এম আর আখতার মুকুল স্যারের সেই বিখ্যাত 'চরমপত্রের ' ভাষায় :
বাঙালি পোলাপান বিচ্ছুরা দুইশ ' পঁয়ষট্টি দিন ধইরা বংগাল মুলুকের কেদো আর প্যাকেরা মাইদ্দে ওয়ার্লড (world) এর বেস্ট (best) পাইটিং ফোর্সগো পাইয়া,... আহারে, বাড়িরে বাড়ি!! ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়াগুলো ঘৎ ঘৎ কইরা দম ফালাইলো। ইরাবর্তীতে জনম যার, ইছামতীতে মরণ।
( 'চরমপত্রের শেষ প্রতিবেদন থেকে)
জি ভাইজান, আমাদের বাঙালি বিচ্ছুরা ১৯৭১ সালে পাইক্যা গুলারে পানির মধ্যে এমন ডলা দিছিলো যে ' অপারেশন জ্যাকপটের ' নাম শুনলে তারা এখনো আতকে উঠে।
নৌ - কমান্ড পরিচত :
যুদ্ধের সময় আলাদা একটি সেক্টরের নাম ' নৌ - কমান্ড '। এর সার্বিক কমান্ডে ছিলেন মিত্রবাহিনীর অফিসাররা। ট্রেনিং ক্যাম্পের নাম ছিল ' কমান্ড ক্যাম্প '। এ ক্যাম্পে ট্রেনিং শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মে নদীয়া জেলার পলাশীর আম্রকাননে। এর সাংকেতিক নাম ছিল সি - ২ পি। ট্রেনিং ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন সেমুন, ট্রেনিং কমান্ডার ছিলেন লে: কর্ণেল মার্টিস।
প্রশিক্ষক ছিলেন ৮ জন বাঙালি নৌ- অফিসার , যারা ফ্রান্স সফররত সাবমেরিন MANGO হতে চাকরিরত থাকাকালীন স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগদান উদ্দেশ্যে পালিয়ে এসেছিলেন। এরা হলেন, আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, রহমাত উল্লাহ, আবদুর রহমান, বদিউল আলম, আহসান উল্লাহ , আমানুল্লাহ শেখ, মীর মোশারফ হোসেন ও এ.আর.মিয়া। ক্যাপ্টেন দাশও এই ট্রেনিং ক্যাম্পে জড়িত ছিলেন। তিনি নৌ - যোদ্ধাদের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার পথে দুর্ঘটনায় নিহত হন। যোদ্ধাদের ট্রেনিং শেখানো হতো খরস্রোত ভাগীরথী নদীতে। শীত বর্ষা ৪৮ ঘন্টা পানিতে থাকার অভ্যাস করতে হয় এই নৌ যোদ্ধাদের।
এ ক্যাম্পে ৫ শতাধিক নৌ - যোদ্ধেদের তৈরি করা হয়েছিল, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। এছাড়া দেশের বিভিন্ন নৌ - বন্দরের অপরেশনের জন্য প্রস্ততি গ্রহণ।
আর 'অপারেশন জ্যাকপটের ' মাধ্যমে নৌ - কমান্ডোরা দেখিয়ে দেন তাদের চরম পারদর্শিতা।
চট্টগ্রামের শহরে এই যোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে গোপনভাবে থাকতো। কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা হতে এই অপরেশন পরিচালিত হয়। চরলক্ষ্যার আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে এই যোদ্ধারা বেছে নিয়েছিলেন, ইউনুস খামারে বাড়ি, কালামিয়া সওদাগরের বাড়ি, ইব্রাহিম সওদাগরের বাড়ি। ( চলবে) [ তথ্যসূত্র : দেয়াঙ পরগণার ইতিহাস]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



