somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

The Classic (2003): অ্যা সাউথ কোরিয়ান রোমান্টিক মাস্টারপিস!!

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“দ্যা ক্লাসিক” সাউথ কোরিয়ান রোমান্টিক মাস্টারপিস। “দ্যা ক্লাসিক” সিনেমাতে বর্ণনা দেয়া আছে আবেগময় ও স্বচ্ছ ভালবাসার গল্প। ইতিমধ্যে অনেকেই কোরিয়ান রোমান্টিক সিনেমা গুলোর কোয়ালিটি সম্পর্কে জানেন। কোরিয়ানদের স্টোরি সিলেকশন ও স্টোরি প্রেজেন্ট করার অভিনব কৌশল সিনেমা প্রেমীদের মুগ্ধ করে আসছে।


রোমান্টিক দৃশ্য গুলোতে কারুকাজ দেখলে মনে হয় কোরিয়ান পরিচালকেরা দর্শকের আবেগ নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করেন। রোমান্টিক ধরনার সিনেমা যাদের প্রিয় তাদের জন্য “দ্যা ক্লাসিক” মাস্ট-ওয়াচ মুভি। আর রোমান্টিক জনরার সিনেমা দেখার প্রতি যাদের আগ্রহ নেই তাদের বলবো “সুন্দর একটি গল্পের জন্য হলেও আপনি সিনেমাটি দেখতে পারেন।
“দ্যা ক্লাসিক” সিনেমাটিতে খুব নিখুঁত ভাবে দুটো জেনারেশন এর ভালবাসার গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমায় মা এবং মেয়ের প্রেমের গল্প সমান্তরালভাবে/পাশাপাশি বর্ণনা দেয়া হয়েছে,যেখানে মেয়ের গল্প বলা হয়েছে বর্তমানে এবং মায়ের গল্প ফ্ল্যাশব্যাকে।


সিনেমার শুরু বর্তমানের দৃশ্য দিয়ে, জী-হাই(মেয়ে) ঘর গোছানর সময় তার মায়ের পুরনো ডায়রি খুজে পায় যেখানে তার মায়ের টিনেইজ বয়সের প্রেমের গল্প বিস্তারিত লেখা আছে। অন্যদিকে মেয়ে তার ক্যাম্পাসের এক ছেলেকে পছন্দ করেন কিন্তু ভয়,সংকোচের কারনে নিজের ভালবাসার কথা বলতে পারছেন না, তাছাড়া তার কাছের এক বান্ধবিও ঐ ছেলেটিকে পছন্দ করেন। সুতরাং মেয়েটির ভিতর এক প্রকার মানসিক দ্বন্দ্ব ও অশান্তি কাজ করছে।
সমান ভাবে চলতে থাকে দুই ভালবাসার গল্প। স্টোরির বেশি ডিটেইলসে যাচ্ছিনা তাহলে সিনেমার আসল স্বাদ থাকবেনা।

এবার আলোচনা করা যাক অন্যান্য প্রসঙ্গে। সিনেমার গল্পের মান সম্পর্কে ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি সুতরাং গল্পের দিক থেকে আপনি হতাশ হবেন না তা নিশ্চিত। প্রেমের গল্পের পাশাপাশি ছিল বন্ধুত্তের গল্প,হাস্যরসাত্মক অনেক ঘটনা, আছে ট্রুইস্ট।

গল্পের পর সিনেমায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে আমি দশে দশ দেবো। সিনেমার অনেক রোমান্টিক দৃশ্য গুলো প্রাণবন্ত লেগেছে শুধু মাত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর কারনে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও রাতের জোনাকি পোকার দৃশ্য গুলো।
এই সিনেমার পরিচালক “Kwak Jae-yong” ভালবাসার গল্প গুলোকে বিভিন্ন আঙ্গিকে মিশ্রণ ও পরম যত্নে নির্মাণ কৌশলীর জন্য বিখ্যাত। পরিচালকের অন্যান্য বিখ্যাত কাজ গুলো হচ্ছে “My Sassy Girl” ও “Windstruck” মত অসাধারন রোমান্টিক সিনেমা গুলো। তাছাড়া এই পরিচালক লেখক হিসেবে ছিলেন “Daisy” এর মত আরেকটি রোমান্টিক মাস্টারপিসের।


মা এবং মেয়ের ডাবল চরিত্রে অভিনয় করেছেন “A Moment to Remember” খ্যাত “Son Ye-jin”,তাকে সিনেমার আসল “রত্ন” বললেও ভুল হবেনা, অসাধারণ অভিনয় করে গেছেন পুরো সিনেমা জোড়ে। দুটি ভিন্ন চরিত্রে তাকে বেশ মানিয়ে গেছে। আর তার সৌন্দর্যের কথা কি বলবো, যে কেউ প্রেমে পরতে বাধ্য।
টিনএইজ প্রেমিক হিসেবে Jo Seung-woo এর অভিনয় অনেক ভাল লেগেছে, তার সাথে পরিচয় “Love Phobia” সিনেমার মাধ্যমে, তখন থেকেই তাকে খুব ভালো লাগে। আপুরা তার হাসির প্রেমে পরে গেলেও অবাক হবোনা।
তাছাড়া অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রে যারা ছিলেন তাদের অভিনয়ও ঠিকঠাক লেগেছে।

মোটকথা, একটি অসাধারণ রোমান্টিক সিনেমার সব গুণাবলি এই সিনেমায় বিদ্যমান আছে। ১২৭ মিনিট রানিং টাইমে এই সিনেমায় বিরক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আশা করি,আপনি একটি অসাধারন প্রেমের গল্পের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছেন।

দ্যা ক্লাসিক (২০০৩)
জনরাঃ রোমান্স । ড্রামা
আইএমডিবি রেটিংঃ ৭.৯/১০
মাই রেটিংঃ ৯/১০
রিলেজ-ডেইটঃ ৩০ জানুয়ারি ২০০৩
অরিজিনাল টাইটেলঃ Keulraesik
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×