somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজনী-পিক্সারের অসাধারন তিনটি অ্যানিমেশন মুভির সংক্ষিপ্ত রিভিউ!!! [Up, WALL·E, Ratatouille]

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অ্যানিমেশন মুভির ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত ধারন হচ্ছে এগুলো শুধু ছোটদের জন্য, যার মুখ্য কাজ হচ্ছে শিশুদের আনন্দ দেয়া। প্রথমত, ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনে করি আনন্দ নেয়ার অধিকার সব বয়সী মানুষেরই রয়েছে। তাছাড়া অ্যানিমেশন মুভি দর্শকদের শুধু আনন্দ দেয়ার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই, সাথে আবেগ অনুভূতি এবং জোরালো বার্তার সংমিশ্রণও রয়েছে।

অ্যানিমেশন মুভি সব বয়সী দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে “পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও” এর মুভি গুলোর অবদান রয়েছে। কনসেপ্ট ও নির্মান-কৌশলীর দিক থেকে অন্যান্য প্রোডাকশন হাউজ গুলোর চেয়ে অনেক ভিন্ন ডিজনী-পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওর কোলাবোরেশন। এই স্টুডিও মজাদার গল্পের মাধ্যমে নাটকীয় ভাবে শিক্ষামুলক ও প্রেরণামূলক বার্তা দিয়ে থাকে। যার দরুন সকল শ্রেণির দর্শকদের কাছেই মুভি গুলো সমানভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমন তিনটি প্রিয় ডিজনী-পিক্সার অ্যানিমেশন মুভি নিয়ে এই লেখায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবোঃ



◆Up (2009)
সর্বকালের সেরা অ্যানিমেশন মুভির তালিকা তৈরি করতে গেলে আমি নিঃসন্দেহে “আপ” সিনেমাটিকে অনেক উপরে রাখবো।
রোমান্টিক ও কমেডি ধরনার এই সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে ভালোবাসার এক দারুন নিদর্শন। দেখানো হয়েছে জীবনের শেষবেলায় এসেও ভালোবাসার মানুষটির ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মূল্যায়ন করার এক অসাধারন এডভেঞ্চার।
অস্কারজয়ী এনিমেটর এবং “টয় স্টোরি”, “ইনসাইড আউট” খ্যাঁত পিট ডকটারের পরিচালনায় ২০০৯ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। পিক ডক্টর ২০০৪ সালে এই প্রোজেক্ট এর কাজ শুরু করেন। সে চেয়েছিল এমন একটি গল্প বানাতে যেখানে একজন মানুষ জীবনের পড়ন্ত বেলায় ভালোবাসার কারনে সব পিছুটান ও ক্লান্তিকর জীবন ছেড়ে রোমাঞ্চকর কিছু করবে।
এবং পিট ডক্টর সার্থকও হয়েছেন,পর্দায় আনিমেশনের মাধ্যমে তৈরি করেছেন একটি সার্থক অনুধাবন মুলক রোম্যান্টিক ও রোমাঞ্চকর গল্প।



◆WALL·E (2008)
“ওয়াল-ই” সিনেমাটি গল্পের শুরু মুলত দূরবর্তী ভবিষ্যতের ওয়াল-ই নামের একটি রোবটকে নিয়ে যাকে তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য।
মানুষ বিহীন ও ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ পৃথিবীতে ওয়াল-ই’র দেখা হয়ে যায় আরেক রোবট “ইভ” এর সাথে, যাকে মহাকাশ থেকে মানুষেরা পাঠিয়েছে পৃথিবীতে প্রাণের অনুসন্ধান করার জন্য।
ধীরে ধীরে ওয়াল-ই ও ইভের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। তারপর থেকে নানাবিধ ঘটনার মধ্যে শুরু হয় দুজনের রোমাঞ্চকর এডভেঞ্চার।
সিনেমাটিতে খুব মজাদার ও উত্তেজনাপূর্ণ গল্প কে মানবিক অনুভূতির সাথে সংমিশ্রণ করে সুক্ষভাবে দেখানো হয়েছে ভোগবাদ (ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের শোষণ পরিমান বাড়ানো) ,কর্পোরেটবাদ ও পরিবেশ সংরক্ষণের মত জটিল বিষয় গুলোকে। নিঃসন্দেহে ডিজনী-পিক্সারের সেরা সিনেমা গুলোর মধ্যে অন্যতম “ওয়াল-ই”
সিনেমাটি পরিচালনা ও স্টোরির দায়িত্বে ছিলেন “ফাইন্ডিং নিমো” খ্যাঁত এন্ড্রু স্টান্সন। কো-রাইটার হিসেবে ছিলেন পিট ডক্টর।



