somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার শয়তানী বেলা - ১

০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই অনেক কিছু করেন ছোটবেলায় । কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমি বিশাল ত্যাদড় গোছের প্রানি। ত্যাদড়ামী ছাড়া কিছু করি নাই । যেই সময় পোলাপাইন হিসাব করে আজকে বাড়ির কাজ কি কি । আমি হিসাব করতাম আজকে কি কি বিচার আসবে এবং কতভাবে উছিলা বলে সেইগুলা থেকে বাচা যাবে। বাবা বলে আমার ভিতর নাকি ভাংচুরের লক্ষন বেশ ছোটবেলা থেকেই বিদ্যমান । আমি বলব বৈজ্ঞানিক প্রতিভা।

আমার ১ম জন্মদিনে একজন একটা গ্লোব দিয়েছিল উপহার । আমি তো সুবোধ বাচ্চা । সেটা নিয়ে খেলা না কারে এক্সপেরিমেন্ট করলাম । বাবার মুখে শুনেছি গ্লোবটা পাওয়ার ১০ মিনিটের ভিতর আমি ওইটার ভিতর একটা কাঠি ঢুকায় দিয়েছিলাম । আমার মতে আমি দেখতে চাইছিলাম পৃথিবীর ভিতর কি আছে । কারন আমি নাকি বার বার বলছিলাম ভিতরে কি?

আমার সাথে কার দেখা হলে মনে করাবেন । আমার বাম হাতের একটা দাগ দেখাব। এখন দাগের গল্পে আসি । আমার তখন সোয়া ১ বছর হবে । বাবার একটা রেডিও ছিল। বাবা সেইটায় তার লাগিয়ে কেমনে করে জানি নেটওয়ার্ক পরিস্কার ভাবে ধরত। আমার তখনকার মত এখনও আগ্রহ আছে কি ভাবে বাবা কি করত । থিওরিটা আসলে কি । সেযাক আমি তো খালি বুঝি তার । একদিন খালি ঘরে কোন কিছুর তার ঝুলছিল । আমি আমার অদম্য আগ্রহের কাছে হার মেনে সেই তার ধরে শক খাই । হ্যা আমার বামহাতে সেই দাগ এখন আছে । থাকবেও সারাজীবন ।

আমার জানার আগ্রহ আরেকটু বড় হওয়ার পরে আর বাড়ল । বললে বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না । আমি এখন পর্যন্ত অন্যান্য ছেলেদের মত ভিডিও গেমস দিয়ে খেলতে পারি নি । আমাকে গেমস কিনে দেওয়ার পরে ঐটা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট ঠিক থাকত। এরপরেই শুরু হত আমার মেকানিজম । ভিডিও গেমসের বাবার কি সাধ্য ঠিক থাকে । আমার গুতাগুতিতে নষ্ট তাকে হতেই হবে ।

ক্লাস থ্রিতে মাত্র উঠেছি বা উঠব । বাসায় কিছু একটা নষ্ট হওয়ার পরে বাবা সুইচ বোর্ড খুলে ঠিক করল আমি চুপচাপ আগ্রহ ভরে দেখলাম । বাবাকে বললাম বাবা আমি করি? সাথে সাথে উত্তর না। আমার তো পেটের ভাত হজম হচ্ছে না । করতেই হবে । তার দুইতিন দিন পরে নানী বাসায় এসে বাসার যে ৩ পীন প্লাগ বোর্ড আছে ওইটা গভীর মনযোগ দিয়ে দেখছি দেখে আমার খালা বলল “ বাবা কি করিস। “ আমি স্বভাব সিদ্ধ উত্তর দিলাম কিছু না। দুপুরে খাওয়ার পরে যখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে আমি নেইলকাটার নিয়ে নেইলকাটারের চাকুটা বের করে ৩ পীন প্লাগের বড় ফুটাতা দিয়ে ঢুকাইয়া দিসি । কারন তখন টেষ্টার কি জিনিস জানি না । ফল শক । খালা দৌড়ে আসছে যে কি হল । আমি কিছু না বললেও খালা ৩ পীন প্লাগের ভিতর নেইলকাটার ঢুকানো দেখেই যা বুঝার বুঝলেন । তখন মনে হচ্ছিল আমার বাবা কত শক্তিশালি । এত কষ্ট হচ্ছিল বাবার কই আমি তো বুঝি নি। বাবা কত শক্তিশালী হলে এত কষ্ট সহ্য করতে পারে । কারন আমি মনে করছিলাম যে বাবাও বুঝি আমার মত শক খেয়েছে । এখন বুঝি বাবা আসলেই কত শক্তিশালী । কত কষ্ট করে আমাদের জন্য । আমার বাবার কথায় আসলেই আমি একটু দুর্বল হয়ে যাই । আমার বাবাকে নিয়ে আমি এখন কিছু বলব না । কারন ইচ্ছা আছে বাবাকে নিয়ে সম্পূর্ন আলাদা একটা পর্ব লেখব ।

আবার আমার নিজের কথায় ফিরে যাই । আমি বিশাল দুষ্ট ও দাঙ্গাবাজ ছিলাম । নিজের চেয়ে অনেক বড়দের উপরে ঝাপাইয়া পড়াতেও আমার জুড়ি ছিল না। আমার কাজিনরা এই কারনে ছোট বেলা থেকেই আমাকে একটু ভয় করে আর হাতের রেঞ্জ থেকে দূরে থাকে।

ক্লাসে ২ এ থাকতে আমাদের ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল আরিফ। ওর সাথে আমার আগেই লাগালাগি ছিল । আমি ওর চকলেট ছিনতাই করেছিলাম । ক্লাসে কি যেন করার পর সে আমার নামে ক্লাস টিচারের কাছে আমার নামে বিচার দিয়েছে । টিচার আমাকে মারল । আমার তো মেজাজ খারাপ । শালারপুত বিচার দিসত । গরররররর ।

টিফিন পিরিয়ডে ধরলাম । অই শালাও কম খারাপ ছিল না আমাকে বলে মারবে । আমার তো মাথা নষ্ট । কিহ আমারে মারবি তুই? লেগে গেলাম মারামারি । জীবনের প্রথম রক্তারক্তি মারামারি । এক ঘুসিতে ওর নাকের হাড় ভেঙ্গে দিয়েছিলাম । রক্ত বেরুচ্ছিল । আমাদের ডেকে নেওয়া হ্ল হেড মিস্ট্রেসের রুমে । সব শোনার দরকার ও ছিল না আমাকে তো তিনি চিনেনই আমি কেমন । কারন গত এক বছরে আমি যত বান্দরামী করছি এত পুরা স্কুলে হয় না। আমাকে পানিশমেন্ট দিলেন । টিফিনের পর থেকে আমাকে মাঠে রোদে দাড়াইয়া থাকা লাগবে ।

আমার মত শয়তানের জন্য এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে যে ক্লাস করব না? কিন্তু ছুটির পর ডেকে যখন বললেন যে বাবা মাকে উনি জানাবেন । তখন ভয় পেলাম । প্রমিজ করলাম দুষ্টামী করব না । সেই প্রথম ওয়াদা ভঙ্গ করা শিখলাম । কারন পরের দিনই ক্লাসে ফিরে পিয়াসকে সাথে নিয়ে আরিফের ব্যাগে পানি ঢেলে দিয়েছিলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪
১২টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×