somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢিল !

২৫ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



--তা আপনি কোৎ করে বড়শিটা গিলে ফেললেন ?
--ধুর.....ভাইজান ! কোৎ করে গিলে ফেলবো কেন ? একটু খেলিয়ে না নিলে চলে ? ঐ যে দাবা খেলার মতো । আপনি কখনও দাবা খেলেছেন ? আড়াই লাফে ঘোড়ার চাল ! দিয়েছেন কখনও ?
--খেলার কথা আবার আসছে কেন ! বলছিলেন লোভনীয় একটা প্রস্তাবের কথা ....
--আরে সেটাই তো বলছি । খেলাটা তো ওখানেই ।এই যে দাবার যারা গ্রান্ড মাষ্টার, আমাদের নিয়াজ মোর্শেদের কথাই ধরুন , তারা কি সব অপনেন্ট চালই কপ করে গিলে ফেলে ? ফেলেনা । অনেক ভাবে, অপনেন্ট চালটাকে এ্যানালিসিস করে, তারপরে নিজের চালটা দেয় । তেমনি আমারও প্রস্তাবটা এলো । এ জাতীয় প্রস্তাব অনেক ধরনের হয় । ঠিক মতো না বুঝে ধরলে বোকামী হয়ে যাবেনা ? আর এলেই কি ধরতে হবে এমন কোনও কথা আছে ?
-- না তা নেই অবশ্য ।
--তাহলে আমিও প্রথমটাতে ধরিনি ।
-- ঈশশশশশ.... এমন একটা প্রস্তাব আপনি ধরেন নি ! আমার সাথেও কি আপনি ঐ....ঐ
দাবা খেলা শুরু করলেন ?
-- না ...না... আপনার সাথে খেলবো কেন ! খেলছি তো তার সাথে । বললো , দুজনে একান্তে একটা নিরিবিলি জায়গাতে বসে ....
-- আরে এটা একটা কথা হলো ! নিরিবিলি কতো জায়গা-ই তো আছে । তা গেলেন তেমন কোনও জায়গাতে ?
--কি যে বলেন ! নিরিবিলি জায়গাটা এই মেগা সিটিতে কই বলুন তো ? একটু একা একা নিরিবিলি কোথাও বসবেন তেমন জায়গা কি আছে কোথাও ? রাস্তা -মাঠ-ঘাট- উদ্যান-রেস্তোরা সবখানেই তো মানুষ গিজগিজ । নিরিবিলিতে একটু যে প্রস্রাব করবেন তারও উপায় নেই । তার উপর ময়লা আবর্জনা আর সে কি দূর্গন্ধ । আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে ঐ প্রস্রাবের গন্ধটা ! আচ্ছা আপনি কখনও খোলা রাস্তার পাশে দেয়ালের দিকে মুখ করে হিসু করেছেন ?
-- ছি....ছি.... আমাকে কি ভেবেছেন আপনি !
-- না এমনি জানতে চাইছিলাম । আমি মাঝে মাঝে করি কিনা ! সেদিন হয়েছে কি জানেন , আমাদের এই পুরানো ঢাকা থেকে টঙ্গি যাবো একটা কাজে । হিসুর একটু বেগ থাকলেও গাজীপুর চৌরাস্তার বাসটা এসে পড়ায় ঝটপট উঠে পড়লুম বাসে । শিক্ষাভবনের পরে একটু গিয়ে বাস তো আর চলেনা, যা জ্যাম । শাহবাগের কাছে আসতেই তলপেট ফাইট্টা যায় যায় অবস্থা । মমতাজের ঐ গানটা শোনেন নি , বন্ধু আমার হাইট্টা যায় ................ বুকটা আমার ফাইট্টা যায়..... ? আমার ও সেই একই অবস্থা । তো ভিড় ঠেলেঠুলে নামলুম । তারপর তো বুঝতেই পারছেন । সর সর করে ঝেড়ে দিচ্ছি তো এক মহিলা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে মনে হয় গালি দিলো একটা , বেআক্কল ।
-- আপনি একটা শিক্ষিত ছেলে হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হিসু করেন ? তাও আবার হেসে হেসে বলছেন আমাকে ?
--না আপনাকে সিচ্যুয়েশনটা বোঝাচ্ছি । কোনও কিছু অবশ্যম্ভাবী হলে সেটা ঘটতে দেয়াই উচিৎ নইলে বিতিক্চ্ছিরি একটা না একটা কেচাইন হয়ে যেতে পারে । আর শিক্ষিত বললেন ? শেখাটা আর হলো কই, ভাইজান ! তেমন শিক্ষিতও তো হওয়া হলোনা । ইচ্ছে তো ছিলো ডাক্তার -ইঞ্জিনীয়র -জজ- ব্যারিষ্টার হবো । আমার মায়ের স্বপ্নটাও ছিলো তাই । শুধু টেনেটুনে মাষ্টার্স অনার্স ডিগ্রীটা কোনও মতে সারলুম ।
