




অনেক সাধ আন্দোলনের বিনিময়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম লীগের জয় জয়কার।
কিন্তু দেখা গেল পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালির চেতনা, মুক্তির পথকে আগলে ধরছে ঐ পশ্চিম পাকিস্তানিরা।
মুসলিম লীগের এই দু:শাসন রুখতে মুসলিম লীগ থেকে বের হয়ে নতুন এক রাজনীতিক দলের পথযাত্রা শুরু হয়।
নাম 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ '।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবণি থেকে : ১২১ পৃষ্টা
মওলানা ভাসানী সভাপতি, শামসুর হক সাধারণ সম্পাদক , আমাকে ( বঙ্গবন্ধু) করা হলো জয়েন্ট সেক্রেটারি।
খবরে কাগজে দেখলাম, আমার পাশে নিরাপদ বন্দী। আমি মনে করেছিলাম পাকিস্তান হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিক প্রতিষ্ঠান দরকার নাই।
একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে।
ভাবলাম, সময় এখনো হয় নি। তাই বাইরে যারা আছেন চিন্তাভাবনা করেই করেছেন।
আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের কয়েকদিন পর আমার আর বাহাউদ্দিনের মুক্তির আদেশ এল।
বাইরে থেকে সহকর্মীরা নিশ্চয় খবর পেয়েছিল।
জেলগেটে গিয়ে দেখি বিরাটা জনসভা আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য এসেছে মাওলানা ভাসানি সাহেবের নেতৃত্ব নিয়ে।
আমি আব্বাকে সালাম করে ভাসানি সাহেবের কাছে গিয়ে সালাম করলাম।
সাথে সাথে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ ' জিন্দাবাদ , ' ছাত্রলীগ জিন্দাবাদ ধ্বনি উঠলো।
শামসুর হক সাহেবের কাছে গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানালাম এবং বললাম হক সাহেব আপনার জয়, আজ জনগণের জয়।
হক সাহেব আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন এবার শুরু করা যাক।
পরবর্তী আওয়ামী মুসলিম থেকে আওয়ামীলীগ নামে পরিচত হয়।
,
বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দলনে বারবার যে দলের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে তার নাম আওয়ামীলীগ।
ভাষা আন্দোলনে সূচনা যার ১৯৭১ সালের ঐ পশ্চিমা নরপশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এই দেশের স্বাধীনতা সূর্যের রক্তিম আলো নিয়ে আসে এই বাংলায়।
৭৫ এর পর স্বাধীনতা বিরুধি অপশক্তির বিরুদ্ধে যে দল লড়ে গিয়েছে তার একটি নাম বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



