একটু আগে বাস্টার কিটনকে নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, সেটা লিখতে গিয়ে ভাবছিলাম, তার জীবনীর সাথেসাথে কয়েকটা মুভির ছোটোখাটো রিভি্উ দিলে বেশ হতো, কিন্তু খুব একটা সময় করে উঠতে পারছি না। নাই পোস্টের চেয়ে কানা পোস্টই ভালো, তাই বাস্টার কিটনের দুইটা শর্ট কমেডি আরেকটি ফুল লেন্থ ফিচারড মুভির কথাই এইখানে শেয়ার করছি।
তবে ইচ্ছা আছে, তার অমর সৃষ্টি শার্লক জুনিয়র আর দ্যা জেনারাল নিয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দেয়ার।
Cops (1922) :

এটি ১৯২২ সালের মার্চে রিলিজ হয়।এটি একটি শর্ট কমেডি, রানিংটাইম ১৮ মিনিট।এটির পরিচালনা, লেখা আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় সবকটাই করেছেন বাস্টার কিটন।কাহিনীর শুরুতে দেখা যায়, বাস্টার কিটনকে তার প্রেমিকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, আর বলছে যতোক্ষন পর্যন্ত সে একজন সফল ব্যাবসায়ী না হবে ততোক্ষন পর্যন্ত সে তাকে বিয়ে করবে না। এরপর মন খারাপ করে বাস্টার কিটন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে, হঠাৎ দেখে একজন পথচারীর মানিব্যাগ পড়ে আছে, পরে সে কৌশলে তা চুরি করে, এরপর সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ঘটতে থাকে মজার মজার দারুন সব কাহিনী, যার শেষটাও হয় চমৎকার। পুরা সময়টুকুই খুবই হাসির মুহূর্তে পরিপূর্ণ বিশেষ করে শেষের দিকে পুলিশ আর বাস্টার কিটনের সেই দৌড়াদৌড়ির দৃশ্যটা রীতিমতো গড়াগড়ি টাইপ।
উল্লেখ্য এটি ১৯৯৭ সালে National Film Preservation Board, USA কর্তৃক National Film Registry পদক পায়।
ইউটিউব লিংক:
One Week (1920):

এটি বাস্টার কিটনের আরেকটি অনবদ্য শর্ট কমেডি মুভি। ১৯২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এটি রিলিজ পায়।কাহিনীতে দেখা যায়, বাস্টার কিটন আর সিবিল বিয়ে করেছে। কিটনের এক মামার কাছ থেকে তারা একটি বসবাসের জন্য জায়গা এবং একটি পোর্টেবল বাড়ি পায়। ঐ পোর্টেবল বাসাটির সবগুলো পার্ট নাম্বারিং করা, তাদের কাজ হলো নাম্বার অনুযায়ী বাক্সের কাঠগুলোকে বসিয়ে পুরো বাসাটি তৈরি করা, যা বানাতে অ্যাভারেজ প্রায় ৭ দিনের মতো লাগে। এদিকে সিবিলের প্রাক্তন প্রেমিক (যাকে সিবিল প্রত্যাখান করে কিটনকে বিয়ে করেছে), সে এসে শয়তানি করে দুইটি বক্সের নাম্বার উল্টা পাল্টা করে দেয়। আর এরফলে তা ১ সপ্তাহ পর কিম্ভুত কিমাকার শেপের একটি বাড়িতে রূপ নেয়। মাঝে ঘটতে থাকে মজার মজার সব ঘটনা।আর বাস্টার কিটন মানে নিখাঁদ হাস্যরস, তাই বাসাটি তৈরি হওয়ার পরেও আরো চমকপ্রদ কাহিনী ঘটতে থাকে।
এটি) ২০০৮ সালে National Film Preservation Board, USA কর্তৃক National Film Registry পদক পায়।
ইউটিউব লিংক:
পার্ট ১:
পার্ট ২:
Seven Chances (1925):

