somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গিয়াস উদ্দিন লিটন
সবাই যখন নীরব, আমি একা চীৎকার করি n-আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি।

আমার পোলা, বিজ্ঞানের ঝোলা!! =p~ =p~

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



- আব্বু , মামা বানান করতে পারি।
- কর ?
- ক আকার মা , চ আকার মা = মামা ।
শুনে আমি মূর্ছিত ।
অভিনব বানান রীতির প্রচলন কারী এই জ্ঞান তাপস আমার পুত্র , বয়স ৫ এর আসে পাশে । সবে প্লেতে ভর্তি হয়েছে । সারাদিন জ্ঞানের চর্চার মধ্যে আছে ।
প্রতিদিন ২/১ টা অক্ষর শিখছে ,পৃথিবীর জ্ঞানের দরজা তার জন্যে একটু একটু করে ফাঁক হচ্ছে । এই আনন্দটা সে ধরার চেষ্টা করছে । এই আনন্দ আমার মাঝেও সংক্রামিত হচ্ছে ।

জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি তার দিনের একটা বৃহৎ অংশ কাটে , ব্যবহারিক বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কারের নেশায় ।
সেদিন বাসায় গিয়ে দেখি মন খারাপ করে খাটে বসে আছে । ব্যাপার কি জিজ্ঞেস করায় বলল , আম্মু বকেছে ।
আরো বিশদে গিয়ে জানা গেল---
খাটের উপর থেকে ফুটবল নিক্ষেপ করে কিভাবে টিভির সুইচ অন অফ করা যায় এই আবিস্কারে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল, মাঝখান থেকে গ্লাসটা ভেঙ্গে সবকিছু বরবাদ হয়ে গেল । তার আম্মু শব্দ শুনে কিচেন থেকে এসে দেখে এই কাণ্ড । তার পর-------
সান্ত্বনা দিয়ে বললাম , বাবারে , সব আবিস্কারকদের আবিষ্কারই সমসাময়িক জনগণ ভাল ভাবে নেয় নি । তাদেরকে প্রায়ই বকা ঝকা আর মাইর ধরের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে , আমিও জনগনের বাইরে নই , তাই রিমোট থাকার পরও ফুটবল নিক্ষেপ করে টিভি সুইচ অন অফ করতে হবে কেন, তা আমারও মাথায় ঢুকছেনা ।
পুত্রের চেহারা দেখে বুঝলাম আমার মূর্খতার প্রমান পেয়ে সে বড়ই নিরানন্দ বোধ করছে । (অনেক আগের একটি পোস্টের অংশ বিশেষ)


আমার পুত্র এখন অনেক বড়। এক’এ পাশ করে এবার ফাইভে উঠেছে।জ্ঞান তৃষা আর অজানাকে জানার আগ্রহ তার আরো বেড়েছে। একসময় পিতার মুর্খতা তার নিরানন্দের কারণ হলেও এখন পিতার কর্মে সে বড়ই প্রসন্ন বোধ করছে।
কারণ পিতা তার হাতে তুলে দিয়েছে ‘বিজ্ঞান বাক্স’।এ এক যাদুর বাক্স। অবসর পেলেই বসে পড়ছে এটা নিয়ে।নিজে নিজে ম্যানুয়েল পড়ছে আর নিজেই কি সব পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে হেঁসে কুটি কুটি হচ্ছে।

সকালে বেশ কুয়াশা,বাহিরে অনেকটা অন্ধকার।নাস্তা সেরে গিন্নি সহ কম্বল মুড়ি দিয়ে পড়ে আছি। পাশের রুম থেকে উচ্চস্বরে হাসির শব্দে দুজনেই ছুটে গেলাম।দেখি পুত্র তখনো হাঁসছে আর সামনে কি একটা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে।আমাদের দেখে বলল, আব্বু মোটর বানাইছি—
সুইচ অফ করে আমাদের দেখালো। আমি তাজ্জব! সামান্য কিছু তামার তার, একটা চুম্বক এর সাথে ব্যাটারী কানেকশন দেয়া।এটা কিভাবে ঘুরছে আমার নিজেরই মাথায় ধরছে না।

পুত্র বলল- আব্বু আরো অনেক মজার জিনিস আছে। দেখ আমি কি ভাবে ব্যাটারি ছাড়া এই মোটর দিয়ে লাইট জ্বালাই।
সে আরেক বিস্ময় ! মোটরের দুই তারে বাল্বের কানেকশান দিয়ে মোটরটা হাত দিয়ে ঘুরালেই লাইট জ্বলছে !!!

পাশে বসলাম। বিজ্ঞান বক্সটি আমার দেখার সুযোগ হয়নি। এখন দেখলাম, শিক্ষার সাথে আনন্দ জুড়ে দিয়ে শিশুদের জন্য এ এক অসাধারণ শিক্ষা উপকরন। যা শিশুদের চিন্তার জগতকে প্রসারিত করবে।
আমাকে পাশে পেয়ে পুত্র খলবল করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বর্ননা দেয়া শুরু করলো। কোনটা দিয়ে কি করা যায়। দেখলাম সেখানে ২০ টা এক্সপেরিমেন্টের যন্ত্রপাতি দেয়া আছে।অনেক গুলির পরিক্ষা পুত্র চালিয়ে ফেলেছে। অনেক গুলি সম্পর্কে আমারও ধারনা ছিল, বইএ পড়েছি। কিন্তু নিজে করে দেখার সুযোগ হয়নি।

এই ভেবে ভাল লাগলো – মোবাইল গেম,ট্যাব,কার্টুন ফেলে আমার পুত্র এখন বিজ্ঞানের নানা এক্সপেরিমেন্ট হাতে কলমে করে দেখার আনন্দটা পাচ্ছে।আর আমি পাচ্ছি আমার পুত্রের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখার আনন্দ।
ধন্যবাদ ‘বিজ্ঞান বাক্স’।


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:০০
৪৮টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×