somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেইসব দিনগুলি (নামাযে চুরি)

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিলার উপর বাড়ি। বাড়ি থেকে রাস্তায় নামা খুব সহজ কিন্তু উঠতে গেলে কোমরে ব্যথা। আমাদের এলাকাটা এই রকম। সব বাড়িগুলো টিলার উপরে। বাড়ির চারদিকে বাশ ঝাড়।বাড়ির সীমানা পেরুলেই মসজিদ। গ্রামের মসজিন কিন্তু রক্ষনাবেক্ষন থেকে শুরু করে সবকিছুই দেখতে হতো আমাদের।ফ্যামেলির লোকজন গেলেই একটা জামাত হয়ে যেতো। মসজিদের আবাদটা মোটামোটি আমাদেরই করতে হতো। আযান দেওয়া থেকে শুরু করে মসজিদ পরিষ্কার পর্যন্ত। কড়াকড়ি ছিল প্রচন্ড। কোন অবসহায় জামাত মিছ করা যাবে না। নামায না পড়তে খাবার বন্ধ। বাড়ি থেকে মেইন রাস্তা দিয়ে মসজিদে যেতে 5 মিনিট। অথচ কাটা তারের বেড়ার উপর দিয়ে লাফ দিয়ে গেলে 2 মিনিট। সময়ের সঠিক মুল্য দিতে গিয়ে আমরা সর্টকার্ট রাস্তাটাই বেছে নিতাম। ফলাফল স্বরুপ লুঙ্গি শেষ
শীতের সময়টা ছিল বেশ কষ্টের। পুকুরের ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করা।সব কিছু করা গেলে ও পা ধুতে গিয়ে যতো সমস্যা। তাই চোরাই পথ বেছে নিতাম। অযু করতাম পা ধুয়া ছাড়াই। মাঝে মাঝে মায়ের হাতে ধরা । মা কান মলে দিতো।কিন্তু সাধারন কান মলা খেয়ে কি আর কাজ হতো। আবার কোন কোন সময় অযু না করেই নামায
আছরের নামায ছিল সাধারনত 5:15। আর কার্টুন ছবি হতো 5:30। আছরের নামাযের পর তাসবিহ এবং হাদিস পড়া শেষ হতে হতে কার্টুন যায় যায় অবসহা। সেটা তো কোন ভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না।পারলে নামায অর্ধেক পড়েই দৌড় দেই। কাটর্ুন মিছ করা যাবে না কোনভাবেই। হুজুরকে বলে নামাযের সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হলো কিন্তু গ্রামে দাইমি মুসলি্ল বলে একটা হুযুগ আছে। নামাযের সময় হওয়ার পরও দাইমি মুসলি্লর জন্য অপেক্ষা করতে হতো। শেষ পর্যন্ত সব কয়টা ভাই মিলে একটা ক্যাচাল লাগালাম। আমাদের ফ্যামেলিতেই প্রায় 10 জন মুসলি্ল সব সময় মসজিদে জামাতে নামায পড়ে তাই আমাদের কথাই ফাইনাল। টাইম মতো নামায পড়তে হবে। কারো জন্য অপেক্ষা করা চলবে না। হুজুর ও সব সময় আমাদের পক্ষে থাকতেন। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে সন্ধ্যার চা পর্যন্ত আমাদের বাড়ি থেকে যেতো। আমাদের বিরুদ্ধে গেলে কি হবে উনি ভালো করেই জানতেন। তবে মাঝে মাঝে বেশি কিছু করে ফেল্লে বাসায় নালিশ হতো তখন আমাদের একটু উপর মালিশ হতো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×