somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যবিত্ত বনাম মধ্যবৃত্ত

০৩ রা জুলাই, ২০১৩ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যবিত্ত বনাম মধ্যবৃত্ত
©রেজওয়ান মারুফ জয়


একজন সরকারি কর্মচারী। ৯ টা - ৫ টা কর্পোরেট জীবনের ছক থেকে বের হওয়ার ব্যর্থ প্রয়াস যাকে সবসময় তাড়া করে ফেরে। বের হতে পারেন না তিনি। আর দশজনের মত হননি তিনি। সেই গৎবাঁধা কাজে অভ্যস্ত হলেও বস অথবা মন্ত্রীকে তেলিয়ে প্রমোশন বাগানোটা তার অভ্যাস হতে পারেনি কোনোদিন। তাই নিয়মিত বিরতিতে পাশের ডেস্কের কলিগ চেঞ্জ হলেও টানা পাঁচ বছর তার ডেস্ক চেঞ্জের অনুমতিপত্রসহ কোনো খাম তার কাছে আসে না। পাশের মানুষগুলো বছর বাদেই এক এক করে ওপরে উঠলেও অফিসের জুনিয়র অফিসিয়াল ডেস্কটা যেন ছাড়তেই চায় না হাসানুজ্জামানকে।

হ্যাঁ। উনার নাম হাসানুজ্জামান। উত্তরবঙ্গের লোক। রংপুরে জন্ম। বাপ-দাদা-পূর্বপুরুষের ভিটা কুড়িগ্রামের উলিপুরে। উত্তরের মানুষগুলোর মাঝে ঈর্ষণীয় সরলতা পাবেন আপনি। ‘বিশ্বাস’ শব্দটাকে এরা বড় বিশ্বাস করে। কস্মিনকালেও কাউকে ঠকাতে পারেনা এরা। বেশ নীতিবান। পায়ে পাড়া দিয়ে কারো সাথে লাগতে যায় না সহসা। নিয়ম-নীতি আঁকড়ে ধরে অধিকার বাঁচানোর চেষ্টাই যেন বেঁচে থাকা এদের। বাঁচলে বাঁচলো, না বাঁচলে নাই। অভিশাপেই চুপ। জন্ম নিয়েই টাকা আর নিজের লাভ চিনে নেয়াটা বোধ করি এদের স্বভাবে নেই। দেশের উচ্চবিত্তদের মাঝেও তাই এদের আনাগোনা কম। বাংলার মধ্যবিত্ত সন্তান বলতে এদেরকেই বোঝানো যায়। আমাদের হাসান সাহেবও এদেরই দলে। মধ্যবিত্তের ভদ্রসন্তান।

নানাদিকে আপস করেই তার বেঁচে থাকা। স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে দিন চলে যাচ্ছে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট হাসানুজ্জামান বিয়ে করেছেন প্রেম করে। ফাহমিদা আক্তার ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন তখন। ছাত্র ইউনিয়নের এক পাঠচক্রে দুজনের প্রথম দেখা। চাপা স্বভাবের হাসান বেশিদিন চাপিয়ে রাখতে পারেননি নিজেকে। কয়েকদিন বাদে প্রেমপত্র গুঁজে দেন বইয়ের ভাঁজে। আশির দশকের শেষ ভাগের প্রেমগুলো এমনই। সেই চিঠিজাত প্রেম প্রায় ছয় বছর টেনে এনে ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে। আদৃতা আর আবীরকে নিয়ে সুন্দর সুখী পরিবার তাদের। সুখী না বলে শান্তিপূর্ণ বলি। সুখের পেছনে ছুটে শান্তির কনসেপ্ট হারিয়ে ফেললে আমরা দেখতাম হাসান সাহেবও কোনো এক বিকেলে প্রমোশন বাগিয়ে এনে মধ্যরাতে অনুশোচনায় পড়তেন - আহারে! সুভাষ বাবুকে কলা দেখিয়ে এভাবে প্রমোটেড হয়ে যাওয়াটা বুঝি ঠিক হল না!

