somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর কয়েকজন মুসলিম নারী শাসক (নারী দিবসের পোস্ট)

০৮ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট বেলায় সাবার রানী বিলকিস বলে একজনের নাম শুনেছি।নামটা মুসলিম ধাঁচের হওয়ায় ধারনা ছিল ইনি কোন মুসলিম মহিলা শাসক ছিলেন। পরে জেনেছি ইনি হজরত সুলেমান (আ) এর সমসাময়িক একজন ভিনধর্মি শাসক ছিলেন। একটু বড় হয়ে মুসলিম নারী শাসক হিসেবে শুনেছি, সুলতানা রাজিয়া আর চাঁদ সুলতানার নাম। বুঝ জ্ঞান হওয়ার পর শুনেছি বা দেখেছি,বেনজীর ভুট্ট্রো, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা বা ইন্দোনেশিয়ার সূকর্নপুত্রীর নাম।
সাম্প্রতিক এক গ্রন্থ পাঠে জানতে পারি রাসুল (সা) এর পরবর্তি সময় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন মুসলিম নারী শাসক ছিলেন যারা রাজ্য বা দেশ শাসন করেছেন।আজকে নারী দিবস উপলক্ষে, সেই গ্রন্থ থেকে এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের অল্প কয়েকজনে এখানে উপস্থাপন করলাম-

১/ বেনজীর ভুট্টো, পাকিস্তান (১৯৮৮-১৯৯০,১৯৯৩-১৯৯৬)



১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক কর্তৃক তার পিতা ভুট্টোকে একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ডে দোষী সাব্যস্ত করে ফাসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যার পর তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে পা রাখেন। জিয়াউল সরকার তাকে বহুবার অন্তরীণ করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে তিনি লন্ডন চলে যান ও ১৯৮৬ সালে দেশে ফেরত আসেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে বেনজীর ভুট্টো জনমত গঠন করেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আগস্ট ৬, ১৯৯০ সালে তিনি বরখাস্ত হন। ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন ও দ্বিতীয়বারের মত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বর তাকে পুণরায় বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে তিনি হেরে যান। সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১৯৯৯ সালে বেনজির ও তার স্বামী আসিফ আলী জারদারিকে পাঁচ বছরের জেল ও ৮৬ লাখ ডলার জরিমানা করে পাকিস্তানের একটি আদালত। পরে উচ্চ আদালত এই রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে রায় দেয়। আট বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে ২০০৭ এর অক্টোবরে বেনজির পাকিস্তানে প্রত্যাবর্তন করেন। বেনজীর ভুট্টো বিশ্বের প্রথম কোন রাষ্ট্র প্রধান যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের মা হন।
২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে সভাস্থল ত্যাগ করার পর গাড়ীতে আরোহনের পর মুহূর্তে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন বেনজীর ভুট্টো।

২/খালেদা জিয়া (১৯৯১-১৯৯৬,২০০১-২০০৬)



১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

৩/ তানসু সিলার, তুরস্ক (১৯৯৩-১৯৯৬)



তুরস্কের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী তানসু সিলার। ১৯৪৬ সালের ২৪ মে রাজধানী ইস্তাম্বুলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ এই নারী ১৯৯৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ’৯৬ সাল পর্যন্ত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে এমএস ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এ ছাড়া কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

৪/ শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (১৯৯৬-২০০১, ২০০৮-)



বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির কন্যা এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এবং ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে তার নিজ দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল বিজয় লাভ করলে তিনি টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

৫/ নুরিয়া আবদুল্লাহি হারারি, ইথিওপিয়া
২০০০ সালে নুরিয়া আবদুল্লাহি হারারি, ইথিওপিয়ায় এক মাসের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

৬/ মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী , ইন্দোনেশিয়া (২০০১-২০০৪)



ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিবিদ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি, যিনি জুলাই ২০০১ থেকে অক্টোবর ২০, ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার পর প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি এবং ইন্দোনেশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী নেতা।
ইন্দোনেশিয়ার প্রজাতান্ত্রিক পার্টির (পিডিআই) চেয়ারম্যান তিনি। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে পিডিআই মাত্র ১৫% ভোট পায়। ১৯৯৩ সালে মেঘবতী পিডিআইয়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে আধুনিক মুসলিম সমাজ, সামরিক কর্মকর্তা ও যুব সম্পদায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তিনি আত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ৭ জুন, ১৯৯৯ তারিখের নির্বাচনে পিডিআই ৩৪% ভোট পায়। ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারা ক্ষমতা দখল করে। ইন্দোনেশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী ৫০০ সংসদ সদস্য ও ২০০ মনোনীত সরকারি কর্মকর্তা ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসে আবদুর রহমান ওয়াহিদকে রাষ্ট্রপতি ও মেঘবতীকে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়।
২৩ জুলাই, ২০০১ তারিখে আবদুর রহমান ওয়াহিদকে দুর্নীতি ও অযোগ্যতার দায়ে সংসদের সর্বসম্মতিক্রমে বরখাস্ত করা হয়।[১] এবং মেঘবতীকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। মেঘবতী ইন্দোনেশিয়ার প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি।

৭/ রোজা ওতানবায়েভা, কিরগিজস্তান ২০১০)
দাঙ্গায় সাবেক প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভকে উৎখাতের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রোজা ওতানবায়েভা। পরবর্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

৮/ সৈয়দা আনোয়ারা তৈমুর,আসাম



ভারতের একমাত্র মুসলিম মহিলা মূখ্যমন্ত্রী । ১৯৩৬ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন ।
১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ১৯৮১ সালের জুন মাস পর্যন্ত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৯৭২, ১৯৭৮, ১৯৮৩ এবং ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক পদে নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে রাজ্যসভার সদস্যও ছিলেন তিনি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি ভারতীয় হজ কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন। ২০১১ সালে সৈয়দা কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দেন সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে। বর্তমানে পুত্রের সাথে অস্ট্রেলিয়া বসবাস করেন। ২০১৮ ২০১৮ সালের নাগরিকপঞ্জিতে আসামের অধিবাসী ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দা আনোয়ারা তৈমুরের নাম না উঠায় রাজ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

৯/ আতিফেতে জাহজাগা: কসোভা



কসোভোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আতিফিতে জাহজাগা। তিনি ১৯৭৫ সালের ২০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ৭ এপ্রিল ২০১১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ শপথ গ্রহণ করেন তিনি। কসোভোর প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। বলকান অঞ্চলেরও প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের তালিকায় নিজের নাম লেখান তিনি। কসোভোর প্রিস্টিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক পাস করেন তিনি। এরপর যুক্তরাজ্য ও জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ সায়েন্স ও অপরাধবিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নেন।

১০/ মামে মাদিওর বোয়ে:সেনেগাল



সেনেগালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মামে মাদিওর বোয়ে। ২০০১ মার্চ থেকে ২০০২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দেশটির প্রখ্যাত আইনজীবী হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। আইন নিয়ে তিনি সেনেগালের রাজধানী ডাকার ও ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পড়াশোনা করেন। ১৯৪০ সালে আফ্রিকার দেশ সেনেগালের সেন্ট লুইসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১১/ আমিনাতা তৌরে: সেনেগাল



সেনেগালের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী আমিনাতা তৌরে। ২০১২ সালে তিনি সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নারী অধিকার রক্ষায় কাজের জন্য ভূয়সী প্রশংসিত হন।
২০১৩ সালে আবদুল মাবায়িকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে অ্যালায়েন্স ফর দ্য রিপাবলিকের (এপিআর) প্রধান ৫১ বছর বয়সী তৌরেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেনেগাল, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তৌরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের হয়ে কাজও করেছিলেন তিনি।

১২/ সিসে মরিয়ম কাইদামা সিদিবি: মালি


আফ্রিকার দেশ মালির মুসলিম নারী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিদিবি নামে পরিচিত। শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া এ অধ্যাপক মালির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ২০১১ সালে। তিনি ২০১২ সালে মালির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতিপরায়ণ দেশ মালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতি দমনে ভূমিকা রেখেছেন সিদিবি।

