উৎসর্গ
---------
আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে। যার বই পড়ে মজা পাই। উপন্যাসটি তার নামে উৎসর্গ করে মনের সাথে কাগজে-কলমে তাকে প্রিয় করে নিয়েছি। আমাদের মত পাঠকদের মাথা খেয়েছে সে। প্রতিবছর অমর একুশে বই মেলায় তার যে কয়টি বই বের হয় তা নিজের পকেটে টাকা না থাকলেও ধার করে কিনে পড়তে হয়। একবার বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করে তার বই কিনে বিপদে পড়ি।
বাবা জিজ্ঞাসা করলো, ‘পকেট থেকে টাকা চুরি করেছিস?’
উত্তরঃ ‘জ্বি।’
বাবাঃ ‘কেন?’
উত্তরঃ ‘হুমায়ূন স্যারের বই কিনতে।’
তার নাম শুনে বললো, ‘সে তোদের কোন সাবজেক্ট পড়ায়।’
বললাম, ‘কোন সাবজেক্ট পড়ায় না।’
বাবাঃ ‘তাহলে ওই বেটার বই কেন?’
বললাম, ‘জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য।’ ওমনেই গালে কষে চড়।
বাবাঃ ‘কাজ রেখে অকাজ। তোর আর বই কিনতে হবে না। বই লাগলে আমি কিনে দিব।’
আমার বাবার মতে পাঠ্য বই ছাড়া অন্য বই অকাজের। চড় খেয়েও স্যারের বই কিনে যাচ্ছি। স্যার বেঁচে থাকলে একদিন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেত। ‘পায়ের নিচে খড়ম’ পড়ে সে রকমই মনে হলো। মাঝে মাঝে স্যারের নামে মামলা করতে মন চায়। কারণ তার হিমু সিরিজের বইগুলো অনেককে হিমু বানিয়েছে। সে নিজেও হিমু চরিত্রের মত। হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুতে খুব কষ্ট পেয়েছি। সে যত দিন বেঁচে থাকতো বাংলা সাহিত্যে নতুন আঙ্গিকের বই আসতো। মানুষ বেশি বেশি বই পড়তো। অমর একুশের মেলার জৌলুস বাড়তো। উপন্যাসটি তার মৃত্যুর আগেই উৎসর্গকৃত। আমার দুঃখ, মৃত্যুর আগে তার হাতে উপন্যাসটির একটা কপি তুলে দিতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