এতো বছর ধরে নীতিতে ফিক্সড থেকে থেকে তাই সকালের নাস্তায় শুধু একঘেয়ে ডিম-রুটি, রাস্তার জ্যাম, বসের ঝাড়ি, স্বার্থান্বেষী কলিগদের মুখঝামটা – এসবও ফিক্সড হয়ে থাকে হাসান সাহেবের জন্য। এতে অবশ্য কিছু গিয়ে আসে না তার। তিনি জানেন, এই নয়টা-পাঁচটা ডিউটিই তার জীবন। এই জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ – ছেলেমেয়েদের ফোন রিসিভ করে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোন রাখতে না রাখতেই স্ত্রীর ফোন। দুপুর-রাতে কী রান্না হবে তার ফিরিস্তি হাসান সাহেবই দেন অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে। একটা পি এস নেই যে বাজারটা ওকে দিয়ে সারাবেন। যেদিন বাজার শর্ট পড়ে, সেদিন বাসার নিচের ফেরিওয়ালাদের থেকেই সবজি কিনে নেন মিসেস হাসান। মোবারক মিয়ার থেকেই বেশি রাখা হয়। এ এলাকায় বেশ পুরনো। সৎ তরকারি ব্যবসায়ী হিসেবে নাম আছে লোকটার। প্রয়োজনে বিশ-পঁচিশ টাকা বাকীতেও সবজি রাখা যায়। পরিচিত হয়ে গেছে।

পি এস না থাকাটা অত একটা ফিল করেন না হাসান সাহেব। মাঝেমধ্যে আফসোস করেন মনে মনে, আর একটা পোস্ট ওপরে উঠতে পারলেই এমন একটা মোশাররফ পাওয়া যেত। মোশাররফ পাশের ডেস্কের মিজান সাহেবের পি এস। মিজান সাহেব মাঝেমধ্যেই গায়ে পড়ে বলে বসেন,
--- হাসান ভাই! আর কতকাল ঘাড় গুঁজে গুঁজে ফাইল রেডি করবেন? এবার ঘাড়টা ত কমপক্ষে সোজা করেন... আমরা ত চাকরির বয়সে আপনার জুনিয়র হয়েও অফিসের চেয়ারকে ইজি চেয়ার বানিয়ে ঘুমাই। আপনি?
হাসান সাহেব স্পষ্ট বোঝেন এই কথায় কতোটা টিটকারি মেশানো। তার মেজাজ পারলে তখন অষ্টমে উঠে যায় এক লাফে। কিন্তু তিনি ভদ্রতার খাতিরে চুপ করে হজম করেন। সামনে দুই সপ্তাহ ছুটি লাগবে। সেজন্য মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরসহ রিকমেন্ডেশন লাগবে। সেকথা ভেবে জবাব দেন শুধু একটা অসহায় শুকনো হাসিতে। কিন্তু অসহায়ত্বটা দেখান না। তাহলে মান-ইজ্জত থাকবে না। এই ‘মান-ইজ্জত’ শব্দবন্ধ বাঙালি মধ্যবিত্তের চিরশত্রু। কেন জানি অল্পতেই চলে যেতে চায় বারবার। বিশেষ কিছু খাইলে, বিশেষ গান গাইলে, বিশেষ কারো সাথে চললে, বিশেষ কারো সাথে কথা বললে যেতেই থাকে এটা। আজ্ঞার তালিকা খোঁজ করলে এদের জীবনে নিশ্চিতভাবে নিষেধাজ্ঞাই পরিস্কার ব্যবধানে জয়যুক্ত হবে।

