somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদূরের ইতিহাস: লাদেন হত্যাকান্ড: ওবামা ও ন্যায় বিচার

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বল। হে ওবামা ! ন্যায়বিচার কে একচোখে না দেখে দুচোখে দেখার চর্চা কর। তৃতীয় নয়ন আলোকিত কর। বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ স্থানগুলোতে বিবেকি ফয়সালা কর। বল। আল্লা তোমাকে এমন একটা অবস্থান দিয়েছেন যাতে অনেক নবীরসূল মহামানবেরা পর্যন্ত্ ঈর্ষান্বিত এই অর্থে যে, তারা ছিল অধিকাংশই স্রেফ্ ন্যায়ের প্রচারক কিন্ত তোমাকে বিশ্বের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ন্যায়দন্ড প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বল। তোমার আদি পূর্বসূরী জেফারসন ওয়াশিংটন লিংকনরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আলোকে যে উদার বিশ্ব ব্যবস্থার কথা পৃথিবীকে শুনিয়েছিলেন তা বাস্ত্ব রুপদানে তোমার সুযোগ এসেছে।
হে শিশুদের সালামকারী ! লাদেন সর্ম্পকে বল, সে অস্ত্র চর্চার ব্যাপারে যত টাইম পার করেছে তার কিঞ্চিৎ টাইম জ্ঞান চর্চাতে নিয়োগ করলে তার একজন সফল বিপ্লবীতে পরিনত হওয়ার সুযোগ ছিল। বল- তার মাঝেমাঝে ভিডিও টেপের মাধ্যমে মিডিয়াতে উপস্থিত হওয়ার চাইতে লেখনির দ্বারা মিডিয়াতে নিজেকে আত্মপ্রকাশ ঘটালে তা হতো আমেরিকার মতলববাজির বিপক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের কার্যকরি পন্থা।
বল। খোদ আমেরিকান বুদ্ধিজীবি নোয়াম চমস্কি সহ বিশ্বের অগনিত বিবেকি কলম আমেরিকার একচোখা পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে যতটুকু না বিশ্ব জনমতে দাগ কাটতে পেরেছে, লাদেন যদি কলম চালাতো তা হতো অধিক কার্যকরি প্রবন্ধ নিবন্ধ। স্মরণ কর, আল্লা কোরানে বলেছে- ইসলাম চর্চা কর হেকমত তথা প্রজ্ঞার সহিত। অথচ লাদেন হঠ্কারিতাকে কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
বল। নব্বয়ের দশকে বিভিন্ন মুজাহিদ গ্রুপ আমেরিকার মদদে সোভিয়েট আগ্রাসনকে বিতাড়িত করে নিজেরাই ক্ষমতার লোভে যখন একে অপরকে উচ্ছেদের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল তখন তালেবান তথা লাদেনরা একটি সশ্রস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে আফগানস্থানের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা দখল করেছিল। তাদের সামনে আফগানকে মানবিক গুনসম্পন্ন দূর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধশালী বিবেক রাষ্ট্রের একটি মডেল হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ এসেছিল। অথচ পরমত সহিষ্ণুতার বদলে তোমরা লাদেন তালিবান সরকার আফগানস্থানের বৌদ্ধদের প্রাচীন পাথরের মূর্তি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলে। মানুষকে গরু খেদানোর মত জোর করে নামাজে নিতে চেষ্টা করলে। নারীসমাজ মানব সমাজকে কোণঠাসা শ্রেনীতে পরিনত করলে। আফগানের স্বাধীন ভূ- খন্ডে বসে আমেরিকার স্বার্থে আঘাতের জন্য তার বিভিন্ন দূতাবাসে হামলার উস্কানি দিতে লাগলে। এতে করে কিছু মেধাবি মুসলিম যুবক উৎসাহিত হয়ে টেকনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার ঘটিয়ে আমেরিকার টাওয়ার ধ্বংশসাধন ঘটালো। বড় শক্তির সাথে লড়াইয়ে এহেন হোম্জিক্যালি আহাম্মকি কৌশল বুমেরাং হয়। তোমাদের সামনে হুদায়বিয়ার সন্ধির জলন্ত্ শিক্ষা ছিল। এহেন আহাম্মকির যা ফল তাই হলো। বিশ্বব্যাপি ইসলাম ও মুসলমানদের সন্দেহের পাত্রে আর সন্ত্রাসির খেতাবে পরিনত করলে। এবং নিজেদের অস্তিত্ব সংটাপন্ন বিপন্ন করলে। বল। আল্লার অস্তিত্ব দেদীপ্যমান!
হে কলমওয়ালা ! স্মরণ কর, লাদেন হত্যার পর ওবামার ভাষণের কথা। সে বলেছিল, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার মধ্যদিয়ে ন্যায় বিচার হয়েছে। বল। হে বারাক ওবামা ! নিজেদের মানুষের অন্যায়ের বিচার না করে অন্য মানুষের অন্যায়ের বিচার করায় কোন সুগভীর সুফলতা নাই। তুমি ওবামাকে স্মরণ করিয়ে দাও যে, ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে যে অপরাধের জন্য নাৎসি অপরাধীদের ফাঁসি হয়েছিল ঠিক একই অপরাধে জর্জ বুশও সমান অপরাধী। সে ক্ষেত্রে লাদেন তো এফবিআই এর গবেষণা মতে স্রেফ সন্দেহভাজন কিংবা ঘটনা সংঘটনকারী!

হে একবিংশের স্পোকস্ম্যান ! স্মরণ কর, লাদেন হত্যার পর সেই ভাষণে ওবামা আরও বলেছিল, আমেরিকা চাইলে যে কোন কাজ সফল ভাবে করা সম্ভব। এই প্রেক্ষিতে ওবামাকে বল, বিবেক দন্ড বহালের কাজটা সফল ভাবে সম্পন্ন করাটাই মানবজীবন স্বার্থকধর্মী কাজ। বল। ব্যয়বহুল নির্বাচন ছাড়, বিবেকদন্ড সুষম কর। আল্ল ন্যায়পরায়ণের আধার।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×