১৩. আমিনা গারিব ফাকিম: মরিশাস



ভারত মহাসাগরের দ্বীপ মরিশাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট খ্যাতিমান জীববিজ্ঞানী আমিনা গারিব ফাকিম। চলতি জুনে মরিসাসের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ৫৬ বছর বয়সী আমিনা। আমিনা বর্তমানে মরিশাসের ফিজিওথেরাপি গবেষণা সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারে ও ইউনিভার্সিটি অব এক্সটার থেকে পড়শোনা করা আমিনা মরিশাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগেরও চেয়ারপারসন। এ ছাড়া আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপদে কাজ করেছেন তিনি।

১৪/ কারাজান (৭৭৪- )
ইনি ছিলেন বর্তমান ফ্রান্স ও স্পেনের সিমান্তবর্তি একটি রাজ্যে কারকাসোন নারবেন এর অস্থায়ী শাসনকর্তা।
স্বামী বাদশাহ বেলাল আল বাবেল যুদ্ধ বিগ্রহে গেলে কারাজান বাদশার হয়ে রাজ্য পরিচালনা করতেন।

১৫/ রাজ প্রতিভূ কেনজা (৭৯৩-৮২৩)
কেনজার স্বামী ছিলেন ইদ্রিসিয় ডাইনাস্টির প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ প্রথম ইদ্রিস। যিনি হজরত আলী (রাঃ) এর পুত্র হজরত হাসান (রাঃ)এর প্রপৌত্র ছিলেন। এই ডাইনাস্টির অবস্থান ছিল বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার মরক্কোতে। বাদশাহ প্রথম ইদ্রিসের মৃত্যুর পর নাবালক পুত্র দ্বিতীয় ইদ্রিসের হয়ে কেনজা রাজ্য পরিচালনা করতেন।

১৬/ সামাদিন রাজ্যের খেতাব প্রাপ্ত সম্রাজ্ঞী (৯৭৬-৯৯৭)
মধ্য এশিয়া এবং খোরাসানের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ে পারস্যের সামাদিন সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। রাজধানী বোখারা। বাদশাহ প্রথম মনসুরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নূহ ইবনে মনসুর পিতার উত্তরাধিকারী হন।
তিনি নাবালক ছিলেন বিধায় তার মাতা খেতাব প্রাপ্ত সম্রাজ্ঞী হিসাবে শাসন কায পরিচালনা করেন। প্রখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ও দার্শনিক ইবনে সিনা কিছুকাল বাদশাহ নূহ ইবনে মনসুর এর চিকিৎসক ছিলেন।

১৭/ কর্ডোভার সম্রাজ্ঞী মালিকা কুরতুবা সাবিহা (৯৭৬-৯৯৭)
ইনি খলিফা ৩য় আব্দুর রহমানের স্ত্রী। জীবনের শেষ দিকে রাজ্যের শাসন ভার সম্রাজ্ঞী মালিকা কুরতুবা সাবিহার হাতে ছেড়ে দিয়ে খলিফা আব্দুর রহমান ধর্মিয় কাজে আত্মনিয়োগ করেন। মৃত্যুর পুর্বে ১০ বছর বয়সী পুত্র হিসামকে তিনি রাজ্যের উত্তরাধিকারী নিয়োজিত করেন। পুত্র হিসাম সাবালক হওয়া পর্যন্ত সম্রাজ্ঞী সাবিহা রাজ্য পরিচালনা করেন।

১৮/ খানম সাঈদা (৯৯৭-১০০৭) কিরমান, পারস্য
পারস্যের কয়েকটি প্রদেশ নিয়ে কিরমান রাজ্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। ৯৯৭ সালে রাজ্যের আমির ফখরুউদ্দৌলার মৃত্যুর পর তার নাবালক পুত্র মাজেদ উদ্দৌলার কাছে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলে রাজমাতা খানম সাঈদা পুত্রের হয়ে ১০০৭ সাল পর্যন্ত রাজ্য পরিচালনা করেন।