যাই হোক, এই অসহায়ত্ব পিছু ছাড়ে না হাসান সাহেবের। নিজের গাড়ি নাই। স্বপ্ন দেখতেন প্রিমিও কারের। তা স্বপ্নই। রিক্সা পাওয়াটাও ইদানীং স্বপ্নের ব্যাপার মনে হয় যখন সিগারেট ফুঁকতে থাকা রিক্সাওয়ালা আয়েশে বলে দেয় – ‘যামু না!’ জনাদশেকের পর একজন যেতে রাজি হয়। তাও পথের মাঝে একাধিকবার চেইন পড়ে গাড়ির। মেজাজ খারাপ হয় বাসার পাশের মুদি দোকানে জাকারিয়ার কাছে ডালের দর জিজ্ঞেস করে। গত সপ্তাহেও ছিল ১২০ টাকা কেজি, আর আজ এই ভরসন্ধ্যায় বলছে ১৫২ টাকা! এক লাফে ৩২ টাকা বেড়ে গেল?! বেতন ত বেতনের জায়গায়ই আছে। এর কোনো মানে হয়?

হাসানুজ্জামান ভদ্র মানুষ। দশজনের প্রশংসিত। লোকজন তাকে বেশ ভালোই বাসে। বাইরের কারো সাথে কখনোই মেজাজ দেখান না। না হলে আজ মিজান সাহেব থেকে শুরু করে মুদি দোকানি জাকারিয়াকে পর্যন্ত কথার সার্ফ এক্সেলে ওয়াশ করে আসতে ভুলতেন না।

কিছু কাপড় রেখে গেছিলেন ওয়াশ করতে হবে বলে। মিসেস হাসান ভুলেই গেছেন। কেন আজই ভুলতে হবে? আষ্টেপৃষ্ঠে কুফা জড়ানো দিনটার পরিসমাপ্তি ঘটালেন হাসান সাহেব এই ভুলের প্রতিশোধ নিয়ে। ফাহমিদার বাপ-মা-ভাই-বোন তুলে সে কী ভর্ৎসনা! চৌষট্টির আবুলও হয়তো এতো কড়া ভাষায় স্ত্রীকে শাসন করেনি।

পরদিন অফিসে ছুটির দরখাস্ত দাখিল করলেন বটে হাসান সাহেব, কিন্তু আশার বাণী বলতে যা বোঝায়, ঠিক টা মিলল না। ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি আবেদন করে যদি সেই ছুটি মেলে ২০১৪ সালের এপ্রিলেরও শেষদিকে, তবে তাকে আশার বাণী বলাটা বিপদজনক। এই ভূতুড়ে ব্যবস্থার ব্যাখ্যা হল – ‘ হাসানুজ্জামানের মতো কাজপাগল লোকের দুই সপ্তাহ ছুটি নেয়া মানে অফিস হাওয়াই জলের গাড়িতে চড়ে গোল্লায়’।

হাসান সাহেব রা করেন না। করেন তার পাগলামি, মানে অফিসের কাজ আর দিন গোনেন – কবে সপরিবারে ঘোরার জন্য ১৪ টা দিন ছুটি পাবেন অফিস থেকে। এভাবে ২০১২ কাটল। ২০১৩ কাটল। কীভাবে কাটল, তা পাঠকের অনুমেয়। আমরা আমাদের গল্পে এগিয়ে যাই।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আদ্রিতা-আবীরের নানু মারা গেছেন। মিসেস হাসানের মনে আর বেড়ানোর প্রতীক্ষা নেই। নেই হাসানের মনেও। কিন্তু এসব কিছু যাদের স্পর্শ করে না, তাদের কী অবস্থা? তারা ত ঠিকই চায়, বাবার সঙ্গে ঘুরতে যাবে কুয়াকাটা, সদ্যঘোষিত দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর। শেষমেশ সিদ্ধান্ত হল, দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে হাসান সাহেব যাবেন।

