somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ “Drishyam (2015)” উত্তেজনা, রহস্য এবং নাটকীয়তার সংমিশ্রণ!

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মালায়ালাম মাস্টারপিস “Drishyam” এর প্রশংসা শুনেছি বহুবার। যখন শুনলাম একই গল্পে হিন্দি সিনেমাও হচ্ছে তখন থেকে অপেক্ষা করতে লাগলাম এবং দেখে ফেললাম সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আলোচিত এই সিনেমাটি।

সিনেমার ট্যাগ লাইনে দেয়া আছে “Visuals Can Be Deceptive” অথাৎ আপনি যা দেখছেন তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। আপনি যা দেখতে চাচ্ছেন তাকি দেখতে পাচ্ছেন? অথবা আপনি তাই দেখছেন যা আপনাকে দেখাতে চাচ্ছে? মিথ্যার মাধ্যমে সত্য দেখানো হচ্ছে নাকি সত্যের মাধ্যমে মিথ্যা?
ওয়েল, দ্যা মিস্ট্রি স্টার্টস হেয়ার………


দৃশ্যয়াম (২০১৫)
জনরাঃ ড্রামা । মিস্ট্রি । থ্রিলার
কাস্টিংঃ অজয় দেবগান,শ্রিয়া সারান, তাবু, রজত কাপুর প্রমুখ
পরিচালকঃ নিশিকান্ত কামাত
সঙ্গীতঃ ভিশাল ভারাদওয়াজ
মাই রেটিংঃ ৮/১০

সিনেমার শুরুতেই ফ্ল্যাশব্যাকে নিয়ে যাওয়া হয় মধ্যবিত্ত পরিবারে বসবাসকারী বিজয় সালগাওকারের জীবনের গল্পে,বিজয় সালগাওকার ক্যাবল অপারেটর এর বিজনেস চালান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। খুব সাধারণ জীবন যাপন করেন। পরিবার তার কাছে সবকিছু। অন্যান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মত তাদেরও বিভিন্ন সাংসারিক টানাপোড়ন ছিলো কিন্তু ভালোবাসা কমতি ছিলনা কখনোই। বিজয় সময় কাটান সারাক্ষন সিনেমা দেখে, সিনেমার প্রতি তার খুব নেশা।
আর তারপর? তারপর এক তৃতীয় পক্ষের আগমন ঘটে তাদের জীবনে, পরম সুখে থাকার পরিবারটা হঠাৎ এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও বিপদের সম্মুক্ষিন হয়। তারপর থেকে শুরু হয় পুরো পরিবারের এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের লড়াই। চলে একের পর এক প্ল্যান ও মাইন্ড গেইম। সাসপেন্সের শুরু এখানেই। পপকর্ন নিয়ে বসে পরুন আর উপভোগ করুন থ্রিলার-ধর্মী এই সিনেমাটি।

আমি যেহেতু মালায়ালাম সিনেমাটি দেখিনি সেহেতু কোন কম্পেয়ারে যাচ্ছিনা, হিন্দি “Drishyam” নিয়েই আলোচনা অথবা নিজের মতামত শেয়ার করবো। সিনেমার পজিটিভ দিক হচ্ছে সার্বক্ষণিক ধরে সাসপেন্স বা টানটান উত্তেজনা ধরে রাখা, আর পরিচালক যেখানে সফল তা হচ্ছে সিনেমার সাথে দর্শকদের ভাবনার সমন্বয়। সিনেমাটির আরেকটি ব্যাপার আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর তা হল “সিনেমা-প্রেম ও তার বাস্তবতায় প্রতিফলন” আমরা যারা সার্বক্ষণিক সিনেমা দেখি অথবা দেখতে পছন্দ করি,তাদের জীবনে এর টুকটাক প্রভাব পরেই। যেটা আমরা এই সিনেমায় দেখতে পাবো।
নেগেটিভ দিকও কিছু ছিলো, যেমন কিছু থ্রিলিং দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পানসে লেগেছে, তাছাড়া কিছু ট্রুইস্ট সহজে প্রেডিক্টেবল ছিলো, আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে কাও কে সন্দেহ করতে হলে স্ট্রং এবং লজিক্যাল এভিডেন্স লাগে,এমন কি নিজেকে কনভিন্স করতে হলেও ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য প্রমান লাগে, যা এই সিনেমায় কেমন জেনো লেগেছে। অভারল,গল্প আর অভিনয়ের কারনে এই ব্যাপার গুলো ইগ্নোর করা যায়। এন্ড দা ক্লাইম্যাক্স, জাস্ট সুপার্ব।


পরিচালক হিসেবে নিশিকান্ত কামাত সার্থক কারন দর্শকদের মনে সিনেমার প্রথম থেকেই কৌতূহল ধরে রাখতে পেরেছেন। পূর্বে তার পরিচালনায় “Force (2011)” সিনেমাটিও ভালো লেগেছিল।
অজয় দেবগান, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা হিসেবে তার পরিমিত আচরণ, পোশাক দিয়ে “বিজয়” ক্যারেক্টার কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। আইএমডিবি থেকে জানতে পারলাম অজয়ের এই সিনেমাটি করার একমাত্র কারন ছিল তার হোম প্রোডাকশনের “Shivaay” সিনেমার শুটিং সংক্রান্ত ঝামেলা এবং পরিচালকের তিন মাসের মধ্যে সিনেমার কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি। যাক পরিশেষে এই সিনেমা সিলেক্ট করে অজয় দেবগান বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিজয় সালগাওকার(অজয় দেবগান) এর স্ত্রীর চরিত্রে শ্রিয়া সারান (আওয়ারাপান সিনেমার সেই কিউট মেয়েটা) পারফেক্ট ছিলো, তার উদ্বিগ্ন ভাবভঙ্গী ও সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।


রাগী পুলিশের আইজি ও পরিবর্তীতে আবেগী মায়ের চরিত্রে “তাবু” অসাধারণ ছিলেন, তাবুর স্বামীর চরিত্রে রাজাত কাপুরও ঠিকঠাক ছিল, স্ক্রিনে আরো বেশি সময় পেলে ফাটিয়ে দিতেন। অজয়ের বড় মেয়ের চরিত্রে ঈশিতা দত্ত (তানুস্রি দত্তের ছোট বোন) ও ছোট মেয়ের চরিত্রে মৃণাল জাদপ কেও বেশ ভালো লেগেছে। এই পিচ্চিটাকে বেশ ইনোসেন্ট ও অ্যাডোরেবল লেগেছে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৩
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×