somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাইরিষ্ট থেকে ব্লগার ।

১১ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের চিন্তা ভাবনা পরামর্শ উপদেশ গদ্য কবিতা গল্প গান এবং উদ্ভাবন ও নতুন আবিষ্কার ডায়রিতে লিখে অনেকেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং অমর হয়েছেন মানুষের মাঝে । শত হাজার বছর ধরে মানুষ তাদের বন্ধনা করে । অনেকেই আবার তাদের আচার আচরন পথ চলা এমনকি পরিধেয় পোষাক পরিচ্ছদকেও আদর্শ মনে করে । অনেক কিছুই আবিষ্কৃত হয়েছে মহামানবদের মৃত্যুর পরে । যার বেশীর ভাগ আবিষ্কার ডায়রি থেকে । আগে যারা ডায়রি লিখতেন তাদেরকে বলা হতো ডাইরিষ্ট ।
আগের দিনে মানুষেরা যাদেরকে আমরা মনিষী বলে থাকি তাড়া লিখতেন পাথর খুদাই করে, কাঠের বা বাশের উপরে, কখনও গাছের পাতায়, মাটির গুহায় তারপরও তাদের লেখনিকে মানুষ আবিষ্কার করেছে এবং ভবিষ্যতের স্বার্থে সংরক্ষন করেছে।
আগেকার দিনে মানুষ মুক্তচিন্তা করত নিজের মতন করে । দমন পীড়ন তখনও ছিল যেখানে সাধারন মানুষের সম্পৃক্তা ছিল নগন্য ।এখন যুগ পাল্টে তথ্য প্রযুক্তিতে ভর করেছে যা অন্য যুগে বসে কল্পনাও করা অসম্ভব ছিল । এখনকার দিনে বিশ্ব হয়ে গেছে একটা পরিবারে । সবাই সবার খোজ খবর রাখে তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে ।এড়িয়ে যাওয়ার যেমন উপায় নেই তেমনই উপায় নেই পাস কাটিয়ে যাওয়ার ।
যুগের বিবর্তন বা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পাথর কাঠ বাশ মাটির লিখা রুপান্তরিত হয়েছে কাগজ কলম পেন্সিলে ।রঙবেরঙের লেখা ।রকমারি লেখা , হরেক রকম মতাদর্শ ।গ্রহন করতেও পারেন নাও করতে পারেন । সবটাই যার যার ব্যক্তিগত এবং নিজস্ব ।চাপিয়ে দেয়ার কোন ব্যাপার নাই । ঠিক যেন দোকান । থরে থরে পন্য সাজানো আছে আপনার পছন্দ হলে বা কাজে লাগলে কিনবেন নচেৎ না । বলপূর্বক কাউকে বাধ্য করা যাবে না গ্রহন করতে বা বর্জন করতে ।
উন্নয়নের ধারা ধারাবাহিকতায় এবং মানুষের চিন্তা চেতনা বিকশিত হওয়ায় 2nd half of second century AD তে শুরু হওয়া ডায়রি লিখা এখন অন লাইন ডায়রি বা ব্লগ এ রুপান্তরিত হয়েছে ।আগের যুগের ডাইরিষ্ট এখন ব্লগার নামে পরিচিতি লাভ করেছে ।যা শুরু হয়েছে মুলতঃ ১৯৮৩ র শেষ দিকে ।
ব্লগ লেখা ডায়রি লেখারই রুপান্তর । ডায়রি ছিল অফ লাইনে আর ব্লগ অন লাইনে ।ব্লগে যেমন মুক্তচিন্তার প্রসারের সুযোগ আছে তেমননি রক্ষনশীলতা বা গোরামি ধরে রাখারও সুযোগ আছে ।সবটাই নির্ভর করবে কে কাকে কিভাবে প্রকাশ করতে চায় বা কোন আদলে তার চিন্তা ভাবনা ।
লিখিতি বার্তা, মতামত, তথ্য আদান প্রদান এবং ভাব বিনিময়ের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহৃত হয়ে আসছে যেমন টেলিগ্রাফির প্রচলন ছিল ১৭৯২ থেকে ১৮৩৭ নাগাদ যা এখন অনেকটাই সেকেলে ।টেলেক্স প্রচলন হয় ১৯৩০ এর দিকে, ব্লগিং শুরু হয় ১৯৮৩ র শেষ দিকে, ইলেক্ট্রণিক মেইল চালু হয় ১৯৯৩ র দিকে, ওয়েব সাইট ও নেট ওয়ার্কিং ১৯৯০ এ, ফেসবুক ২০০৪ এ এবং টুইটার ২০০৬ এ । এর সাথে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে মানুষের যোগাযোগকে আরও সহজ করতে এবং সহজ ব্যবহারযোগ্য করতে ।সবই বিজ্ঞানের অবদান ।
কতিপয় মানুষ যারা ধর্মীয় সংস্কারের বলয়ে আবদ্ধ তাড়া বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কারের সুভল ভোগ করছে কিন্তু আবিষ্কার সম্পর্কে তাদের নেতিবাচকতার কমতি নেই ।সমাজ সংস্কার হচ্ছে সেখানে তাদের সনাতনি ধারনাকে ধরে রাখতে হবে ।স্বাস্থ্য শিক্ষা সমাজ উন্নয়নের সব উপকরণ তারা ভোগ করছে কিন্তু সংস্কারকে তাড়া ভয় পায় ।গোষ্ঠিগত দ্বন্দ এখন চড়মে । সেটা অন লাইন এবং অফ লাইন দুটোতেই ।অফ লাইনে সাধু না হয়ে মানুষ সাধু সাজার চেষ্টা করছে তেমনি অন লাইনে ব্লগার না হয়ে শুধু মাত্র কুৎসা রটানোর জন্যে ব্লগার সেজে বসে আছে অনেকেই । অফ লাইনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিক দ্বন্দ এখন অন লাইনে । যার ভয়ংকর পরিসমাপ্তি ঘটে অফ লাইনে ।
অন লাইনে সংস্কারাচ্ছন্ন ডাইরিষ্ট বা ব্লগাররা ধর্মীয় উন্মাদনার বক্তব্য ছড়িয়ে দেশের বা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষ গুলোকে বা জনগোষ্ঠিকে বিভান্ত করছে এবং প্রগতিশীল মুক্তমনা বা মুক্তচিন্তার বিকাশকে রুদ্ধ করার পায়তারা করছে ।আর সে সুযোগে এক শ্রেনীর সুবিধাবাদী চক্র সুযোগ বুঝে মধ্য পন্থায় থেকে ফায়দা লুটে নিচ্ছে ।যার পরিনাম হচ্ছে নিশংসতা এবং রক্তপাত এবং আইনের শাষন হচ্ছে বাধাগ্রস্থ ।দ্বিচারিতা এবং দ্বৈতআচরনের কারনে অপরাধীরা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং কিছু সাধারন এবং সচেতন মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবার পরিজন ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×