somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর কেনা হয় নাই। বেচে থাকলে আগামী বর্ষার আগে একটা ছাতা কিনবো। সারা বছর ছাতার গুরুত্ব বুঝতে পারি না। বৃষ্টি এলেই ছাতা যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা অনুভব করি। তখনই মনে হয়, ছাতা কেনার দরকার ছিলো। বৃষ্টি শেষ ছাতার কথা পুরোপুরি ভুলে যাই। একদম ভুলে যাই। ঢাকা শহরে পনের মিনিট বৃষ্টি হলে, অনেক এলাকা হাঁটু সমান পানি জমে যায়, জন্মের পর থেকে এমনটাই দেখে আসছি। ড্রেনের পানি, বৃষ্টির পানি মিলেমিশে একাকার! ডাস্টবিনের ময়লা ভাসে।

গত বছর ছাতাটা ভেঙে যায়!
রাত তখন একটা। কি প্রচন্ড বৃষ্টি সেদিন! আর কি বাতাস! বাতাসে ছাত উল্টে যায়। ছাতা ধরে রাখা কষ্টকর। যেন আমাকে সহ উড়িয়ে নিয়ে যাবে। সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছি। বাসায় ফিরবো। অনেকেই বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। মিরপুর দশ থেকে। রাত সাড়ে এগারোটার পর বাস পাওয়া যায় না। তার উপর বৃষ্টির রাত! একটা সিএনজি এলে লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দুইশ' টাকার ভাড়া তিন থেকে চারশ টাকা নিচ্ছে। ভাঙ্গা ছাতা হাতে নিয়ে আমি দাড়িয়ে আছি। ভিজে কাক হয়েছি। সারারাত দাঁড়িয়ে থাকলেও হুড়োহুড়ি করে সিএনজি নিতে পারিব না। আমি ভাই ধীরে-সুস্থে চলাচল করা মানুষ।

মেয়ের জন্য আপেল কিনেছি।
রাত দেড়টা বেজে গেছে! কখন বাসায় ফিরবো? খাবো। ঘুমাবো। আবার ভোরে বাসা থেকে বের হতে হবে। অন্তত ছয় ঘন্টা না ঘুমালে পরের দিন কাজ করতে পারবো না। শরীর ম্যাজ ম্যাজ করবে। আফসোস মেয়ের সাথে দেখা হবে না। বাসায় গিয়ে দেখব, মেয়ে ঘুমাচ্ছে। আবার সকালে যখন বাসা থেকে বের হবো, তখনও মেয়ে ঘুমে থাকবে। কিন্তু কন্যা ঘুম থেকে উঠে আপেল দেখে খুশি হবে। কেন যে মেয়েটা এত আপেল পছন্দ করে! আমার পছন্দ সাদা ভাত। ভাতের সাথে লাল শাক ভাজি। ইলিশ মাছ ভাজা। দেশি মূরগী। গরুর মাংস। আসলে গরম ভাতের সাথে সবকিছুই ভালো লাগে।

কলিংবেলের শব্দ শুনে সুরভি ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলবে।
খাবার গরম করবে। এত রাতে খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু বেজায় খিদে পেয়েছে। সন্ধ্যায়ও চা নাস্তা খাওয়া হয়নি। খেতে বসে সুরভির সাথে টুকটাক কথা হয়। বুয়া বলেছে, এক হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। পাশের বাসার সেলিনা আপার ডির্ভোস হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহে মেয়েকে নিয়ে বাবুল্যান্ড যেতে হবে। ছোট খালার মেয়ের বিয়ে যেতেই হবে। ঘুমে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। সুরভি আরো কিসব বলে যাচ্ছে! প্লেটের ভাত শেষ না করেই উঠে যাই। এখন ঘুম বেশি প্রয়োজন। মাঝে মাঝে মনে হয়, ঘুমের চেয়ে শান্তি আর কিছুতে নেই। শরীর এবং মন দুটাই একসাথে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সমস্যা।

মাঝে মাঝে মনে হয়, ঈশ্বর আমাদের নিয়ে খেলছেন।
উনি দুনিয়া বানাইছেন। দুনিয়াতে মানুষ পাঠাইছেন। এখন মানুষে মানুষে লড়াই হচ্ছে। ছলচাতুরী, ঠগ, প্রতারণা, ধোকা, মিথ্যারবেসাতি। মানুষের দুঃখ- কষ্ট, হাহাকার দেখে ঈশ্বর কি মজা পান! পৃথিবীতে মানুষের অবদান তো কম নয়! ঈশ্বর তো পৃথিবীটা সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে দেননি। মানুষ পৃথিবীটা সাজিয়ে। ঘর বাড়ি অট্রালিকা, কলকারখানা, রাস্তা ঘাড়, উড়োজাহাজ, স্টিমার, কম্পিউটার, মোবাইল এগুলো সব মানুষ করেছে। মানুষ তো দুনিয়াতে এসে সবকিছু রেডিমেড পায়নি। মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম আছে পৃথিবীতে। ফেরেশতা, জ্বীন এরা মানুষের জন্য কিছু করেনি। রুপকথার দুনিয়া থেকে মানুষ বের হতে পেরেছে।

বৃষ্টির দিনে আমার নীলার কথা মনে পড়ে!
কোনো এক বৃষ্টির দিনেই নীলার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো। সেদিন এমনই সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমার ইচ্ছা করছে, আজ নীলার কাছে যাই। নীলার কোলে মাথা রেখে ঘুমাই। আদর নিই। আদর দেই। দুজনে চায়ের মগ হাতে নিয়ে ব্যলকনিতে বসে থাকি। জীবনান্দের কবিতা শুনাই- ''আমি যদি বনহংস হতাম,/বনহংসী হতে যদি তুমি;/ কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে/ ধানক্ষেতের কাছে''। নীলা যখন রান্না করবে, আমি তার পাশে বসে থাকিব। চোখের আড়াল হতে দিবো না। আজ আমি নীলার কাছে যাবো। যাবোই। দেরী হোক, যায়নি সময়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×