somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিতর্কিত ঐতিহাসিক প্রেমের গল্প “Bajirao Mastani “!!!

২০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে প্রেম-ভালোবাসা আবেগ অথবা অনুভূতির সংমিশ্রণে সর্বদায় রহস্যময়। কখনো প্রেমময় সম্পর্ক প্রশংসায় মুখরিত হয়েছে কখনো আবার জর্জরিত হয়েছে সমালোচনায়। যুগে যুগে ভালোবাসার সম্পর্ক গুলো সম্মুখীন হতে হয়েছে নৈতিকতার সীমারেখায়, পারিবারিক অনিশ্চয়তায় , সামাজিক বাঁধা এবং ধর্মীয় ভাবনায়। তাই প্রেম-ভালবাসার ব্যাপারটি আপেক্ষিক বলায় শ্রেয়, ভালমন্দ অনেকটা নির্ভর করছে ব্যাক্তি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির উপর। তেমনি একটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক প্রেমের গল্প “বাজিরাও মাস্তানী”। আঠারো শতকে মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশোয়া “বাজিরাও বাল্লাল” ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী “মাস্তানী” এর মহাকাব্যিক প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি “বাজিরাও মাস্তানী” সিনেমাটি।

বাজিরাও মাস্তানী (২০১৫)
জনরাঃ হিস্টোরি । রোমান্স । ড্রামা
আইএমডিবি রেটিংঃ ৭.৩/১০
কাস্টঃ রনভীর সিং, দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, তানভি আজমি প্রমুখ।
স্ক্রিনপ্লেঃ প্রকাশ আর কাপারিয়া
সিনেমাটোগ্রাফারঃ সুদীপ চ্যাটার্জি
সঙ্গীত ও পরিচালকঃ সঞ্জয় লীলা বনশালী


সিনেমার গল্পের শুরু হয় আঠারো শতকের ছত্রপতি(রাজা) সাহু এর মন্ত্রীসভায় নতুন পেশোয়া নিয়োগ নিয়ে। নিজের বুদ্ধিমত্তা ও যুদ্ধের রণকৌশলীর দক্ষতার কারনে “বাজিরাও বাল্লাল” নতুন পেশোয়া হিসেবে নির্বাচিত হয়।
দায়িত্ব পাওয়ার পরেই শুরু হয় তার যুদ্ধ জয়ের দুঃসাহসী অভিযান। অসামান্য দক্ষ রণকৌশলীর জন্য জয়ী হতে থাকেন একের পর এক যুদ্ধে। এইদিকে যুদ্ধে থাকা অবস্থায় বাজিরাও এর জন্য মহলে অপেক্ষা করতে থাকে তার স্ত্রী “কাশীবাঈ”।
অন্যদিকে বুন্দেলখণ্ডের রাজা “ছত্রশাল” যুদ্ধের জন্য সাহায্য চেয়ে তার কন্যা “মাস্তানি” কে পাঠান পেশোয়া বাজিরাও এর কাছে। এখান থেকেই মাস্তানির সাথে বাজিরাও এর পরিচয়, পরবর্তিতে প্রনয়ে রুপান্তরিত হয়। তারপর সম্পর্কের টানাপোড়ন নিয়ে সিনেমার গল্প এগিয়ে যায়।


সঞ্জয় লীলা বনশালীর অনেকটা ড্রিম প্রোজেক্ট ছিল এই সিনেমা। দীর্ঘ বারো বছর আগে তিনি এই সিনেমাটি নির্মান করতে চেয়েছিলেন, কাস্টিং ভাবনা ছিল বাজিরাও চরিত্রে সালমান খান, মাস্তানী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রায় এবং কাশীবাঈ চরিত্রে রানী মুখার্জি। কিন্তু বিভিন্ন কারনে এতদিন হয়ে উঠেনি সিনেমাটি। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের “রামলীলা” জুটি রনভীর ও দীপিকা এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কে নিয়ে বনশালী নির্মান করলেন “বাজিরাও মাস্তানী”
ব্যাক্তিগতভাবে সঞ্জয় লীলা বনশালীর সিনেমা ভাল লাগার কারন গুলো হচ্ছে, গল্প বলার নাটকীয় ধরন, রাজকীয় সেট ডিজাইন, সঙ্গীত ও তার পার্ফেকশনিস্ট স্বভাবের মেকিং।