এটি বাস্টার কিটনের একটি ফুল লেংথ ফিচারড ফিল্ম যা ১৯২৫ সালের ১১ই মার্চ রিলিজ পায়।এটির রানিংলেংথ প্রায় ১ ঘন্টার মতো।দারুন সব কমেডি দেখে পুরা সময়টুকু কোন দিক দিয়ে যে কেটে যাবে আঁচই করতে পারবেন না। আমার কাছে এইটা দারুন উপভোগ্য লেগেছে।মুভিটির ব্যাকগ্রাউন্ডে চমৎকার মিউজিক কম্পোজিশান রয়েছে, আর শুরুর কথাগুলোও চমৎকার, কাহিনীতে দেখা যাবে, বাস্টার কিটন তার প্রেমিকাকে কিছুতেই "আমি তোমাকে ভালোবাসি" কথাটি বলতে পারছে না, মাসের পর মাস কেটে যায় কিন্তু সেই কথাটি আর বলা হয়ে উঠে না, এদিকে বাস্টার কিটন আর তার বন্ধুর ব্যাবসায়িক ফার্মটি বেশ বড়ো পরিমান ব্যাবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে, এখন চটজলদি টাকা না কামালে জেল খাটতে হবে। কিটনের অবস্থা ব্যাপক দিশেহারা, এদিকে কোথ্থেকে এক আইনজীবি এসে তাদের জানায়, কিটনের নানা মৃত্যুর পূর্বে তাকে ৭ মিলিয়ন ডলার দান করে গেছেন। তবে তাতে একটি শর্ত আছে, সেটা হলো, ২৭ বছর পূর্ন হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যেই বাস্টার কিটনকে বিয়ে করতে হবে। উল্লেখ্য ঐদিনই ছিলো তার ২৭ তম জন্মদিন।এইবার শুরু হয় আসল ঘটনা। বাস্টার কিটন ঠিক করে তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে, কিন্তু ঠিকমতো কথা গুছিয়ে না বলতে পেরে ভ্যাঁজাল লাগায় কিটন। তার প্রেমিকা ভাবে শুধুমাত্র টাকার লোভেই হয়তো সে তাকে আজ বিয়ে করছে, ভালোবাসা আসলে কিচ্ছু না। রাগান্বিত হয়ে কিটনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় সে।মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার, এইবার হন্যে হয়ে শুরু হয় বিয়ের মেয়ে খুঁজা, কিন্তু তা পাওয়াটা কি এতোই সহজ? পুরোই পাগলপারা অবস্থা হয়ে যায় কিটনের, এদিকে বিয়ের কনে খুঁজতে সেই আইনজীবি আর তার সেই বন্ধুটিও মাঠে নেমে পড়ে। এভাবে দারুন দারুন সব মজার কাহিনীর ভিতরে সিনেমাটি এগুতে থাকে।
এই মুভিটিকে বাস্টার কিটনের অন্যতম সেরা কাজ ধরা হয়ে থাকে, মুভিটির কিছু কিছু দৃশ্য ভয়ংকর লেভেলের দুর্দান্ত, বিশেষ করে ২০ মিনিটের সেই ধাওয়ার দৃশ্যটি খুবই চমকপ্রদ আর বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে দেখানো হয়েছে।গোটা মুভিটি ভয়াবহ এন্টারটেইনিং এবং কমেডি সিনগুলো ভীষনই ইনোভেটিভ। বাস্টার কিটন কি লেভেলের জিনিয়াস ছিলেন, যারা প্রথম প্রথম তার কাজের সাথে ফেমিলিয়ার হচ্ছেন, আমার ধারনা তাদের সবারই এই মুভিটি দিয়েই শুরু হওয়া উচিত।
মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৮, আমার পার্সোনাল রেটিং ৮.৫/১০। মুভিটি ১৯৬৬ সালে British Film Institute এর কাছ থেকে Sutherland Trophy - Special Mention ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার লাভ করে।
ডাউনলোড লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



