাপার হচ্ছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটার নাম দেওয়া হচ্ছে ‘আন্দোলন’।"

বা, যখন বলেন-

"অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, শাস্তি হবে। কিন্তু আগেই নিজেরা শাস্তি দিয়ে একজনকে তার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হবে সেটি কোন দেশের বিচার?"

অথবা, লেখেন-

"পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা খুব ভয়ঙ্কর উদাহরণ তৈরি হলো। কোনো একজন মানুষকে পছন্দ না হলে, তাকে সরানোর জন্য কয়েকজন কিংবা অনেকজন মানুষ একত্র হয়ে তাকে একটা ঘরে আটকে ফেলতে পারবেন। এর জন্য কাউকে কৈফিয়ত দিতে হবে না।"

তখন খানিকটা হাসি পায় বৈকি :)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:১২
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×