সমুদ্্র দেখতে যাব। আমাদের জি-7 পংগ পাল যাবে। শেষ পর্যন্ত অনেকের ই যাওয়া হল না, আবার অনেকে গেল যার যাবার কথা ছিল না। 3-4 দিনের প্লান।
চাঁটগায়ে গিয়ে আমি কলির বাসায়, বাকিরা আমাদের ই আর এক বন্ধুর বাসায়।রাতের বাসে গিয়ে সকালে পৌছালাম, তাই সবাই ক্লান্ত। আমি আর কলি ঘুরা ঘুরি করলাম, আর বাকী গুলো ঘুমালো। বিকালে বের হলাম সিবিচ দেখতে। আমি এর আগে অনেক বার গিয়েছি, ভাল লাগে নি, তার পর ও যাই একটা জিনিসের লোভে, সিবিচ প্যারালাল যে রাস্তাটা চলে গিয়েছে তার জন্য। অসাধারন একটা রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ীতে যাওয়া ঠিক না, যেতে হয় হেটে। হয় একা , না হয় বন্ধুদের নিয়ে, গলা ছেড়ে গান গেতে গেতে, বা কবিতা আবৃত্তি করতে করতে। দু'পাশে গাছের সারি, তার পর নেমে গেলেই ক্ষেত।নিরব , নিস্তব্দ একটা রাস্তা। ওখানে গিয়ে চাটগায়ের পোলাপান বলল, এটা কোন সমুদ্্র ই না...কক্সবাজার ছাড়া সমুদ্্র কোথায়?
তার পরও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে এলো, আমরা কর্নফুলির পাড়ে বসে আড্ডা মেরে বাসায় ফিরলাম।ঐ জায়গাটা ও দারুন।
পরদিন সকালে কক্সবাজার। গল্প উপন্যাসের সাগর দেখব। যে সাগরের নীল দেখে মানুষ মাতাল হয়ে যায়, কত কবিতা, কত গান তাকে নিয়ে। কিসের রেস্ট, বের হয়ে গেলাম।
হমম বিশাল বটে...তবে খুব টানল না আমায়। সবাই নেমে পরল সমুদ্্র স্নানে। আমাকে ও অনেক জোড়া জোড়ি করল..মিস করছিস কিন্তু, আমার মনে হল না কিছু মিস করছি।তাই সবাই ধরে আমাকে ওদের জুতা বাহক বানিয়ে দিল, ওখানে অনেক বাচ্চারা এই কাজ করে টাকা কামায়, বিনা খরচে জুতা বাহক, আমার কিন্তু লাভ ই হল...।আমি লেগে গেলাম আমার প্রিয় কাজে , মানুষ দেখার কাজ।
কত রকম মানুষ, কাত রকম তার প্রকাশ...হাঠাৎ ধমাকা ধমকির শব্দে ফিরে দেখি এক বাচ্চা ভেবাচেকা হয়ে দাড়িয়ে আছে, আর মানুষটা ধমকাচ্ছে, বেহায়ার মত একটু তাকিয়ে থেকে বুঝলাম, লোকটা বাচ্চাটাকে বেশি টাকা দিচ্ছে, কিন্তু বাচ্চা টা একটু ভেবাচেকা খেয়ে নিতে চাচ্ছে না, এই জন্য লোকটা ধমকাচ্ছে।
এক বয়স্ক লোক সমুদ্্র দেখতে এসেছে, সে কিছুক্ষন হাটা হাটি করে ক্লান্ত হয়ে ছাতার নিচে গিয়ে বসেছে, বসে ই 5 মিনিটের মধ্যে ঘুম।
এখন যৌবন যার প্রেমিকার নাম বালুকায় লিখার তার শ্রেসঠ সময়। এই ক্ষেত্রে মেয়েরা বেশ পিছিয়ে, কোন মেয়েকে এই কাজ টি করতে দেখলাম না, নিজের নাম লিখছে, সব বন্ধুদের নাম লিখছে, সেখানে হয়ত তার পছন্দের মানুষের নামটিও আছে, কিন্তু ছেলেদের মত শুধু তার নামটি লিখছে না।
পানিতে নেমে গোসলের চেয়ে ঝাপটা ঝাপটি ই বেশি করছে সবাই। এটা ই আনন্দ। আমার সমুদ্্র দেখা হল না....তার বিশালতা দেখা হল না, আমার গান গেয়ে উঠতে ইচ্ছে করল না, অভিভূত হওয়া হল না।এর মাঝে শিশির এসে বলে গেল দেখ দিদি, কি সুন্দর, তোর নামতে ইচ্ছে করছে না?সে খুব আবেগী আবেগী কথা বলে গেল, তার উপর নতুন প্রেমে পড়েছে। মানুষ আমাকে অনেক বেশি টানে, মানুষ আরো বেশী সুন্দর মনে হয়, অনেক বৈচিত্রময় মনে হয়। তাই আমি মানুষ দেখি, নানা রংয়ের পোষাক, নানা ঢংয়ের কথা শুনি।
হোটেলে গিয়ে রেস্ট নিয়ে বিকেলে বার্মিজ মার্কেটে ঘুরে আবার ডিিিসশন নেই সমুদ্্র তীরে যাব, অমাবশ্যার রাত, দূর থেকে সমুদ্্র দেখা যায় না, সমু দ্্রতীরে কিছু দোকান খোলা, তাদের বাতির আলো, দেখা যায় শুধু, ভাল লেগে যায় ঐ আলো।হাটতে হাটতে চলে যাই।
ভাটা চলছিল, সবাই যখন শপিং এ ব্যস্ত আমি তখন চলে যাই সমুদ্্রতীর,যাত কাছে যাই তত প্রকট শব্দ, না কোন নীল চোখে পড়ে না আমার,হুট হাট ঢেউয়ে র ভেঙ্গে পড়া মাথা চোখে পড়ে। আর শুধু শব্দ, এই শব্দের টানে আমি হাটতে থাকি, হাটতে থাকি, আমার পা ভিজে যায়, এক সময় হাটু, আমি শব্দের পিছন ছুটছি....হঠাৎ করেই পিছিন থেকে কোরাস চিৎকার শুনতে পাই, শিশির আমার হাত ধরে টানতে থাকে, আমি অবাক হই
কি হয়েছে?
তুই কই যাস?
কোথায় যাব, এই তো একটু পানিতে নামলাম..
তুই হাটুপানিতে দাড়ইয়ে আছিস, আর আমরা ডাকছি, তোর কোন পাত্তা নাই, তুই হাটছিস..।
তো কি হয়েছে?
আমার তখন ও মানে হয়নি এমন কোন ভুল করেছি।
সবাই এক চোট নিল, বুঝতে পারলাম, ভাটায় আমি সবাইকে ছেড়ে বেশ দুর ই যাচ্ছিলাম...সবাই ভয় পেয়েছিল খুব..।
আমি ভয় পাই নি। এখন ও মনে হয় আমাকে সমুদ্্র দেখতে যেতে বললে কোন অমাবশ্যার রাতে ই যাব.।সেই সুর আবার শুনতে চাই..।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

