মালায়ালাম মাস্টারপিস “Drishyam” এর প্রশংসা শুনেছি বহুবার। যখন শুনলাম একই গল্পে হিন্দি সিনেমাও হচ্ছে তখন থেকে অপেক্ষা করতে লাগলাম এবং দেখে ফেললাম সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আলোচিত এই সিনেমাটি।

ওয়েল, দ্যা মিস্ট্রি স্টার্টস হেয়ার………
দৃশ্যয়াম (২০১৫)
জনরাঃ ড্রামা । মিস্ট্রি । থ্রিলার
কাস্টিংঃ অজয় দেবগান,শ্রিয়া সারান, তাবু, রজত কাপুর প্রমুখ
পরিচালকঃ নিশিকান্ত কামাত
সঙ্গীতঃ ভিশাল ভারাদওয়াজ
মাই রেটিংঃ ৮/১০
সিনেমার শুরুতেই ফ্ল্যাশব্যাকে নিয়ে যাওয়া হয় মধ্যবিত্ত পরিবারে বসবাসকারী বিজয় সালগাওকারের জীবনের গল্পে,বিজয় সালগাওকার ক্যাবল অপারেটর এর বিজনেস চালান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। খুব সাধারণ জীবন যাপন করেন। পরিবার তার কাছে সবকিছু। অন্যান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মত তাদেরও বিভিন্ন সাংসারিক টানাপোড়ন ছিলো কিন্তু ভালোবাসা কমতি ছিলনা কখনোই। বিজয় সময় কাটান সারাক্ষন সিনেমা দেখে, সিনেমার প্রতি তার খুব নেশা।
আর তারপর? তারপর এক তৃতীয় পক্ষের আগমন ঘটে তাদের জীবনে, পরম সুখে থাকার পরিবারটা হঠাৎ এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও বিপদের সম্মুক্ষিন হয়। তারপর থেকে শুরু হয় পুরো পরিবারের এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের লড়াই। চলে একের পর এক প্ল্যান ও মাইন্ড গেইম। সাসপেন্সের শুরু এখানেই। পপকর্ন নিয়ে বসে পরুন আর উপভোগ করুন থ্রিলার-ধর্মী এই সিনেমাটি।
আমি যেহেতু মালায়ালাম সিনেমাটি দেখিনি সেহেতু কোন কম্পেয়ারে যাচ্ছিনা, হিন্দি “Drishyam” নিয়েই আলোচনা অথবা নিজের মতামত শেয়ার করবো। সিনেমার পজিটিভ দিক হচ্ছে সার্বক্ষণিক ধরে সাসপেন্স বা টানটান উত্তেজনা ধরে রাখা, আর পরিচালক যেখানে সফল তা হচ্ছে সিনেমার সাথে দর্শকদের ভাবনার সমন্বয়। সিনেমাটির আরেকটি ব্যাপার আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর তা হল “সিনেমা-প্রেম ও তার বাস্তবতায় প্রতিফলন” আমরা যারা সার্বক্ষণিক সিনেমা দেখি অথবা দেখতে পছন্দ করি,তাদের জীবনে এর টুকটাক প্রভাব পরেই। যেটা আমরা এই সিনেমায় দেখতে পাবো।
নেগেটিভ দিকও কিছু ছিলো, যেমন কিছু থ্রিলিং দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পানসে লেগেছে, তাছাড়া কিছু ট্রুইস্ট সহজে প্রেডিক্টেবল ছিলো, আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে কাও কে সন্দেহ করতে হলে স্ট্রং এবং লজিক্যাল এভিডেন্স লাগে,এমন কি নিজেকে কনভিন্স করতে হলেও ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য প্রমান লাগে, যা এই সিনেমায় কেমন জেনো লেগেছে। অভারল,গল্প আর অভিনয়ের কারনে এই ব্যাপার গুলো ইগ্নোর করা যায়। এন্ড দা ক্লাইম্যাক্স, জাস্ট সুপার্ব।

পরিচালক হিসেবে নিশিকান্ত কামাত সার্থক কারন দর্শকদের মনে সিনেমার প্রথম থেকেই কৌতূহল ধরে রাখতে পেরেছেন। পূর্বে তার পরিচালনায় “Force (2011)” সিনেমাটিও ভালো লেগেছিল।
অজয় দেবগান, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা হিসেবে তার পরিমিত আচরণ, পোশাক দিয়ে “বিজয়” ক্যারেক্টার কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। আইএমডিবি থেকে জানতে পারলাম অজয়ের এই সিনেমাটি করার একমাত্র কারন ছিল তার হোম প্রোডাকশনের “Shivaay” সিনেমার শুটিং সংক্রান্ত ঝামেলা এবং পরিচালকের তিন মাসের মধ্যে সিনেমার কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি। যাক পরিশেষে এই সিনেমা সিলেক্ট করে অজয় দেবগান বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিজয় সালগাওকার(অজয় দেবগান) এর স্ত্রীর চরিত্রে শ্রিয়া সারান (আওয়ারাপান সিনেমার সেই কিউট মেয়েটা) পারফেক্ট ছিলো, তার উদ্বিগ্ন ভাবভঙ্গী ও সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।

রাগী পুলিশের আইজি ও পরিবর্তীতে আবেগী মায়ের চরিত্রে “তাবু” অসাধারণ ছিলেন, তাবুর স্বামীর চরিত্রে রাজাত কাপুরও ঠিকঠাক ছিল, স্ক্রিনে আরো বেশি সময় পেলে ফাটিয়ে দিতেন। অজয়ের বড় মেয়ের চরিত্রে ঈশিতা দত্ত (তানুস্রি দত্তের ছোট বোন) ও ছোট মেয়ের চরিত্রে মৃণাল জাদপ কেও বেশ ভালো লেগেছে। এই পিচ্চিটাকে বেশ ইনোসেন্ট ও অ্যাডোরেবল লেগেছে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