হাম দিল দে চুকে সানাম, দেবদাস, ব্ল্যাক, সাওয়ারিয়া, রামলীলা সিনেমা গুলো তার বড় প্রমান। এই সিনেমাতেও এই বিষয় গুলোতে সে হতাশ করেনি। ফলাফল এবারের ফিল্মফেয়ারে ১৪টি নমিনেশনেসহ মোট ৯টি ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার পায় সিনেমাটি।
Bajirao Mastani সিনেমটির ভাল লাগার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে নাটকীয় প্রেমের উপস্থাপন , চোখ ধাঁধানো সেট ডিজাইন, সিনেমাটোগ্রাফি, শ্রুতিমধুর গান, অসাধারন ডায়লগ এবং অসামান্য অভিনয়।

আর আশাহত হয়েছি পর্যাপ্ত যুদ্ধের দৃশ্য না দেখানোর জন্য। সিনেমার ট্রেইলার দেখে আশা করেছিলাম যে ঐতিহাসিক কয়েকটি মন-মুগ্ধকর যুদ্ধের দৃশ্য দেখতে যাচ্ছি বোধহয়। তাছাড়া সিনেমার প্রথম দিকের গল্প অনেকটা ধরগতির মনে হয়েছে। এই দুটো দিক ছাড়া বাকিসব বেশ ভাল ছিল।


অভিনেতাদের মধ্যে প্রথমেই রনভীর সিঙ্গের কথা বলি, নিঃসন্দেহে রামলীলার পরে এটা তার ক্যারিয়ারের সেরা কাজ ছিল। একজন মারাঠা যোদ্ধার চরিত্রে তার শারীরিক কাঠামো, অঙ্গভঙ্গি, ভাষা দারুন মানানসয় ছিল। রনভীর এই চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য ১৮দিন টানা হোটেলের কামড়ায় বন্দী থেকে নিজেকে তৈরি করেছিল এবং সে সফল, পেয়েছে প্রথমবারের মত ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার।
মাস্তানীর চরিত্রে দীপিকা পাড়ুকোন এর অসামান্য অভিনয় ভুলার নয়। তার সৌন্দর্য, ডায়লগ বলার ধরন, ইমোশনাল দৃশ্য গুলোতে এক্সপ্রেশন সত্যি প্রশংসনীয়। আশা করি মাস্তানী চরিত্রে সিনেমাপ্রেমিরা তাকে আজীবন মনে রাখবে।
সিনেমায় রনভীর আর দীপিকার কেমেস্ট্রি দারুন ছিল।

কাশীবাঈ চরিত্রে প্রিয়াংকার পার্ফমেন্স ছিল সেরা, পতিব্রতা নারী, ধৈর্যের নিদারুণ প্রমান আর বিষাদের অভিব্যাক্তির দারুন নিদর্শন ছিল এই ক্যারেক্টারটিতে। ব্যাক্তিগতভাবে সিনেমায় এই ক্যারেক্টারটির জন্যই নৈতিকগত দিক থেকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা অসাধারন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এই ক্যারেক্টারটি। প্রিয়াঙ্কা এই পার্ফমেন্স এর জন্য ফিল্মফেয়ারে বেস্ট সাপোর্টীং এক্ট্রেস এর পুরষ্কারও পেয়েছেন।
তাছাড়া রাধাবাঈ চরিত্রে তানভি আজমিও দারুন পার্ফমেন্স করেছেন। বিধবা মায়ের চরিত্রে বেশ ভাল অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার অন্যান্য চরিত্র গুলোও নিজনিজ জায়গা থেকে ভাল অভিনয় করে গেছেন।

পরিশেষে, সিনেমার গল্প বিতর্কিত হলেও ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি আর গল্প উপস্থাপনের কারনে সিনেমাটি অনেক ভাল লাগবে আশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:৩৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×