somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজেই যখন পন্য-2

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাস ভেগাস ঘুরে ঘুরে আমার বেশ কিছু বিষয় নজর কেড়েছে।তাদের সুরম্য হোটেল বা তাদের এন্টারটেইনমেন্ট গুলো যদি বাদ ও দেই, সেখানে দেখার মতো যে বিষয় টা সবাইকে আগ্রহী করবে তা হলো মানুষ। হারেক রকম, হরেক বয়সী মানুষ।একটা রাস্তা, স্ট্রিপ, তাকে ঘিরে এতো এতো মানুষের আনা গোনাএই রাস্তার বাইরে সাধারন বসতিতে তো কোন ভীর নেই।যত ভীড় সব এখানে এসে থেমে গিয়েছেএটাকে কেন্দ্্র ধরলে পরিধি থেকে মানুষ জন এসে জমা হচ্ছে এই জায়গায়।টানা চার দিন সেই রাস্তায় এমাথা ওমাথা হেটেছি,সন্ধ্যার পর গাড়ি তে করে বের হওয়া বোকামী।সস্তা বাস পাস, 5 ডলারে 24 ঘন্টা।যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে যায় আর পা চলে না তখন বাসে উঠে।গায়ে গায়ে মানুষ, তবু কেউ কারো গায়ে ধাককা লাগে না। সাদা -কালো, এশিয়, ইউরোপিয়ান, এমেরিকান ঝাকে ঝাকে মানুষ। সবাই দল বাধা। কারো পরিবার সাথে, কেউ এসেছে বন্ধুদের সাথে,কেউ বা তার প্রেমিকা বা স্বামীর সাথে।বিভিন্ন হোটেল গুলোতে একা একা ঘুরতে গিয়ে প্রায় ই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে-

বিবাহিত? স্বামীর সাথে এসেছো?
বা লিভ টোগেদার, তোমার পার্টনারের সাথে, ?

টাহলে বেশ কিছু ডিল আছে তাদএর জন্য....ঐ গুলো গছায়ে দিবে।এতো না শুনে বেশ অবাক হয়।মনে করে এই কোন পাগল।এই পাগল ঘুরতে ঘুরতে মানুষ দেখে তা তো বলা যায় না।আর ও সুযোগ পেয়ে যাই যখন এয়ারপোর্ট এ গিয়ে দেখি ফ্লাইট কেনসেল।3দিন লটকায়ে থাকতে হবে ওখানে। হাজার হাজার মানুষ বসে আছে।কত মানুষের সাথে কথা হলো।সবাই ঘুরতে এসেছে।

সেই থুর থুরে বুড়া বুড়ি থেকে নিয়ে 17-18 বছরের বালক বালিকা। কেউবা তাদের বাবা মায়ের সাথে।অনেক কথা হলো, অনেকের সাথে।

এই শহরে এখন যদিও সববয়সী আর রুচির মানুষের কথা চিন্তা করেই হোটেল গুলো বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করে , তার পর পরও এি শহরের মূল আকর্ষন সেই চিরায়ত জুয়া, মদ,আর নারী।

পরিবারের সাথে যারা আসে তাদের কথা বাদ দিয়ে শুধু যদি 18 এর উপর বয়েসী যারা বন্ধু বা প্রেমিকা সাথে নিয়ে এসেছে তাদের কথা ধরি তা হলে বলতে হয়, ষেখানে ছেলে মেয়ে প্রায় অর্ধেক অর্ধেক।এই মেয়ে গুলো এসেছে তাদের বন্ধু, বা প্রেমিকের সাথে।তারাও জানে তারা এখানে কি ধরনের শো দেখবে। এি এডালট শু গুলোতে কতটা নারী প্রদর্শনী হয় তাও তারা জানে। আমার খুব অবাক লাগে, তাদের পার্টনার রা না হয় মেয়েদের এই সব দেখে উত্তেজনা অনুভব করে, কিন্তু মেয়েটা? সে কি অনুভব করে?সে কেন যায়?সে কি তাহলে যায় শিখতে, আর ছেলেটা যায় উপভোগ করতে?মেয়েটা কি নিজেকে সেই ভাবে নিজেকে তৈরী করতে চায়, যেমনটা দেখে তার পার্টনার একই রকম ভাবে উপভোগ করবে?

খুব অবাক হলাম।এতো এতো মেয়ে দেখে একটা বিষয় স্পস্ট হলো, এখনও মেয়েদের নিজেদের পছন্দ অপছন্দ তৈরী হয় নি। বিশেষ করে পার্টনারের প্রতি এই ক্ষেত্রে তাদের তেমন চাহিদা নাই।বা স্বপ্ন নাই বা কল্পনা নাই। এই বিষয়টা তারা তার সঙ্গির উপর ই ছেড়ে দিয়েছে।এখন ও তারা সঙ্গির পছন্দ যেভাবে সেভাবেই সাজাতে পছন্দ করে।কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রে তারা তাদের সঙ্গি কে কিভাবে চায় ,কিরকম দেখতে চায় তা ণিয়ে তাদের কোন ব্যাক্তিগত ধারনা নেই।তাই তার সঙি তার সাথে বসে অন্য মেয়ের শরীর নাচানো দেখে সেও আপ্লুত হয়। এই 50% মেয়ের জন্য সমহায়ে ছেলে প্রদর্শনী আয়োজন হয় না যেমন টা হচ্ছে বাকী 50% ছেলের জন্য।

এই প্রদর্শনী কে যদি বলি নারী পন্য, তবে বলব এই নারী পন্যের ক্রেতার অর্ধেক নারী।যেদিন নারীর ছেলেদের শারীরিক গঠন, উপস্থাপন নারীর কাছে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠবে সেদিন এই নারী পন্যের পাশা পাশি পুরুষরাও পন্য হয়ে উঠবে।

অনেক ছেলেকেই প্রেমিক হয়ে উঠার পর বেশ সাজগুজ করতে দেখা যায়,কারন প্রেমিকা তাকে সেভাবে দেখতে পছন্দ করে, এখনকার ছেলেদের ফ্যাশান হাউজ গুলোও কিন্তু ভাল ব্যাবসা করছে।ছেলেদের কসমেটিকস এর ও কমতি নেই।সেই সব পণ্যের কমার্শিয়ালে ছেলেরা পন্য, নারী উপভোগকারী।

আর ও হবে...........

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:২২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×