somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। জেলখানার জিন্দেগী।।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জেলখানায় হাজতিদের লগে দুইভাবে দেখা করা যায় ।

এক। সরকারি ভাবে ।
দুই । ভিআইপি মর্যাদায় ।

সরকারি ভাবে দেখা করতে হলে আপনাকে সকাল আট টা থেকে বিকাল পাঁচটার আগে স্লিপ কাটতে হবে । কার সাথে দেখা করতে চান তার নাম তার বাবার নাম সে কোন ওয়ার্ডে থাকে- এই তথ্য গুলো দিয়ে । এইটা বিনামূল্যে হলেও কিছু টাকা দিতে হয় যারা স্লিপ লেখে তাদেরকে ।

স্লিপ কাটার পর আপনি একটা ঘরের ভিতরে অপেক্ষা করবেন । স্লিপ ভিতরে চলে গেলে ওয়ার্ড থেকে সেই লোকটিকে ডেকে আনা হবে আপনি যার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান । সে এসে খাঁচার ভেতর থেকে আপনার সাথে কথা বলবে আর আপনি খাঁচার বাইর থেকে কথা বলবেন । অনেক লোকজন থাকে বেশ চিল্লায় চিল্লায় কথা বলতে হয় । অনেক ভিড় থাকে । একজন কি বলছে আরেকজন তা অনেক সময় শুনতেও পায় না । বেশ কয়েকবার চিল্লায় চিল্লায় বলতে হয় ।

ভিআইপি ভাবে দেখা করতে হলে আপনাকে সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটার আগে ভিআইপি স্লিপ কাটতে হবে । কার সাথে দেখা করতে চান তার নাম তার বাবার নাম সে কোন ওয়ার্ডে থাকে- এই তথ্য গুলো দিয়ে । এই জন্য আপনার থেকে তেরশো টাকা দিতে হবে ।

স্লিপ কাটার পর আপনি বাইরে অপেক্ষ করবেন । স্লিপ ভিতরে চলে গেলে ওয়ার্ড থেকে সেই লোকটিকে ডেকে আনা হবে আপনি যার সাথে দেখা করতে চান । তারপর আপনাকে ভিতরে ঢুকানো হবে । ঢুকানোর পর আপনার হাতে একটা সিল দিয়ে দিবে । এই সিল হচ্ছে চিহ্ন । আপনি দেখা করতে এসেছেন । আর যার সাথে দেখা করতে এসেছেন তার হাতে একটা কলম দিয়ে একজন সাইন করে দিবে । সাইনের এর প্রমাণ হইলো এই লোক হাজতি । তারপর আপনারা সামনা সামনি মুখোমুখি হয়ে কথা বলতে পারবেন বিশ মিনিট । বিশ মিনিট শেষে সিল মারা লোকটিকে বের করে দিবে আর সাইন দেওয়া লোকটিকে ভিতরে ঢুকিয়ে দিবে ।

দেখা করতে এসে অনেকেই হাজতিদের টাকা দেয় । ভিআইপি ভাবে দেখা করতে এসে টাকা দিলে হাজতিকে ভিতরে ঢুকলেই একশো টাকা দিয়ে দিতে হবে জেলখানার জমাদারকে । নইলে সে সব টাকা নিয়ে ফেলবে চেক করে । এই চেক মানে পাছার জোরা পর্যন্ত চেক করে । টাকা একশো দিয়ে দিলে কতো টাকা দিলো তা আর দেখে না । আর যে আপনাকে ডেকে আনছে তাকে দিতে হবে পঞ্চাশ টাকা ।

আর যদি সরকারি ভাবে দেখা করতে এসে টাকা দেয় তাইলে হাজারে একশো টাকা করে দিয়ে দিতে হবে ।

জেলখানায় ক্যাশ টাকা অবৈধ । কিন্তু ক্যাশ টাকা ছাড়া জেলখানায় চলায় যায় না ! কি অদ্ভুদ না !

জেলখানায় কারো সাথে দেখা করতে আসলে অবশ্যই হাতে মিনিমাম তিন ঘণ্টার সময় নিয়ে আসবেন । কারণ এইখানে নিয়মের তোয়াক্কা সব সময় ঠিক থাকে না । একেক সময় একেক রকম হই যায় !

জেলখানায় কারো সাথে কেউ দেখা করতে আসলে তাকে বলা হয় "দেখা আসছে" । কোন হাজতি যদি একবার দেখা করতে যায় কারো সাথে সেটা সরকারি হোক আর ভিআইপি হোক হাজতিকে অবশ্যই ওয়ার্ডের একজন চেয়ারম্যান আছে যার কাজ হচ্ছে টয়লেট আর ওয়ার্ড পরিস্কার রাখা এবং পানি টানা । তাকে এক বান্ডিল বিড়ি দিয়ে দিতে হবে এবং সেইদিনের লক আপ দিতে হবে পঞ্চাশ টাকা । দেখা করতে এসে হাজতিকে টাকা দিক আর না দিক । বিড়ি আর লক আপের পঞ্চাশটাকা হাজতিকে দিয়ে দিতেই হবে ।

দিতে না পারলে হাজতি বুঝে মাইর নইলে মা বোন তুইলা গালি ! লক আপ মানে হইলো সকালে ওয়ার্ডের দরজা খুইলা দেওয়া আর বিকালে দরজা বাইন্ধা দেওয়া । জেলখানার একজন মিয়াসাব এই কাজটা করেন । তাকে দৈনিক পঞ্চাশটাকা করে দিয়ে দিতে হয় । এইটাকেই বলে লক আপ দেওয়া । মেট এই টাকাটা যারা দেখা করতে যায় মানে যাদের লগে দেখা করতে লোক আসে তাদের থেকে নিয়ে দে ।

তাই যারা হাজতিদের সাথে দেখা করতে যাবেন তারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন হাজতিদের হাতে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে আসতে । হাজতিরাও দেখা করতে যায় কিছু টাকা পয়সা আর মামলার অগ্রগতি জানার আশায় ।

জেলখানার জিন্দেগী বড়ই নির্মম এবং নির্দয় । টাকা আছেতো ভালো টাকা নাইতো কষ্ট কষ্ট এবং অবর্ননীয় কষ্ট !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×