ছোটবেলায় যখন প্রাইমারীতে ছিলাম,
দেখতাম বড় ভাইয়া আপুরা গুরুজনদের
দোয়া নিত এক বিশেষ দিনে। পাড়ায়
মহল্লায় চলত বিশেষ প্রার্থনা,
মসজিদে বিশেষ করে জুমার দিন
মোনাজাতে দোয়া দরুদপাঠ করত।
অনেক জিজ্ঞাস
করে চিন্তা ভাবনা করে বুঝতে পারলাম
এর কারণ, কারণটি হল এস.এস.সি পরীক্ষা।
আপার থেকে জানতে পেরেছিলাম এই
পরীক্ষার জন্য ১০ বছরের সাধনা প্রয়োজন,
আমি তখন ক্লাস ৩ কিংবা ৪ এ
পড়ছিলাম, কৌতুহুল প্রবণতার
কারণে সবসময় সবকিছুতে আমার কৌতুহুল
ছিল আকাশছোয়া।
পরে আসতে আসতে বুঝতে পেরেছি এটাই
ছাত্রজীবনের বড় পরীক্ষা।
এখন আমি সেই ১০ বছরের সাধনার
পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছি,
চারদিকে একধরণের চাপা আমেজ
আমেজটি কোন আনন্দের নয় ভয়ের। আমার
আব্বা আম্মা হাসি মুখে আমার
ভাইয়া আর
আপুকে সে পরীক্ষা দিতে নিয়ে গিয়েছিল,
আর আজকে সেই হাসি ভরা মুখে ছাপ
ফেলেছে চিন্তার।
আর সেই চিন্তা হল, হরতাল
কিংবা অবরোধ। হরতাল বা অবরোধ হই
গণমানুষের আন্দোলনের আরেক না কিন্তু
আমাদের দেশে
হরতালে হই মানুষ পুড়ানোর মহাযোগ্য আর
ককটেল হই একজন মানুষকে মারার হীন
চেষ্টা।
আমি রাজনীতি বুঝি না, তবে বই পত্র
বা পেপার থেকে যা বুঝেছি কোন এক
বিশেষ রাজনীতিক দল ক্ষমতায় আসার
জন্য বারবার এই হীন কর্মে লিপ্ত থাকে।
কিছুদিন আগে আমার মতোই এক
পরীক্ষার্থী ককটেলের হামলায় গুরুতর
আহত হয়েছিল, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তার
চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
যাই হোক আমরা কেন? এই রাজনীতিক
সহিংসতার স্বীকার হচ্ছি, কেন
আমি বা আমার বন্ধুরা স্কুলে যেতে ভয়
পাচ্ছে? এটাকে তো গণতন্ত্র বলে না।
আমাদের ভবিষ্যৎ দায়ভার কে নিবে?
আমরাও তো সুশিক্ষায় শিক্ষিত
হতে চাই, প্লিস আমাদের
থেকে এভাবে আমাদের স্বপ্ন
কেড়ে নিবেন না।
স্বপ্ন নিয়ে বেচে থাকার অধিকার কি তাদের নেই?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




