কর্জন হলের সবচেয়ে বড় লাল দালানের সমানের ঘাস,রাস্তা,তার দেয়াল ,সিড়ি,ফ্লোর, মিলনের কেন্টিন, জাহাঙ্গির মামার দোকানে আড্ডা পিটায়ে যখন 6 বছর কাটায়ে দিলাম, তখন হাতে পেলাম সেই সোনার হরিন, এক টুকরো কাগজ, যা নাকি ছাগলের চামড়া থেকে বানানো হয়েছে(শুনা কথা)এবং যেখানে ছাগলের মাথার জল ছাপ দেয়া। কত বড় কৌতুক সারা জীবনের শ্রমে পাওয়া ছাগলের মাথা, লজ্জা লজ্জা....এই দেখে কে চাকরী দিবে বলেন,
দেশে ভাত জুটল না, তাই দৌড় দিলাম অনেকের স্বপ্নের দেশে। কপাল ভাল এই এক টুকরো কগজ, সথে আরও দুটো কাগজ এর জোরে গ্রেড স্টুডেন্ট হিসেবে আসতে পেরেছি,
আজ আমি এই সময়ের কথা লিখব, যেহেতু আমি স্টুডেন্ট তাই প্রথমে স্টুডেন্ট লাইফ দিয়ে ই শুরু করব....
এখানে নিয়ম হল এসে ই 30 ক্রেডিট কোর্স ওয়ার্ক করতে হবে, তারপর কোয়ালিফাইয়ার, দেন ডক্টরেট রিসার্স শুরু।আমি এখানে এসে যে কোর্স গুলো পড়েছি, একই কোর্স দেশে ও করেছি, কিন্তু পর্থক্য বিশাল।
- ঢাবি ফিজিক্স এ আমদের টিচাররা থিউরি পড়াতো, নো হোম ওয়ার্ক বছর শেষে একটা পরিক্ষা যার 20% প্রবলেম,80%থিউরি।
এখানে বিষয়টা পুরা উলটা। একই কোর্স আমরা এইখানে 4মাসে শেষ করি, টিচার রা থিউরি পড়ায়, সাথে প্রতি সপ্তাহে হোমওয়ার্কথাকে,যার সব ই প্রবলেম। স্যাররা যেন প্রতিযোগীতায় থাকে কে কত কঠিন প্রবলেম দিতে পারে(যেহেতু তারা আমাদের গেইস মাস্টার বানানোর দায়িত্ব নিয়েছে)। যা আমাদের খুব দরকারী।সব পরিক্ষা প্রবলেম বেইস, যে কারনে থিউরি না বুঝে উপায় নেই।এটা আমাদের সবার কাছে অসম্ভব দারুন একটা সিস্টেম মনে হয়। আমার মনে হয়েছে আমি নতুন করে সব পড়ছি, বুঝছি।
ঢা বি র পড়া গুলো ভেস্তেই গেলো। এখন মনে হয় আড্ডা মেরে ভাল ই করেছি,।যে অনুশোচনা ছিল তা আর নেই। আমি জানি না আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর স্যার রা কেন এই ভাবে পড়িয়ে ছেলে মেয়েদের সময় নস্ট করেন।কম করে হলেও 1বছর আমরা সেভ করতে পারি বাইরে এসে,যাদি ঐ ভাবে পড়ে আসতাম। অন্তত এই প্রেসার টা পড়ত না।
- প্রতিটা শিক্ষককে অবশ্যই প্রতি সপ্তাহে ন্যূনতম 1 ঘন্টা স্টুডেন্টদের জন্য রাখতে হবে। এই সময় তারা তাদের কোর্সের স্টুডেন্টদের সাথে প্রবলেম নিয়ে আলোচনা করবে,কোন ছাত্র যদি না ও যায়, তাকে অফিসে বসে থাকতে হবে।যে কোন সময় মেইল করে যোগাযোগ করা যাবে।
আমি এখনও দেশীয় জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারিনি, স্যার দেখলে মনে হয় এখন ও সালাম দিয়ে বসি মনে মনে।দেশে তো এমন আড্ডা মারছি যে ভাইবা বোর্ডে গেলে স্যারদের দেখে মনে হতো এইবার পাইছি তোমারে চান্দু, একটা খুচা দিয়ে কথা বলে তার পর প্রশ,্নআর আমার ও আত্মারাম খাচা ছাড়া, জানি একটু টেরি বেরি হইলে ই গেছি....ঐ ভয় এখন ও যায় নাই।যাদিও এইখানে ভয় পাওয়ার কিছু নাই...তারা ঐসব নিয়ে মাথা ঘামায় না...আমার মনে হয় স্যার স্টুডেন্ট রিলেশন আর একটু ফ্রেন্ডলি করা যায় সহজে ই। তবে এমন টিচার ঢাবি র ফিজিক্স এআছে, আমার দেখা দুই জন। এর সংখ্যা আরো কটু বেশি হওয়া উচিৎ।
আর একটা মজার বিষয়, আমরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এখানে আসি একটু রিসার্স করার আশায়, বা বলতে গেলে তারা আমাদের নিয়ে আসে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে, কিন্তু এই দেশী স্টুডেন্টরা এই সুযোগ নেয়ার বেপারে আগ্রহী না। যে কারনে এই খানের যে কোন স্কুলের ওয়েব সাইটে গিয়ে যদি গ্রেড স্টুডেন্ট লিস্ট দেখেন তবে দেখবেন 50 জনে 8-10 জন এই দেশী।
চলবে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