১৯/ মিসরের রাজপ্রতিভু নায়েবউস সালতানাত সিত আল মূলক।
মিশরের সুলতান ইমাম আল হাকিম বিন আমরুল্যাহর রহস্যজনক অন্তর্ধানের চল্লিশ দিন পর তার পুত্র আল জহির ইবনে আল হাকিমকে ইমাম ও খলিফা ঘোষণা করা হয়। নাবালক খলিফার রাজ প্রতিভূ হয়ে ১০২১ সাল থেকে ১০২৪ সাল পর্যন্ত সিত আল মূলক রাজ্য পরিচালনা করেন।

২০/ হুররেম সুলতান উসমানীয় তুর্কি ( আনু. ১৫০২ – ১৫ এপ্রিল ১৫৫৮)



রোক্সেলানা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন উসমানীয় সম্রাট প্রথম সুলাইমানের প্রিয়তম উপপত্নী ও পরবর্তীকালে তার বৈধ স্ত্রী এবং সম্রাটের সন্তান শাহজাদা মুহাম্মদ, মিরহিমাহ সুলতান, শাহজাদা আবদুল্লাহ, সুলতান দ্বিতীয় সেলিম, শাহজাদা বায়েজিদ এবং শাহজাদা জাহাঙ্গীরের মাতা। তিনি ছিলেন উসমানীয় ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে একজন এবং নারীদের সালতানাত নামে পরিচিত শাসনকালের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব। হুররেম সুলতানের হাত ধরেই উসমানীয় সাম্রাজ্যে সর্বপ্রথম নারীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তার স্বামী প্রথম সুলায়মানের শাসনকালে তিনি সুলতানের প্রধান স্ত্রী বা "হাসেকি সুলতান" ছিলেন। তিনি তার স্বামীর মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জন করে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
সুলায়মান হুররেম সুলতানকে অটোম্যান সম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী বানিয়েছিলেন আর তার সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন। অটোম্যানের ইতিহাসে অন্য কোন সুলতানের স্ত্রীকে এই মর্যাদা দেয়া হয় নি। এমনকি সুলতান সুলেমান দরবারে সভায় হুররেমকে তার পাশে বসাতেন এবং সভায় যেকোন বিষয়ে হুররামের পরামর্শ নিতেন। এমনকি কোন অফিসিয়াল কাগজে সুলতানের পাশাপাশি সম্রাজ্ঞী হুররেম সুলতানেরও স্বাক্ষর আর সিল লাগতো।



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৪৮
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

@এপিটাফ

লিখেছেন , ১৭ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:১২

@এপিটাফ


সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে কষ্টের ডিঙি বেয়ে সমুদ্দুর,
তোমার থেকে দূরে গিয়ে পরখ করবো মমত্ব কতদূর !

আজ নির্ঘুম রাত্রিতে পাহারা দেয় দীর্ঘশ্বাসের নোনাজল,
এই বুকের ভিটায় আদিম নৃত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বন্ধুত্ব

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৭ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:০৮




মাঝরাতে হঠাৎ চায়ের তেষ্টা-
তখন বন্ধু আমার বেঘোরে ঘুমাচ্ছে,
-আমিঃ বন্ধু খুব চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে
-বন্ধুঃ কিন্তু রুমেতো চা-পাতা চিনি কিছুই নেই।

বন্ধু চোখ মুছতে মুছতে ঘুম থেকে উঠে বলে
-চল ষ্টেশনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৭ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮



১ম পর্বের লিঙ্কview this link


আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো নগরী দেখেছি, তার মধ্যে প্যারিসকে মনে হয়েছে সবচেয়ে রুপবতী। সত্যিকারের প্রেমে পরার মতোই একটা নগরী। ভেবে দেখলাম, এতোটা সাদামাটা আর ম্যাড়মেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোষ্ট

লিখেছেন জুন, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

সামুতে এখন ৩৯ জন ব্লগার। কতদিন, কতদিন পর এত লোকজন দেখে কি যে ভালোলাগছে বলার নয় :)

...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬



কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !
একদিন যে, এই পথে হেটেছি অনেক,
দেখেছি কিছু ঘর-বাড়ী, বাগান-সড়ক,
ঝুলে থাকা বারান্দার গরাদে তিথীর ব্রা
কিছু কায়া , কিছু ছায়া সবই ছাড়া ছাড়া,
বেওয়ারিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×