◆Ratatouille (2007)
“রেটাটুই” হচ্ছে ফ্রান্সের এক প্রকার ডিশের (খাবারের পদ) নাম। সিনেমাটির গল্প এক ইঁদুরের শেফ (রাঁধুনি) হওয়ার স্বপ্ন ও স্বপ্ন পুরনের পথচলা নিয়ে।
‘রেমি’ নামের এক ইঁদুর ফ্রান্সে বসবাস করে। রেমির স্বপ্ন সে একজন শেফ হবে। শেফ হিসেবে সে আইডল মানে বিখ্যাত শেফ “গুস্ত” কে। গুস্ত বিশ্বাস করেন যে কেউ ই রাধতে পারে। এই মূলমন্ত্র তে বিশ্বাস রেখে রেমি শেফ হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায় কিন্তু রাঁধুনি হতে গিয়ে সে নিজ পরিবার এবং মানুষের কুটুক্তি মুলক মন্তব্য ও নানাবিধ সমস্যার মুখে পরতে থাকে।
সিনেমার মূল বার্তা হচ্ছে স্বপ্ন পুরনে পথে অনেকেই রুখে দাড়াতে চাইবে, অনেক বাধা বিপত্তি আসবে কিন্তু এই বাধা অতিক্রম করে নিজের স্বপ্ন কে ফলো করাই শ্রেয়।
সিনেমার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন “দ্য ইঙ্ক্রেডিবলস” খ্যাঁত ব্র্যাড বার্ড।
এই সিনেমার প্রেরণা মুলক কিছু উক্তিঃ
*If you focus on what you left behind you will never see what lies ahead
*Not everyone can become a great artist, but a great artist can come from anywhere
-You can’t change nature, son!
-Change IS nature, dad, the part we can influence. And it all starts when we decide.

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:১৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্তন (কবিতা)

লিখেছেন স্বাধীন আকন্দ, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯

মুঠোফোনের রিলে হাসে যে তরুণীটি
হিন্দি-সিনেমার সংলাপ নকল করে
মুহুর্তেই সে বদলে গিয়ে
নাচতে থাকে আরেক তরুণী

এভাবে দেখি তাকে হাঁটতে, ফোনটি মুখের সামনে
কেমন অন্যমনস্ক, গলিটা যেন গিলে খাচ্ছে তাকে
হঠাৎ মনে হলো, আমার প্রেমিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: নাচ

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৫




মনে পড়ছে হরিদ্রাভ আলোর সড়ক
পিঙ্গলবর্ণ সূর্য-শিশুরা সূর্যাস্তের দিকে
সারাদিন ম্যাচের বাক্স খুঁজে-খুঁজে হয়রান;
গোরস্থানের ভিতর অনেক লিচু গাছ
ভাঙা কবর থেকে শিয়ালেরা রাতভর ডাকে।
মানুষের উল্টোদিকের ছবি তুলতে-তুলতে ভাবি,
একদিন এই জুনে পাঠিয়েছিলে চিঠি
মর্চে পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ফাঁদ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



আজ সারাদিন অঝর ধারায় বৃষ্টি, থামার কোনো লক্ষণ নেই। যশোর-নড়াইল মহাসড়কের রূপগঞ্জের এক নির্জন ফিলিং স্টেশনের একপাশে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আতিক।

রাত এখন আড়াইটা। চারপাশ শুনশান নীরব। আতিকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×