somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের অসমাপ্ত গল্প পড়ি ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটি ছাত্রলীগ করতো । একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে । ছাত্রলীগে তার একটা পদও ছিলো । দলবাজির চাইতে চেতনা আর আদর্শবাজির উপর জোরটা বেশি ছিলো । দলকে ব্যবহার করে ফায়দা নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে লেখালেখিও করতো । ছেলেটা ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা কায়েমে নিজের মেধা মনন বোধশক্তি দিয়ে রাজনীতি করতো ।

একদিন তার দলের এক প্রভাবশালী নেতার ইশারায় তাকে তার রুমে খুন করে রশিতে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয় । পুলিশকে দিয়ে বলিয়ে নেওয়া হয় , ছেলেটা আত্মহত্যা করেছে । কিন্তু ছেলেটার মা পুলিশের এই বক্তব্য তাৎক্ষনিক প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করে, তার আদরের ছেলে চেতনা এবং আদর্শের রাজনীতি করে বলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করেছে ।

লাশ ময়না তদন্তের পর ডাক্তার রিপোর্ট দেয়, ছেলেটা আত্মহত্যা করেছে । কিন্তু ছেলেটার মা ডাক্তারের এই ময়না তদন্তকে ময়লা তদন্ত বলে তাৎক্ষনিক প্রত্যাখ্যান করে আদালতের আশ্রয় নিয়ে পুনঃ ময়না তদন্ত দাবী করে ।

পুনঃতদন্তে বলা হয় , ছেলেটাকে হত্যা করা হয়েছে ।

যার ইশারায় ছেলেটাকে খুন করা হয়েছিলো সেই নেতা এতো বড় নেতা যে তার কথায় গোটা একটা শহর চলে ! তাই পুলিশ তার কথায় উঠে আর বসে । সেই নেতা পুলিশ কমিশনারকে বলে দিলো , ছেলেটার খুনিদেরকে যেনো গ্রেফতার করা না হয় ।

এদিকে ছেলেটার সহযোদ্ধারা বারবার পুলিশের কাছে দাবী জানাচ্ছে খুনিদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবার । মিছিল মিটিংয়ে রাজপথ উত্তাল করে ফেললেও পুলিশ ছেলেটার একটা খুনিকেও ধরে না । আন্দোলন চলতেই থাকে । আন্দোলন জোরদার হয় । কিন্তু প্রশাসন নিরব । নির্বাক । .

অপরদিকে ছেলেটার মা বোন সংবাদ সম্মেলন করে খুনিদের বিচার দাবী করে । তারা বলে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত সরকারের কাছে বিচার চেয়েই যাবে । তারা চায়না বাঙলার আর কোন মা বোনের বুক খালি হোক ক্ষমতালোভীদের জন্য ।

দিন যায় মাস ঘুরে বছরও যায় বাট ছেলেটার খুনের কোন আসামী গ্রেফতার হয় না । মামলার কোন অগ্রগতিও নাই ।

ছেলেটার মা থানা পুলিশ এমপি মন্ত্রী মিডিয়া টেলিভিশন চ্যানেল সব জায়গায় দৌড়ায় ! রাস্তার ধারে প্ল্যা কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ! মা তার ছেলে হত্যার বিচার চায় । জানতে চায় কি অপরাধে তার ছেলেকে হত্যা করা হলো ।

কেউ কথা শুনে না । কেউ দেখে না ছেলে হারা মায়ের করুণ আর্তনাদ । পুলিশ বধির ! পুলিশ কানা ! পুলিশ পঙ্গু সেই ক্ষমতাধর নেতার কাছে । নেতার হুকুম না তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না !

ছেলেটার মা স্থির করলেন , ছেলে হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন করবেন । মা ছেলে হত্যার বিচার পাবে না এইটা মেনে নেওয়া যায় না স্বাধীন বাঙলাদেশে । তার ছেলে রাজনীতি করতো । বড় হয়ে হয়ত একদিন দেশটাকেই বদলে দিতে পারতো সততা চেতনা এবং আদর্শ দিয়ে । কিন্তু আশ্চর্য্যের ব্যাপার তার ছেলে হত্যার বিচার হচ্ছে না ! খুনিরা ধরা পড়ছে না !

মা আমরন অনশন শুরু করলো । শুধুমাত্র পানি খায় । আর অন্য কিছুই খায় না । বয়স্ক মা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ে । ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে । অসুস্থ অবস্থায়ও অনশন চলতে থাকে । দিনকেদিন বয়স্ক মা অনশনের কারণে মৃত্যু আর জীবনের মাঝামাঝিতে এসে যায় !

এই খবর সোশাল মিড়িয়া ছড়িয়ে পড়লে মন কেঁদে উঠে , পুলিশ প্রশাসনের এসপি'র । এসপি হাসপাতালে ছুটে গিয়ে ছেলে হারা মা'কে প্রতিশ্রুতি দেয় আর কালক্ষেপণ নয় । খুব শিগ্রই খুনিদের গ্রেফতার করা হবে । এসপি অনুরোধ করে মা'কে অনশন যেনো ভাঙ্গে ।

মা পুলিশ প্রশাসনের এসপির কথায় আশ্বস্ত হয়ে অনশন ভাঙ্গে এসপির হাতে জুস খেয়ে ।

(গল্পটি অসমাপ্ত কারণ এখনো হয়তো আশঙ্কা আছে "এমন অনেক কিছুই হবে যা কেউ ভাবে নাই আগে" )

ছেলে হত্যার বিচার জীবন দিয়ে চাইতে হচ্ছে তার মা'কে !

এমন বাঙলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম ?

আপনারা জানেন ছেলেটি কে ?

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×