।
ব্যস, এরকম দাওয়াত তো ছাড়া যায় না। ফ্রাংফুট থেকে 6 জনের (আর ও অনেক যাওয়ার কথা ছিল) ক্যাসেল যাত্রা। স্টেশন থেকে সরাসরি ক্রিকেট মাঠে। ওখানে টিটু ভাই আর ভাবী স্বাগত জানালেন। ধীরে ধীরে লোক সমাগম। সাথে গ্রীলের যাবতীয় সামগ্রী ও আসতে লাগলো। এই ফাকে আমরা ব্যাট বলে একটু অনুশীলনে ব্যস্ত। এদিকে পেটের অবসহা খারাপ। ক্ষিদে অবসহা টাইট
। বেশ সকালে রওয়ানা হয়েছি। কিন্তু সেটা তো আর বলা যায় না। টিটু ভাইয়ের ব্যাগ থেকে চিপস আর কোলা দিয়েই আপাতত ভরসা।
ঘন্টা খানিকের মধ্যে সবাই হাজির। প্রায় 20 জন। একদিকে গ্রীলের আয়োজন চলছে। কয়লায় আগুন দেওয়া, আর মাংস হতে সময় লাগে অনেক।তাই সবাই খেলা শুরু করার তাগিদ দিলেন। কথা ছিল ফ্রাংফুট বনাম ক্যাসেল খেলা হবে। কিন্তু লোকজনের স্বল্পতায় সবাই মিলে খেলার সিদ্ধান্ত হলো। প্রতি টিমে 6 জন করে। মোট 12 ওভারের খেলা।
আমাদের টিম ক্যাপেন টিটু ভাই। ব্যাটে, বলে বেশ ভাল। প্রথমেই আমাদের কপালে ফিলিডং। সবাই কম বেশি টাইট বোলিং করে রান যতোটা সম্ভব আয়ত্বে রাখার আপ্রান চেষ্টা করেছে। তারপর ও 12 ওভারে আমাদের ওরা 85 রান তুলে ফেলেছে।ওদের মারমুখী ব্যাটসম্যান ছিলেন সুমন ভাই (এখানকার ব্লগার), সোহাগ ভাই, অভি ও মাহবুব।
রান চেজ করতে ওপেনিংয়ে আমি ও তপন ভাইকে নামানো হয়। 2য় ওভারেই তপন ভাই আউট। টিটু ভাই ও আমি খুব ধীর গতিতে রান সংগ্রহ করছি। যদি ও আমি টিটু ভাইকে হিট করার জন্য বারবার তাগিদ দিতেছি, কিন্তু উনি টেনশন না নিয়ে খেলতে উপদেশ দিচ্ছিলেন। ওদের বোলার আমাদের থেকে অনেক ভালো ছিল। সুমন দাদা, মাহবুব, রনি ভাই বেশ ভাল বল করেন। বলে বেশ ইনসুইং ও হয়। টিটু ভাই 7ম ওভারে আউট। তখন আমাদের রান মাত্র 35। আমরা হেরে যাবো, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। 8ম ওভারে আমি ও সুমন ভাই (মুনসেনে থাকেন) । টিমের অন্যান্য প্লেয়ার যখন বুঝতে পারছে আমরা হেরে যাবো, সবাই যাতে ব্যাট করতে পারে এজন্য আমাকে চলে যাবার জন্য তাগদা দিচ্ছিলো। শুধু ক্যাপ্টেন টিটু ভাই রাজি ছিলেন না।আমাদেরকে টেনশন মুক্ত খেলতে অনুরোধ করলেন। ব্যস , শুরু হলো 4 আর 6
। কোন বলই ডট দেওয়া যাবে না। সুমন ভাই নেমেই হাত খুলে খেলার জন্য বল্লেন। শেষ সময়ে সবাই গ্রীল রেখে খেলার টানটান উত্তেজনায় শরীক হলো। এক রানের জায়গায় 2 রান নিতে হবে। উইকেট টু উইকেট দৌড়ে অবসহা কাহিল
। তখন পর্যন্ত কিছু খাইনি(টিটু ভাইয়ের উপদেশ)। শেষ বলে আমাদের দরকার ছিল এক রান। টিটু ভাই এসে উপদেশ দিলে যে কোন ভাবেই এক রান নিতে হবে যাতে খেলা টাই হয়। আমার ক্ষিদায় তখন মাথা খারাপ। বিকেল প্রায় 4টা বাজে। দিলাম একটা বাউন্ডারি
। টিমের সবাই দৌড়ে এসে সে কি আনন্দো(ক্লোজআপহাসি)। আমার জীবনের সেরা ইনিংসের একটি।
বেশ টায়ার্ড ছিলাম, আর নামাযের জন্য 2য় ম্যাচে খেলিনি।
সন্ধ্যার পর টিটু ভাইয়ের বাসায় চায়ের দাওয়াত (চায়ের সাথে টা ও ছিল, আর আড্ডা)। রাতে সুমন ভাইয়ের কিচেনে রান্না (7 কিলো খাসির মাংস)। সাথে চলছে আড্ড, তাস, কেউ বা ড্রিকস নিয়ে ব্যস্ত। হঠাত করে গান গাওয়ার আয়োজন। সোহাগ ভাইয়ের গানের গলা দারুন। সাথে সুমন ভাইয়ের (ব্লগার) চুটকি।
সবাই যে একেকজন এতো বড় খাদক সেটা খাওয়ার সময় টের পাওয়া গেলো। 7 কিলো খাসি যে কোনদিকে সাবাড় হলো টেরই পেলাম না। খাবারের পর কৌতুকের আসর। রাত প্রায় 12:30। সবাই যাবার তাগদা দিলো। পরের দিনের পার্টি মেনু মাছ (10 কিলো)
।
ফ্যামেলিতে কাজ থাকায় পরের দিন ভোরে আমার ফ্রাংফুট যাত্রা
। সবাই নাকি পরের দিনের পার্টি ও বেশ এনজয় করেছে।
(এই পোষ্টটা সুমন ভাইয়ের করার কথা ছিলো, মাগার উনি মনে হয় খুব ব্যস্ত। আমি নিজে ও খুব ব্যস্ত। থিসিরের শেষ সময়ে যা হয় আর কি। কোম্পানিতে থিসিস করলে একটু তো ঠেলা থাকবেই)।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


