ন্যাংড়া ভিখারী, ময়লা জামায় ঢাকা শরীর,
বাঁশের লাঠীতে পা লেপ্টে লেপ্টে হাঁটে।
ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে বিকেলে ফিরে বাড়ি।
রোপা আমন ক্ষেতের ধারে কাদায় ভরা
সরু আইলে হেঁটে চলা দায় যখন সকলের।
ভিখারি ক্ষেতের আইলে শরীরের ভর দিতেই
পা দু’খানা পিছলায়, ধপাস লুটায় জমিনে।
সোজা চলতে গিয়ে কফিলের জমিনে
রোপা আমানের চারা লেপটায় ভিখারী।
জমিনের মালিক কফিল রাগে গদগদ
ছুটে চলে স্ববেগে রকটের মতন।
ভিখারীর কাছে পৌছেই লাগায় চপেটাঘাত,
হামলে পড়ে আস্ত একটা ষাড়ের মতন।
ভিখারী চেঁচিয়ে ওঠে আর কফিল জোরে
আরো জোরে মারে ক’য়েক ঘা কিল ঘুসি।
তুফান চলছে তো চলছেই থামানো দায়।
ভিখারীর সারা শরীর কাদায় মাখামাখি
চেনা দায় যেন অন্য এক প্রাণী হাজির।
কফিলের হুংকার থামে ব্যথায় হাতের
আঙুল টানে, মারের চোটে ক্লান্ত নিজেই।
এমনি কফিল সারা গাঁয়ে চেঁচিয়ে ঘুরে
বেজায় মর্দ কফিল, অন্য আরেক দিন
রজব আলি বৃদ্ধ গ্রামবাসী কফিলের জমিতে
নামে ঘাস নিতে চায় আপন মনে করে।
কফিল বরদাস্ত করতে না পেরে জোরে
ধাক্কা মারে রজব আলি কে ফেলে দেয়।
রজব আলি ক্লেদে বলে কফিল তুমি কি
আমার কাঁধে চড়ে ষাড়ের লড়াই,পুকুরে
সাঁতার, যাত্রা গান আর মেলায় ঘুরনি?
কফিলের হুংকার আরো বাড়ে, চেঁচায়
গলা টিঁপে ধরব আর কিছু বলার চেষ্টা
করলে, এমনি কফিল, সবাই চেনে।
একদিন হঠাৎ কফিলের হৃদপিন্ড অকেজো
নিঃশ্বাসে জোর নেই, হাতের নড়াচড়া নেই
চোখ দু’টি শান্ত, সারা শরীর ক্লান্ত, শীতল।
উঠুনে অনেক মানুষ, কান্নার রোলভাসে।
আস্তে আস্তে রটে যায়, কফিল বেঁচে নেই।
কফিলের অহংকার, তেজ, রাগ পুরুষালীদম্ভ
সবই বনে ঘেরা কবরে শায়িত, আজব কথা।
জমির মালিক কফিল জমিনেই মিশে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