ঠিক হল, ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশাল হয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যাওয়া হবে। কিন্তু ঐদিন কী এক অনিবার্য কারণে লঞ্চ যাবে না দক্ষিণের কোথাও। শেষে বাসে ঢাকা থেকে সরাসরি কুয়াকাটা। ব্যাপারটা তিনজনের কেউই সেভাবে উপভোগ করতে পারলো না। টানা ১১ ঘণ্টা! এতো বড় বাস জার্নি ওরা কখনো করেনি। রীতিমত বিরক্তিকর! তার ওপর শাশুড়ির মৃত্যুর ব্যাপারটা মোটামুটি বড় একটা ধাক্কা হাসান সাহেবের জন্য। এ অবস্থায় আনন্দভ্রমণ সহজ কথা নয়। ছেলেমেয়েদুটো যে খুব বড় হয়েছে তাও অবশ্য নয়। আবীরের বয়স আট বছর আর আদৃতার বারো। ওদের কল্পনার জগত বিবেচনায় গত প্রজন্ম অনুপাতে ওরা অনেক বড়, কিন্তু মানসিক পরিনতিবোধ বিচারে ওরা ওদের পূর্বপুরুষদের কাছে পরিস্কার ব্যবধানে হারবে। তবে এসব যুক্তিলব্ধ ব্যাপার ওদের সামনে তুলে ধরা বৃথা। তাই হাসান সাহেব যতটুকু পারলেন ওদের সঙ্গ দিলেন। একটা সময় আর পারলেন না। স্বাস্থ্যকর স্থানে এসেও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন নানাবিধ টেনশনে।

শেষ পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার দিন এলো। ঠিক করলেন এবার লঞ্চজার্নি করবেন। তবে পটুয়াখালী থেকে লঞ্চে উঠবেন। ওদের আশা পূরণ করার জন্যই এই আকালে ঘুরতে আসা। নইলে এই এপ্রিলের বৈশাখী আগুনে কেউ জেনে বুঝে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসে না। ওরা কখনো লঞ্চে চড়েনি।

দুপুর নাগাদ পটুয়াখালী পৌঁছে ওদের নিয়ে হাসান সাহেব লঞ্চঘাটে এলেন। পন্টুনে ভেড়ানো এম, ভি, সুন্দরবন ৯। এখান থেকেই হাসান সাহেবের সংসারে ভাঙনের সূত্রপাত।

৩ বছর পর।

গোয়ালন্দ ঘাট, রাজবাড়ী। লঞ্চঘাট। একটার পর একটা লঞ্চ যাত্রী নিয়ে আসছে যাচ্ছে। এম, এল, আদৃতায় করে নদী পার হয়েছেন উষ্কখুষ্ক চুল আর মুখভর্তি দাড়িওয়ালা এক ভদ্রলোক। চেহারায় রাজ্যের বিষণ্ণতা ভর করে আছে। মানিব্যাগ চেক করতে করতে সামনের দিকে এগোচ্ছেন। রাস্তার এক ভিখারি সম্ভবত ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই বলে উঠল- ‘শহরের মধ্যি না! নদীর ধারে, নদীর ধারে!’
তার মানে ভিক্ষুকরাও এইসব জায়গায় যায়? না হলে বলল কী করে? যারা যায় না, তারা এসব জায়গা চেনার কথা না। আচ্ছা ওরা কি বিনা পয়সায়ই নিশিকন্যাদের সাথে... না... তা ত হতে পারে না... বিনা পয়সায় নিশিকন্যা আপনাকে একটা চুমুও খেতে দেবে না। বাটপারি ভিক্ষুকরা করতে পারে, ওরা না। টাকা-পয়সা পেলে ওরা আপনাকে সব দেবে, কিন্তু টাকা দিলেও ভিক্ষুক আপনার বাসায় কামলা খাটবে না, ভিক্ষাই করবে।