-- কি বলেন ! পাড়ায় আপনার যা কদর । আমিতো ভাবলুম আপনি অনেক শিক্ষিত । চেহারাটাও তো সেই রকম, হিরো হিরো টাইপ । দশবারোটা টিউশানি করে বেড়ান । শুনেছি দুটো তিনটে ব্যাচেও নাকি পড়াতে হয় । কত্তো কত্তো ছাত্রছাত্রী আপনার । আপনার ছাত্রছাত্রীরা তো আপনার অনেক সুনাম করে । আমার কাজিন মেঘনাও তো আপনারই ছাত্রী । খুব প্রশংসা করে আপনার । তবে আমার নিজের বোন যমুনা একদম বদের হাড্ডি । আপনাকে কিন্তু সে একদম পছন্দ করে না । বলে, ধারে কাছে আর তেমন কোনও টিচার নেই বলে আপনার কাছে পড়তে যায় , নইলে ফুঃ..........
-- তা ছাত্রছাত্রীরা তো তাদের টিচারের সুনাম করবেই , এটাই তো স্বাভাবিক । কেউ কেউ তো আবার অন্যকিছুও বলে । বলে, আমি নাকি মেয়েদের মাথা খাচ্ছি ।
-- তা একটু তো ও রকমের গুজব ছড়াতেই পারে । তা আপনি কিন্তু ঐ আসল কথাটাতেই আসছেন না .....
-- কোন কথাটা ?
--ঐ যে কোন নিরিবিলিতে বসার প্রস্তাব ! আমি হলে তো কপ করে গিলে ফেলতুম প্রস্তাবটা ।
-- গিলে ফেলতেন ? কোন নিরিবিলিতে যেতেন আপনি ? এতোক্ষন যাবৎ একটাও তেমন জায়গার খবর দিতে পারলেন না । কেবল চন্দ্রিমা উদ্যান , বোটানিক্যাল গার্ডেন ঐসব সস্তা জায়গার কথা বললেন । আপনি হলে কি আপনার তাকে নিয়ে ওসব জায়গায় যেতেন ?
--কি যে বলেন ! ওসব জায়গায় কি তেমন কাউকে নিয়ে যাওয়া যায় ? যা বিশ্রী সব লোকজন ঘুরঘুর করতে থাকে চারপাশে ।
-- তা হলেই বুঝুন, এসব জায়গায় কি তাকে নিয়ে যাওয়া সাজে ? বড় লোকের মেয়ে । আমাকে কিনতে পারে দিনে দশবার । তাকে নিয়ে কি ওসব যায়গায় যাওয়া যায় ?
-- বড়লোকের মেয়ে ? আরে ব্রাদার, তবে তো আপনার হোটেল সোনারগাঁ, রেডিসন, লা-মেরিডিয়ানে যাওয়া উচিত ।
-- এইতো , আপনি আমার সমস্যাটাই বুঝতে চাইছেন না সেই তখন থেকে ! মহল্লায় টিউশানি করে খেতে হয়। মারা যাবার আগে জেলা জর্জকোর্টের কেরানী বাপ তো টাকার বস্তা রেখে যায়নি যে আমি আপনার ঐ রেডিসন, লা-মেরিডিয়ান করে বেড়াই ।
-- তা মেয়েটি দেখতে কেমন ? বড় লোকের মেয়েরা নাকি সুন্দরী হয় শুনেছি । তাদের আবার বায়নাক্কাও থাকে অনেক ।
-- এইতো পয়েন্টে এসেছেন এতোক্ষন পরে । বায়নাক্কার কথা তুললেন । আচ্ছা বলেন তো, ব্রান্ডেড খাবার দাবার বলতে আছে কি কোথাও ?
--ব্রান্ডেড খাবার ! ভাইজানের কি মাথা খারাপ হয়েছে ? ব্রান্ডেড জামা-কাপড়, জুতো -ঘড়ি-কলম এই রকম কিছু হয় শুনেছি কিন্তু.............
-- হুমমমম , শোনেন নি । ব্রান্ডেড খাবারও হয় । ম্যাকডোনাল্ড’স , পিজ্জা হাট, কেএফসি এসব নাম শোনেন নি ? কিন্তু তিনি খেতে চান খাস দেশী ব্রান্ডেড খাবার । এই যেমন মামার হালিম . ফখরুদ্দিনের আর হাজির বিরানী, মুসতাকিনের চাপ, বউ-জামাই চানাচুর। আপনি কি মামার হালিম খেয়েছেন কোনো দিন ?
---আমাদের বাসায় ওসব বাজে খাবার আসেই না । আমরাও বাইরে ওসব খাইনা ।
----- তাহলে বুঝুন, ঐ সব কি কোনও শখ করে খাওয়ার মতো খাবার হলো ? কিন্তু সেটা তাকে কে বোঝাবে ? ঐ যে সদরঘাটের মতি মিয়ার হালিমও নিশ্চয়ই কখনও খাননি । না কি খেয়েছেন ? খেলে বুঝতেন মামার হালিমও ওর কাছে নস্যি । মতির হালিমের সোয়াদ জিহ্বায় লেগে থাকবে ঝাড়া তিন দিন । অথচ মতি মিয়ার হালিমে ব্রান্ড সীল নেই । বললুম, মতির দোকানের মহিলা কেবিন যেমন নিরিবিলি তেমনি মতির হালিম হলো এক নম্বর । একবার খেলে তিন তিনে নয় দিন আমার কথা মনে করবে । এমন প্রস্তাব শুনে সে তো নাক সিঁটকে অস্থির....
---- তা নাক সিঁটকোবে না ? বড়লোকের মেয়ে আর আপনি কিনা তাকে সদরঘাটের কোন মতি মিয়ার হালিম খাওয়াতে চান । আপনাকে তো স্মার্ট ভেবেছিলুম কিন্তু আপনি দেখি গেঁয়োই রয়ে গেলেন ।
