somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ঝলক বাস্টার কিটন

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটু আগে বাস্টার কিটনকে নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম, সেটা লিখতে গিয়ে ভাবছিলাম, তার জীবনীর সাথেসাথে কয়েকটা মুভির ছোটোখাটো রিভি্উ দিলে বেশ হতো, কিন্তু খুব একটা সময় করে উঠতে পারছি না। নাই পোস্টের চেয়ে কানা পোস্টই ভালো, তাই বাস্টার কিটনের দুইটা শর্ট কমেডি আরেকটি ফুল লেন্থ ফিচারড মুভির কথাই এইখানে শেয়ার করছি।

তবে ইচ্ছা আছে, তার অমর সৃষ্টি শার্লক জুনিয়র আর দ্যা জেনারাল নিয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দেয়ার।

Cops (1922) :





এটি ১৯২২ সালের মার্চে রিলিজ হয়।এটি একটি শর্ট কমেডি, রানিংটাইম ১৮ মিনিট।এটির পরিচালনা, লেখা আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় সবকটাই করেছেন বাস্টার কিটন।কাহিনীর শুরুতে দেখা যায়, বাস্টার কিটনকে তার প্রেমিকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, আর বলছে যতোক্ষন পর্যন্ত সে একজন সফল ব্যাবসায়ী না হবে ততোক্ষন পর্যন্ত সে তাকে বিয়ে করবে না। এরপর মন খারাপ করে বাস্টার কিটন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে, হঠাৎ দেখে একজন পথচারীর মানিব্যাগ পড়ে আছে, পরে সে কৌশলে তা চুরি করে, এরপর সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ঘটতে থাকে মজার মজার দারুন সব কাহিনী, যার শেষটাও হয় চমৎকার। পুরা সময়টুকুই খুবই হাসির মুহূর্তে পরিপূর্ণ বিশেষ করে শেষের দিকে পুলিশ আর বাস্টার কিটনের সেই দৌড়াদৌড়ির দৃশ্যটা রীতিমতো গড়াগড়ি টাইপ।

উল্লেখ্য এটি ১৯৯৭ সালে National Film Preservation Board, USA কর্তৃক National Film Registry পদক পায়।

ইউটিউব লিংক:


One Week (1920):



এটি বাস্টার কিটনের আরেকটি অনবদ্য শর্ট কমেডি মুভি। ১৯২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এটি রিলিজ পায়।কাহিনীতে দেখা যায়, বাস্টার কিটন আর সিবিল বিয়ে করেছে। কিটনের এক মামার কাছ থেকে তারা একটি বসবাসের জন্য জায়গা এবং একটি পোর্টেবল বাড়ি পায়। ঐ পোর্টেবল বাসাটির সবগুলো পার্ট নাম্বারিং করা, তাদের কাজ হলো নাম্বার অনুযায়ী বাক্সের কাঠগুলোকে বসিয়ে পুরো বাসাটি তৈরি করা, যা বানাতে অ্যাভারেজ প্রায় ৭ দিনের মতো লাগে। এদিকে সিবিলের প্রাক্তন প্রেমিক (যাকে সিবিল প্রত্যাখান করে কিটনকে বিয়ে করেছে), সে এসে শয়তানি করে দুইটি বক্সের নাম্বার উল্টা পাল্টা করে দেয়। আর এরফলে তা ১ সপ্তাহ পর কিম্ভুত কিমাকার শেপের একটি বাড়িতে রূপ নেয়। মাঝে ঘটতে থাকে মজার মজার সব ঘটনা।আর বাস্টার কিটন মানে নিখাঁদ হাস্যরস, তাই বাসাটি তৈরি হওয়ার পরেও আরো চমকপ্রদ কাহিনী ঘটতে থাকে।

এটি) ২০০৮ সালে National Film Preservation Board, USA কর্তৃক National Film Registry পদক পায়।

ইউটিউব লিংক:

পার্ট ১:

পার্ট ২:



Seven Chances (1925):




