শুভ ভাইয়ের সারিন্দার সুর শুনে কোন কোন প্রানী চিড়িয়াখানা থেকে পালাতে পারে সেই সমিক্ষায় চিড়িয়াখানায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলো দোস্ত। টিকিটের দাম 8 ইউরো শুনে একটু মন খারাপ হয়েছিলো। কিন্তু দোস্তের পিড়াপিড়িতে রাগটা চেপেই দেখতে গেলাম। মনে মনে শালারে পারলে কোন একটা হিংস্র জন্তুর খাচায় ঢুকাই।ছুটির 2দিন থেকে একদিন পুরো আউট।

আজব দেশ তাই আজব চিড়িয়াখানা। কিছু হিংস্র প্রানী ছাড়া সবগুলোই কোন রকম খাচার মধ্যে নেই। সবাই ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের ঢাকা চিড়িয়াখানার মতো এতো বড় নয়।কিন্তু খুব বেশি পরিষ্কার(জার্মান বলে কথা)। হাতে গুনে 2টা বাঘ, 2 টা সিংহ।আর কোন হিংস্র প্রানী নেই।সবচে মজার ছিল পেংগুইন,সামুদ্রিক মাছ। সাপ মাত্র 4/5টা। তাও সাইজে ছোট ছোট (ঢাকার চিড়িয়াখানার সাপ অনেক অনেক বড়)। অন্ধকারের প্রানী যেমন-বাদুড়, বিভিন্ন রকমের বানর,আর ও নাম না জানা অনেক প্রানী প্রচুর।আর্টিফিসিয়াল অন্ধকার তৈরী করেই ওদের রাখা হয়েছে। ফ্রামিংগো, ময়ুর, জিরাপ, উঠপাকি,ইমু সব কিছুই ছিলো একদম হাতের নাগালে। কোন রকমের দেয়াল বা তারের বেড়া ছিলো না।এখানে কোন দর্শকই গাছের ডাল, কাঠি দিয়ে পশুগুলোকে গুতো দিচ্ছে না(যা সচরাচর ঢাকাতে দেখা যায়)। সবকিছু দেখে মনে হলো আমাদের দেশের চিড়িয়াখানা অনেক সমৃদ্ধ। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর মানুষের সচেতনার অভাব। বেশ কয়েক বছর আগের একটা ঘটনা। রাজশাহী চিড়িয়াখাতে তখন একটা হায়েনা ছিলো। দুই ভাই একদিন বেড়াতে গিয়েছি। দেখি একটা লোক গাছের ডাল দিয়ে হায়েনার চোখে গুতো দিয়েছে। হায়নাটা কষ্টে চিৎকার করছে। লোকটা হাসতেছে। দু ইভাই একসাথে লোকটাকে এটাক। বেটা তোকে এখন হায়েনার খাচায় ভরে দেবো। মনে হচ্ছিল লোকটাকে ধরে কষে কয়েকটা তাপপড় লাগাই।(খাইয়ালামু)। পরিশেষে, শুভ ভাই, আপনি কোন প্রকারের চিন্তা ছাড়াই এখানে এসে সারিন্দা বাজাতে পারবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৪:২৬