----- তা ঠিক বলেছেন । গ্রামের ছেলে তো, তাই এখন শহরে এসে একটু শহুরে হতে চেষ্টা করছি আর কি ! অতশত কি আর বুঝি ? এই আপনাদের মতোন ...............
--- আপনি কিন্তু কথা ঘোরাচ্ছেন ।
---আমি আবার কথা আর ঘোরালুম কই ? এসেছিলুম আপনার কাছ থেকে একটা সাজেশান নিতে অথচ আপনি ভালো কোনও একটা সাজেশান দিতে পারলেন না এখনও ।
----- কতোই তো দিলুম । কিন্তু আপনিই তো সবটা বাতিল করে দিলেন ! এটা হবেনা, ওটা হবেনা করে করে !
----আচ্ছা বাসে করে মাওয়া ফেরী ঘাটে যাওয়া যায়না ? ওখানে পদ্মার ব্যান্ডেড ইলিশ মাছ খাওয়া যাবে । আর একটা লং ড্রাইভও হয়ে যাবে ?
---- বলেছিনা আপনি এখনও গেঁয়োই রয়ে গেলেন ! তেমন কাউকে নিয়ে বাসে করে মাওয়া যাবেন ? যা রাস্তার শ্রী আর জ্যাম তাতে আপনার জীবনের হাওয়া ফুঁস হয়ে যাবে । মাওয়া যেতে কতোক্ষন লাগে জানেন ? এখান থেকে ঝাড়া দুই ঘন্টা । ঐ সময়ে ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর করা যায় !
----আরে ভাইজান , ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর যাবার পয়সা পকেটে থাকলে তো ওখানেই যেতাম । কি কপাল নিয়ে যে এসেছি !
---- তাহলে ....তাহলে ..... দাঁড়ান একটু ভেবে নেই । আপনাকে বলা যাবে কিনা জায়গাটার কথা ! অনেকেই ওখানে যায় শুনেছি । সিকিওরড জায়গা নাকি ......
--- কোন জায়গা ?
----- লিটনের ফ্লাট । আপনাদের মতো ছেলেমেয়ের জন্যে নাকি নিরাপদ জায়গা । অনেকেই নাকি ওখানে যায় শুনেছি ......
----ওয়াও ! এই তো .. এই এতোক্ষন পরে একটা জোস আইডিয়া দিলেন । আমিও শুনেছি । শুধু আপনার কাছ থেকে গ্রীন সিগন্যালটা পাওয়া বাকী ছিলো । আপনি চা টা শেষ করেন আমি যাই, যমুনার সাথে ডেট এ্যান্ড প্লেসটা ফাইনাল করে আসি ....................
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:০৪
৫৩টি মন্তব্য ৫৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী থেকে বাংলাদেশ, মুক্তির কন্টকিত পথে (তেইশ জুন স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫



বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;

অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যার্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!

তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহুরে ফোকলোর

লিখেছেন কিবরিয়া জাহিদ মামুন, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (তৃতীয় তথা শেষ পর্ব)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৪ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪



মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ১)
মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)


ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে একটা লম্বা হাটা দিতে হবে। অবশ্য চাইলে মেট্রোও (আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন) ব্যবহার করা যায়, কারন ডে-ট্রাভেল কার্ড এমনিতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিণয়

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১০


আদরণীয়, কোথায় দিলে ডুব?
পানকৌড়ি যেমন অন্ন অন্বেষণে—
সরোবরজল তলে
তুমিও কী ঠিক তেমন কারণে?
চোখের আড়ালে থেকে রহিলে নিশ্চুপ…
বলো কোথায় দিলে ডুব?

চলছিলো ভালই প্রিয়ংবদা বলছিলে মধুকথা
কাটছিলো সময় মধুময়
গাড়ি চালনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×