তসলিমা নাসরিন আশির দশকে নারীদের অধিকার আদায়, লিঙ্গসমতা, মানবতাবাদ, মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন করতে ধর্মীয় মৌলবাদী গুষ্ঠির ফতোয়ার বিরুদ্ধে যখন লেখালেখি শুরু করে তখন তাকে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু হয়।
১৯৯৪ সালে সিলেটের বিশাল জনসভা থেকে এক মলই তসলিমা নাসরিনের মাথার দাম নির্ধারণ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা। সেই সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো মৌলবাদীদের মদদপুষ্ট সরকার বিএনপি।
বিএনপি তসলিমা নাসরিনকে প্রকাশ্যে হত্যা করার ঘোষণার বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ধর্মীয় মৌলবাদী গুষ্ঠিকে সমর্থন দিয়ে যায়।
তৎকালীন সময়ে কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা তসলিমার পক্ষে দায়সারা একটা দুইটা বিবৃতি এবং মানবন্ধন করলেও সেটা বিশাল সংখ্যক মৌলবাদী গুষ্ঠির কাছে কোন রকম প্রভাবই ফেলতে পারে নাই।
বিএনপি সরকার একের পর তসলিমার বই বেঁচা কেনা এবং পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তসলিমা কমপ্লিটলি কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এইখানে ঐখানে এবাড়ি ওবাড়ি গা ঢাকা দিয়ে থাকে।
ডঃ কামাল হোসেনসহ দুই একজন আইনজীবী তসলিমার পক্ষে লড়লেও আদালত বিশাল সংখ্যক উগ্রমৌলবাদী ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে গিয়ে তসলিমার পক্ষে কোন রায় দিতে সাহস পায় নাই। কারণ তখন বিচার বিভাগ স্বাধীন ছিলোনা। সরকারই তখন বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতো।
তসলিমা বিএনপি সরকারের কাছ থেকে কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য হয় দেশ থেকে পালিয়ে যেতে। ১৯৯৪ সালে সেই যে গেলো তসলিমা আর দেশে ফিরতে পারলোনা।
অথচ এই দেশে মুক্তচিন্তার ছবক দেওয়া এবং বাকস্বাধীনতার জন্য ঘেউ ঘেউ করা লোকজন তসলিমার পক্ষে একটাও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে নাই তখনও না এখনো না।
দেশে অনেক সরকার আইলো গেলো কিন্তু কোন সরকারই তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোন রকম উদ্যোগ নেয় নাই। কারণ প্রত্যেক সরকারই জানে যেই সরকার তসলিমাকে দেশে ঢুকাবে সেই সরকারই উগ্রধর্মান্ধ বিশাল সংখ্যক মৌলবাদী গুষ্ঠির কাছে পরাভুত হবে। কারণ প্রত্যেক সরকারই জানে এবং বুঝে এই দেশে প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তক, বাকস্বাধীনতায় ঈমান রাখা, নাস্তিক্যবাদকে সমর্থন দেওয়া, নারীর সমান অধিকার মাইনা নেওয়া লোকজনের সংখ্যা খুবই কম। যারা উগ্রধর্মান্ধ বিশাল সংখ্যক মৌলবাদী গুষ্ঠি একসাথে মুতে দিলে কমপ্লিট ভাইসা যাবে বুড়িগঙ্গায়!
দেশে এখন আওয়ামীলীগ সরকার। কিন্তু আওয়ামীলীগও তসলিমাকে দেশে ফিরাবে না। কারণ আওয়ামীলীগ সরকার জানে তসলিমারে সমর্থন করা লোকদের পক্ষ নিলে আওয়ামীলীগ বিশাল সংখ্যক উগ্রধর্মান্ধ মৌলবাদীদের রোষানলে পুড়বে। এদের বিরুদ্ধে হাতেগোনা প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী, মুক্তচিন্তক, বাকস্বাধীনতায় ঈমান রাখা, নাস্তিক্যবাদকে সমর্থন করা লোকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়া যাবেনা।
ফাইনালি মাইনা লইতে হবে, তসলিমারা অসহায়। তসলিমাদের দেশ নাই। তসলিমাদের পক্ষে লোকজন নাই। তসলিমাদের সংসার নাই। তসলিমাদের জীবনে সুখ শান্তি বলতেও কিচ্ছু নাই। তসলিমারা সারাজীবন আপসোস আর হতাশার মধ্য দিয়েই জীবন যাপন করবে।
দ্যাটস অল ইউর অনার।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





