“দ্যা ক্লাসিক” সাউথ কোরিয়ান রোমান্টিক মাস্টারপিস। “দ্যা ক্লাসিক” সিনেমাতে বর্ণনা দেয়া আছে আবেগময় ও স্বচ্ছ ভালবাসার গল্প। ইতিমধ্যে অনেকেই কোরিয়ান রোমান্টিক সিনেমা গুলোর কোয়ালিটি সম্পর্কে জানেন। কোরিয়ানদের স্টোরি সিলেকশন ও স্টোরি প্রেজেন্ট করার অভিনব কৌশল সিনেমা প্রেমীদের মুগ্ধ করে আসছে।

রোমান্টিক দৃশ্য গুলোতে কারুকাজ দেখলে মনে হয় কোরিয়ান পরিচালকেরা দর্শকের আবেগ নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করেন। রোমান্টিক ধরনার সিনেমা যাদের প্রিয় তাদের জন্য “দ্যা ক্লাসিক” মাস্ট-ওয়াচ মুভি। আর রোমান্টিক জনরার সিনেমা দেখার প্রতি যাদের আগ্রহ নেই তাদের বলবো “সুন্দর একটি গল্পের জন্য হলেও আপনি সিনেমাটি দেখতে পারেন।
“দ্যা ক্লাসিক” সিনেমাটিতে খুব নিখুঁত ভাবে দুটো জেনারেশন এর ভালবাসার গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমায় মা এবং মেয়ের প্রেমের গল্প সমান্তরালভাবে/পাশাপাশি বর্ণনা দেয়া হয়েছে,যেখানে মেয়ের গল্প বলা হয়েছে বর্তমানে এবং মায়ের গল্প ফ্ল্যাশব্যাকে।

সিনেমার শুরু বর্তমানের দৃশ্য দিয়ে, জী-হাই(মেয়ে) ঘর গোছানর সময় তার মায়ের পুরনো ডায়রি খুজে পায় যেখানে তার মায়ের টিনেইজ বয়সের প্রেমের গল্প বিস্তারিত লেখা আছে। অন্যদিকে মেয়ে তার ক্যাম্পাসের এক ছেলেকে পছন্দ করেন কিন্তু ভয়,সংকোচের কারনে নিজের ভালবাসার কথা বলতে পারছেন না, তাছাড়া তার কাছের এক বান্ধবিও ঐ ছেলেটিকে পছন্দ করেন। সুতরাং মেয়েটির ভিতর এক প্রকার মানসিক দ্বন্দ্ব ও অশান্তি কাজ করছে।
সমান ভাবে চলতে থাকে দুই ভালবাসার গল্প। স্টোরির বেশি ডিটেইলসে যাচ্ছিনা তাহলে সিনেমার আসল স্বাদ থাকবেনা।
এবার আলোচনা করা যাক অন্যান্য প্রসঙ্গে। সিনেমার গল্পের মান সম্পর্কে ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি সুতরাং গল্পের দিক থেকে আপনি হতাশ হবেন না তা নিশ্চিত। প্রেমের গল্পের পাশাপাশি ছিল বন্ধুত্তের গল্প,হাস্যরসাত্মক অনেক ঘটনা, আছে ট্রুইস্ট।
গল্পের পর সিনেমায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে আমি দশে দশ দেবো। সিনেমার অনেক রোমান্টিক দৃশ্য গুলো প্রাণবন্ত লেগেছে শুধু মাত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর কারনে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও রাতের জোনাকি পোকার দৃশ্য গুলো।
এই সিনেমার পরিচালক “Kwak Jae-yong” ভালবাসার গল্প গুলোকে বিভিন্ন আঙ্গিকে মিশ্রণ ও পরম যত্নে নির্মাণ কৌশলীর জন্য বিখ্যাত। পরিচালকের অন্যান্য বিখ্যাত কাজ গুলো হচ্ছে “My Sassy Girl” ও “Windstruck” মত অসাধারন রোমান্টিক সিনেমা গুলো। তাছাড়া এই পরিচালক লেখক হিসেবে ছিলেন “Daisy” এর মত আরেকটি রোমান্টিক মাস্টারপিসের।

মা এবং মেয়ের ডাবল চরিত্রে অভিনয় করেছেন “A Moment to Remember” খ্যাত “Son Ye-jin”,তাকে সিনেমার আসল “রত্ন” বললেও ভুল হবেনা, অসাধারণ অভিনয় করে গেছেন পুরো সিনেমা জোড়ে। দুটি ভিন্ন চরিত্রে তাকে বেশ মানিয়ে গেছে। আর তার সৌন্দর্যের কথা কি বলবো, যে কেউ প্রেমে পরতে বাধ্য।
টিনএইজ প্রেমিক হিসেবে Jo Seung-woo এর অভিনয় অনেক ভাল লেগেছে, তার সাথে পরিচয় “Love Phobia” সিনেমার মাধ্যমে, তখন থেকেই তাকে খুব ভালো লাগে। আপুরা তার হাসির প্রেমে পরে গেলেও অবাক হবোনা।
তাছাড়া অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রে যারা ছিলেন তাদের অভিনয়ও ঠিকঠাক লেগেছে।
মোটকথা, একটি অসাধারণ রোমান্টিক সিনেমার সব গুণাবলি এই সিনেমায় বিদ্যমান আছে। ১২৭ মিনিট রানিং টাইমে এই সিনেমায় বিরক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আশা করি,আপনি একটি অসাধারন প্রেমের গল্পের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছেন।
দ্যা ক্লাসিক (২০০৩)
জনরাঃ রোমান্স । ড্রামা
আইএমডিবি রেটিংঃ ৭.৯/১০
মাই রেটিংঃ ৯/১০
রিলেজ-ডেইটঃ ৩০ জানুয়ারি ২০০৩
অরিজিনাল টাইটেলঃ Keulraesik
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




