somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অল্প বিদ্যার অনুভব...

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না বুঝে অল্প বিদ্যা সবসময়ই ভয়ঙ্কর।
যে শিখছে তার জন্যও ভয়ঙ্কর, আশেপাশের মানুষের জন্যও ভয়ঙ্কর
আর যে বিষয়টি শিখছে সেই বিষয়টিরতো গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাওয়ার অবস্থা হয়!

অনেক ডিপার্টমেন্টেই সাবসিডিয়ারি সাবজেক্ট হিসেবে জেন্ডার বিষয়ক কোর্স করানো হয়। কোর্সের উদ্দেশ্য থাকে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জেন্ডার সচেতন করা, বাস্তব জীবনে এ বোধটা কতটুকু কাজে লাগাবে তা সম্পর্কে ধারণা দেয়া। বাকিটুকু কে নিজের জীবনে কতটুকু কাজে লাগাবে তা তার তার নিজস্বতার উপর নির্ভর করে।

কিন্তু আমি জানি না কেন এমন না হয়ে, উলটা একটা অবস্থা তৈরি হয়!

ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথমেই যে ধারণাটা নিজের মাথার একদম গভীরে ঢুকিয়ে নেয় তা হল জেন্ডার মানে হল এখানে আমি শুধু নারী-পুরুষের বৈষম্য সম্পর্কে শিখছি যেখানে পুরুষ সবসময় ভিলেন আর নারী হচ্ছে বাংলা সিনেমার অবলা নায়িকা যে শুধুই নির্যাতনের শিকার হয়। জেন্ডারের মধ্যে শুধু নারী-পুরুষ ছাড়াও যে আরো অনেক কিছু আছে তা হয় কারো চোখে পরে না, নাহলে আমরা চোখে ফেলতেই চাই না।

একটা পুরুষ (ছাত্র) যখন মাথায় নিয়ে নেয় যে সকল কিছুতেই তাকে/তার জাতিকে দোষ দেয়া হচ্ছে তখন স্বভাবিকভাবেই তার মধ্যে একটা অনীহা চলে আসে, জেন্ডার সচেতন হওয়ার কোন ইচ্ছাতো তার থাকেই না বরং যারা নিজেদেরকে জেন্ডার সচেতন (!) হিসেবে দাবি করেন তাদের কাছ থেকে সে দূরে থাকতে চায়, তাদেকে সে অবজ্ঞার চোখে দেখা শুরু করে, আরেহ! এরা তো পাগল! আবার আমার শত্রুও!

নারীদের (ছাত্রীদের) ক্ষেত্রে প্রভাবটা হয় আরো ভয়াবহ! এরা নিজেদেরকে সকল ব্যপারেই পুরুষের ভিক্টিম হিসেবে ধরে নিয়ে পুরুষ জাতিকে ক্রমাগত দোষারোপ করতে থাকে, মানে ব্যপারটা হয় এমন যে, এই আমার পেন্সিলটা ভেঙ্গে গেসে! নিশ্চয়ই আমার পাশে বসা পুরুষ বন্ধুটির ষড়যন্ত্র! ও তো পুরাই প্যাট্রিয়ারকাল!

স্বভাবিকভাবেই জেন্ডার পড়ার সময় ফেমিনিজম, নারী আন্দোলন এই টার্মগুলোর সাথে তারা পরিচিত হয়। ফেমিনিজম পড়তে গিয়ে পড়ে প্রথম চারটি স্কুল সম্পর্কে- লিবারেল, র‌্যাডিকাল, মার্ক্সিস্ট আর সোশ্যালিস্টদের সম্পর্কে যার প্রতিটিরই অরিজিন কিন্তু ওয়েস্টার্ন ফেমিনিজম। তো থিওরিটিক্যাল কথাগুলোর সাথে অনেক জায়গায়ই আমাদের কালচারের সাথে তারা মেলাতে পারে না। আর যেহেতু তারা মাত্র ৬মাসের জন্য একটা কোর্স স্বাভাবিকভাবেই তাদেরকে অত গভীরে গিয়ে আমাদের দেশের কন্টেক্সট অনুযায়ী থিওরীগুলোকে বোঝানোর সময়ও থাকে না। ফলাফল হয় হিতে-বিপরীত! কিছু মানুষ ফেমিনিজম সম্পর্কে উলটো ধারণা নিয়ে দূরে সরে যায়, কিছু মানুষ হুট করেই এমন এক্সট্রিমলি এটা প্র্যাকটিস করা শুরু করে যে তাও ঠিক আমাদের কালচারাল স্টেরিওটাইপের সাথে যায় না। ভাই রে! নিজেকে ফেমিনিস্ট দাবি করা এত সোজা না! ১০০বছর বাঁচলেও মনে হয় না আমি নিজেকে ফেমিনিস্ট হিসেবে দাবি করতে পারবো যদি না আমি আমার কন্টেক্সট বুঝি!

স্বাভাবিকভাবেই ৪ক্রেডিট এর ৬মাসের একটি কোর্সে দুনিয়া শিখে ফেলা যায় না, সবকিছু অনুভবও করা যায় না। যন্ত্রের মত কিছু টার্ম শিখে আর কিছু থিওরি পড়ে আর যাই হোক জেন্ডার সচেতন হওয়া যায় না, বরং উল্টোটা হতে পারে। অন্য বেসিক কোর্সগুলো হয়ত আমাদের মধ্যে সমাজের কোন একটা নির্দিষ্ট অংশের প্রতি বিদ্বেষ বা ঘৃণা তৈরি করে না, কিন্তু এই ছোট্ট একটা জেন্ডার কোর্স অনেকসময়ই তা তৈরি করে দেয়।

তাহলে কি আমরা জেন্ডার নিয়ে কোর্স করবো না? নাকি কোর্স করে বলবো টিচারটা পাগল/ টিচারটা ভালো করে পড়ায় না/ ভুলভাল পড়ায়??

উহু! জীবন থেকে জেন্ডার তো না পড়লেও বাদ দেয়া যায় না! আমি কথা বললেও তার সাথে জেন্ডারের একটা সম্পর্ক থেকেই যায়। তাই বাদ তো দেয়া যাবেই না, অন্যকে দোষারোপও করা যাবে না। আমরা যেটা করতে পারি কোর্সটা পড়ার সময় থিওরির কথা বেশি চিন্তা না করে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে যৌক্তিকভাবে মেলাতে পারি, প্রতিটা বিষয় পড়ার আগে-পরে নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করতে পারি, চোখ মেলে নিজের আশেপাশে কি ঘটছে তা দেখতে পারি। এই বোধটুকু যদি আগে নিজের ভিতর নিয়ে আসতে পারি আর নিজের ব্রেইনের যৌক্তিক অংশটাকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আর অন্য কেউকেই পাগল মনে হবে না, নিজেকেও দোষী মনে হবে না, বরং শুধুমাত্র নিজের জীবনে (ছেলে-মেয়ে উভয়েরই) জেন্ডার সচেতনতা থাকাটা যে কতটা জরুরী তা বুঝতে পারবো বলে আশা করি।

সুতরাং অল্প বিদ্যা দিয়ে শুধু পরীক্ষায় পাশ করে ভুলে না যেয়ে, অল্প বিদ্যা দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করার সাথে সাথে নিজেকে অনুভব করতে শিখি...... :)

!! ধন্যবাদ !!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৩৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×