এসব ইতিউতি ভাবতে ভাবতে হাসানুজ্জামান পৌঁছে গেলেন সদর দরজায়।

সর্দারনী মালেকা চৌধুরী। একটা বিরাট হলঘরে নিয়ে আসলেন হাসান সাহেবকে। রিসিপশন টেবিলে রাখা চাবিগুলো থেকে ১৫ নম্বর চাবিটা উঠিয়ে দিলেন। হাসান সাহেব ১৫ নম্বর রুমের সামনে গিয়ে কড়া নাড়তে দরজা খুলল আদি। এলোমেলো চেহারা দেখে বুঝল না যে, ঘুরতে ঘুরতে নিজের বাবাই তার কাছে এসে পড়েছে। বাবাও এতো বড় মেয়েকে দেখে চিনলেন না।

যে জন্য মানিব্যাগ চেক করেছিলেন রাস্তায়, সে বস্তুটা কাঁপা হাতে কিন্তু অসাবধানে বের করতে গিয়ে ভাঁজে রেখে দেয়া একটা ছবি পড়লো ফ্লোরে। এতক্ষণ নিচের দিকেই তাকিয়ে ছিল আদি। চোখে পড়লো ছবিটা। একটা ফ্যামিলি ফটো। সবাই আদির পরিচিত। সেই যে ও হারিয়ে গেছিলো পটুয়াখালী থেকে, তখন ত এই ফটোরই দুজন ছিল ওর সাথে। আদি একবার ফটোর দিকে তাকায়, একবার হাসান সাহেবের দিকে। হ্যাঁ মিলেছে।
--- আপনি কি এখানে জীবনে প্রথম এসেছেন?
--- কেন?
--- কেউ এসব আনে না ত, তাই।
--- কোন্‌ সব?
--- এগুলো আমাদের কাছে থাকে।
--- ও
--- আপনার কে কে আছে?
--- নেই কেউ। শুধু এই ছবিটা আছে।
--- কেন নেই?
--- ছেলেটা ওর মায়ের সাথে থাকে, আদৃতাটা হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমি ডিভোর্সি। সেই থেকে ছবিটাই আমার সব। সেই থেকে আমার জীবনের সব শেষ।
--- আর সেই থেকে শুরু আদৃতার ‘আদি’ হয়ে যাওয়ার গল্প।
--- তুমি, তুমি আদৃতাকে চেনো?
--- হুম।
--- কোথায় ও?
--- ও আর আদৃতা নেই বাবা... আদিকালের সেই পেশা নিয়ে ‘আদি’ হয়ে গেছে। অনেকদিন পর কারো মুখে আমি ‘আদৃতা’ শব্দটা শুনলাম। নামটা আমার হারিয়েই গেছিলো বাবা। আমি আবার সেই ‘আদৃতা’ হয়ে বাঁচতে চাই। তোমাদের সমাজে আমার জন্য একটু জায়গা দেবে না বাবা? আমি তোমার মেয়ে হয়ে চাইছি একটু জায়গা। এখানে না, প্রয়োজনে অন্য কোথাও। যেখানে সমাজের রক্তচক্ষু কোনো মানুষের ব্যক্তিজীবনকে ছোঁবে না। আমি ভালো হতে চাই বাবা... ভালো হতে চাই... বিশ্বাস করো... ভালো হতে চাই... ।

[পুনশ্চঃ আমরা চাই না, এমন ২০১৪, ২০১৭ আসুক। কিন্তু অহরহই এমন ঘটছে। আমরা এই বৃত্ত থেকে
বেরোতে চাই। আমরা কোনো সুপারম্যান চাচ্ছি না। চাচ্ছি সুপার ভার্চিউ, যা মানুষকে শুদ্ধ মানসিকতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। অসততা, ভণ্ডামি, মিথ্যে এসব দূরে ঠেলে মানবমুক্তির প্রশস্ত পথ চিনে নেবে – এমন মানুষের সমাবেশই পারে একটা গোছালো-সুন্দর-আধুনিক সমাজ তৈরি করতে।]
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×