somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। জেলখানার জিন্দেগী ।।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জেলখানায় যাওয়ার পর আমি ব্যাভাছ্যাকা খাইয়া বইয়া রইছি ওয়ার্ডে। বইয়া বইয়া আমার অসুস্থ মা আর ছোট তিন বোনের কথা ভাবতেছিলাম। এমন সময় আছরের নামাজের আজান দেয় গুটি ( ইয়াবা) মামলার আসামি করিম হুজুর। আযান শুইনা ওয়ার্ডের লোকজন যারা নামাজ পড়ে তারা বাথরুমের দিকে যাচ্ছে অযু করার জন্য। আর যারা নামাজ পড়ে না তারা হয় ওয়ার্ডে চুপচাপ বইয়া থাকে নইলে নিচে বারান্দায় আইসা বইয়া থাকে। নইলে সিগারেট বিড়ি ফুঁকে ফুঁকে আড্ডামারে।

আমি নিচের দিকে নামতে যাচ্ছিলাম। এমন সময় মোঃ শামসুল আলম আমাকে বলল, চৌধুরী সাব নামাজ পড়বেন না? আমি কইলাম, না আমি নামাজ পড়বো না। শামসুল আলম আবার জিগাইলো, ক্যা? আমি কইলাম, ভাই আমার মন নামাজ পড়তে চাচ্ছে না এখন। মন চাইলে নামাজ পড়তাম। শামসুল আলম কইলো, মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন। আমি কইলাম, ভাই আমি মনের বিরুদ্ধে জিহাদ প্রত্যেকদিনই করি বাট জিহাদে মন জিতে যায় বারবার আর আমি হেরে যায়। এইবার শামসুল আলম আমার হাতটা ধইরা কয়, ভাইরে জেলখানায় আছি আমরা। আল্লাহ ছাড়াতো আর কেহ নাই। আল্লাহ'রে না ডাকিলে জামিন হইবে কেমনে? আমি কইলাম, ভাই জামিন হইবে কেমনে- এইডা জানি না তবে একটা কথা জানি আল্লাহ আমারে খুবই ভালোবাসেন। তাই আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন আমার জামিন হইয়া যাইবে। আমি উইঠা নিচের দিকে হাঁটা দিলাম।

দেখি আমার লগে লগে শামসুল আলমও আসতাছে। আমি কইলাম, ভাই আপনি নামাজ পইড়া আসেন। আমি নিচে আছি। শামসুল আলম কয়, ভাই আপনারে আইজ একটা কথা কইবো। আমি কইলাম নামাজ পইড়া বইলেন। শামসুল আলম কয়, নামাজ পরে পড়বো। আগে কথা শুনেন। আমি কইলাম, চলেন।

বারান্দায় আমি আর শামসুল আলম। সিগারেট ফুঁকতাছি। শামসুল আলম কয়, ভাই বিশ্বাস করবেন কি না জানিনা। আমি মাত্র দেড় হাজার টাকা দিয়া গুটি ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আইজ আমার কক্সবাজারে বাড়ি আছে, টেকনাফে বাড়ি আছে। বউ আছে দুইটা। একটা কক্সবাজার আরেকটা আমার পুরান বাড়ি টেকনাফে থাকে। আমার মেয়েরে আমি কক্সবাজার থেকে বিমানে করে ঢাকায় আনি ঈদের শপিং কইরা দিতে। আমি কিন্তু ইংরেজি পড়তে জানি না। আমার মাইয়া নাইনে পড়ে সে সব পড়তে পারে। আমার মাইয়া'ই টিকেটের ইংরেজি পইড়া আমারে দেখাইয়া দে বিমান কোনটা।

জায়গা কিনছি দুইকানি। ধার দেনা ছিলো প্রায় আড়াই লাখ তাও শোধ করছি। অস্ত্র কিনছি দুইটা। একদিন মা আইসা কয়, তোর এখন এতো টাকা! আল্লাহ যদি আমার হজ্বটা নসিবে রাখতো! মা'রে কইলাম, মা আমারে একটা মাস সময় দাও আমি হজ্বের টাকা জোগাড় করি।

পরের সাপ্তাহে এক লাখ গুটি নিয়া আল্লাহর নামে রাওনা দিলাম টেকনাফ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে। মনে মনে নিয়ত করলাম এই গুটি বেইচ্ছা যা টাকা পাবো তার সবটুকু আমার মা'র হজ্বের জন্য ব্যয় করবো। আমার সাথে আরো চারজন ছিলো। তারও গুটি ব্যবসায়ী। আমরা পাঁচজন পাঁচ গাড়িতে উঠলাম। কিন্তু কি আল্লাহর রহমত চাইরজনই ধরা খাইছে। কিন্তু আমি ধরা খাইনাই। অথচ আমার গোটা গাড়ির সবাইকে চেক করলো আমারে চেক করে নাই। আমারে চেক করতে গেছিলো এমন সময় পেছন থেকে একটা ট্রাক এসে ধাক্কা মারে গাড়িতে। এবং এইডা লইয়া ট্রাক ড্রাইভার আর বাস ড্রাইভারের লগে লাইগলো ক্যাচাল আর ক্যাচাল থামাইতে পুলিশ ব্যস্ত হইয়া নাইমা গেলো। আর আমি পার পাইয়া গেলাম।

আল্লাহ'রে না ডাকলে কোনদিন কামিয়াব হওয়া যাবে না। আপনি চুরি করেন ডাকাতি করেন গুটি বেঁচেন সমস্যা নাই কিন্তু নামাজ না পড়লে সমস্যা আছে। নামাজই হইলো সব। যার নামাজ নাই তার জন্য বেহেস্তও নাই। বুঝলেন ভাই? আমি কইলাম, বাঙলায়তো কইলেন না বুইঝা উপায় আছে!

আইচ্ছা ভাই, আপনার মা'কে হজ্ব করাইছিলেন?
শামসুল আলম কয়, হ্যাঁ আমার মা'কে হজ্ব করাইছি।

শামসুল আলম দুই হাজার গুটি লই ধরা খাইছে আকবর শাহ থানায়। এখন সে কর্ণফুলী চার নং ওয়ার্ডে প্রায় এগারো মাস ধরে হাজত কাটছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:২০
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×