এটি বাস্টার কিটনের একটি ফুল লেংথ ফিচারড ফিল্ম যা ১৯২৫ সালের ১১ই মার্চ রিলিজ পায়।এটির রানিংলেংথ প্রায় ১ ঘন্টার মতো।দারুন সব কমেডি দেখে পুরা সময়টুকু কোন দিক দিয়ে যে কেটে যাবে আঁচই করতে পারবেন না। আমার কাছে এইটা দারুন উপভোগ্য লেগেছে।মুভিটির ব্যাকগ্রাউন্ডে চমৎকার মিউজিক কম্পোজিশান রয়েছে, আর শুরুর কথাগুলোও চমৎকার, কাহিনীতে দেখা যাবে, বাস্টার কিটন তার প্রেমিকাকে কিছুতেই "আমি তোমাকে ভালোবাসি" কথাটি বলতে পারছে না, মাসের পর মাস কেটে যায় কিন্তু সেই কথাটি আর বলা হয়ে উঠে না, এদিকে বাস্টার কিটন আর তার বন্ধুর ব্যাবসায়িক ফার্মটি বেশ বড়ো পরিমান ব্যাবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে, এখন চটজলদি টাকা না কামালে জেল খাটতে হবে। কিটনের অবস্থা ব্যাপক দিশেহারা, এদিকে কোথ্থেকে এক আইনজীবি এসে তাদের জানায়, কিটনের নানা মৃত্যুর পূর্বে তাকে ৭ মিলিয়ন ডলার দান করে গেছেন। তবে তাতে একটি শর্ত আছে, সেটা হলো, ২৭ বছর পূর্ন হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যেই বাস্টার কিটনকে বিয়ে করতে হবে। উল্লেখ্য ঐদিনই ছিলো তার ২৭ তম জন্মদিন।এইবার শুরু হয় আসল ঘটনা। বাস্টার কিটন ঠিক করে তার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিবে, কিন্তু ঠিকমতো কথা গুছিয়ে না বলতে পেরে ভ্যাঁজাল লাগায় কিটন। তার প্রেমিকা ভাবে শুধুমাত্র টাকার লোভেই হয়তো সে তাকে আজ বিয়ে করছে, ভালোবাসা আসলে কিচ্ছু না। রাগান্বিত হয়ে কিটনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় সে।মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার, এইবার হন্যে হয়ে শুরু হয় বিয়ের মেয়ে খুঁজা, কিন্তু তা পাওয়াটা কি এতোই সহজ? পুরোই পাগলপারা অবস্থা হয়ে যায় কিটনের, এদিকে বিয়ের কনে খুঁজতে সেই আইনজীবি আর তার সেই বন্ধুটিও মাঠে নেমে পড়ে। এভাবে দারুন দারুন সব মজার কাহিনীর ভিতরে সিনেমাটি এগুতে থাকে।

এই মুভিটিকে বাস্টার কিটনের অন্যতম সেরা কাজ ধরা হয়ে থাকে, মুভিটির কিছু কিছু দৃশ্য ভয়ংকর লেভেলের দুর্দান্ত, বিশেষ করে ২০ মিনিটের সেই ধাওয়ার দৃশ্যটি খুবই চমকপ্রদ আর বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে দেখানো হয়েছে।গোটা মুভিটি ভয়াবহ এন্টারটেইনিং এবং কমেডি সিনগুলো ভীষনই ইনোভেটিভ। বাস্টার কিটন কি লেভেলের জিনিয়াস ছিলেন, যারা প্রথম প্রথম তার কাজের সাথে ফেমিলিয়ার হচ্ছেন, আমার ধারনা তাদের সবারই এই মুভিটি দিয়েই শুরু হওয়া উচিত।

মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৮, আমার পার্সোনাল রেটিং ৮.৫/১০। মুভিটি ১৯৬৬ সালে British Film Institute এর কাছ থেকে Sutherland Trophy - Special Mention ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার লাভ করে।

ডাউনলোড লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৭
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×