somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

HannanMag
সাদাসিদে কথা কাজের ফাঁকে কিছু করা,ব্যস্ততার মাঝে যাকিছু ভাবি তাই লিখি।

ইথিওপিয়ার মানুষ-জাতি –ভাষা ৩ ( ওরোমো জাতি)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২.১ ওরোমো নৃগোষ্ঠী (Oromo):
বর্তমান ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ওরোমো। ইথিওপিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪.৬০% হল ওরুমো। এই জাতির লোকেরা কিছু অংশ কেনিয়া, সোমালীয়ায় বাস করে। ইথিওপিয়া সহ হর্ণ অব আফ্রিকায় এই জাতির লোকেরা একটা বিশাল জায়গা দখল করে আছে। ইথিওপিয়ায় বর্তমানে ৩৫ মিলিয়ন ওরুমো জাতির লোক বসবাস। আফ্রিকা সহ সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে ওরোমোদের সংখ্যা প্রায় ৬০ মিলিয়িন। অন্যতম বৃহ্ত জাতি। ওরোমোদের নিজস্বভাষা আছে। ওরোমো তাদের মাতৃভাষা।এই ভাষা আবার আফান/ আফোয়ান ওরোমো (Afaan/Afoan Oromo)কিংবা ওরোমিফফা ( Oromiffa) বলা হয়ে থাকে। এই ভাষা মূলত আফ্রো –এশিয়না ভাষা গোষ্ঠী কুশাইট এর অন্তর্ভুক্ত। ১৮৯৩ সালে প্রথম ওরোমো শব্দটি ইউরোপীয়দের লেখায় পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে তার বিস্তার ঘটে। বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয়ার্ধে এই ভাষার ব্যাপ্তি আরো বৃদ্ধিপায়। সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে। ওরোমোদের আদি ইতিহাস জানা কঠিন। কেননা তাদের লিখিত ইতিহাস নেই। এই জাতির লোকেরা লৌকিক প্রথা অনুসরণ করত। মুখে মুখে তাদের বংশ গৌরব পরবর্তি প্রজন্মের কাছে তোলে ধরত। ষোড়শ শতাব্দির আগ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। উপনিবেশিক দলিল দস্তাবেজে তাদের উল্লেখ করা গাল্লা (Galla)নামে।অনেক ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানী এবং জাতিতাত্ত্বিক গবেষকদের মতে ওরোমো মানুষেরা সম্ভবত শামো হৃদের (lake Shamo/ Chamo) পাশে এবং স্টিপানির (Stepanie) আসপাশের এলাকায় তাদের বসতি, বিস্তার ঘটেছিল।তাদের উৎপত্তি হয়েছে কুশাইটিক জাতি থেকে।কুশাইটিক জনগন পূর্ব ও উত্তর পূর্ব আফ্রিকায় বসতি করেছিল। প্রথম মিলিনিয়ামের প্রাথমিক দিকে তাদের অস্তিত্ব ছিল বলে ইতিহাস প্রমাণ করে। ষোড়শ শতাব্দিতে আবিসিনিয়া- আদল যুদ্ধের পরে ওরোমোরা ইথিওপিয়া সাম্রাজ্য আর আদল সালতানাতে ছড়িয়ে যায়। হার্লা জাতির লোকেরা ইথিওপিয়া আর সোমালিয়ায় ওরোমোদের সাথে মিশে যায়।
ইতালিয়ান মানচিত্র বিশারদ ফ্রা মরো (Fra Mauro ) ১৪৬০ সালে তার অংকিত মানচিত্রে ওরোমোদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সেখানে গাল্লা শব্দ ব্যবহার করেছেন। ইথিওপীয় ধর্মযাজকদের পরামর্শে তিনি এই কাজ করেছিলেন। এই যাজক ১৪৪১ সালে ইতালি ভ্রমণ করেছিলেন। নদী এবং জঙ্গল বুঝাতে গাল্লা শব্দ ব্যবহার করা হত। তাছাড়া উচু মালভূমিতে পশুচারণ কারিদেরকে বুঝাতে এই শব্দের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মুহাম্মদে হাসেন আমহারা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য আলোচনা করতে গিয়ে ওরোমোদের কে গাল্লা বলেছেন। ইতিহাসে প্রমাণিত হয় যে পঞ্চদশ শতকের আগেই ওরোমোরা ইথিওপিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের উচ্চভূমিতে সুপ্রতিষ্ঠিত।আবার অনেক ওরোমো অন্যান্য উপজাতিয় গোষ্ঠীর সাথে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখেছিল।ওরোমোরা তাদের নিজেদের কে কখনও গাল্লা নামে পরিচয় দেয়নি। বরং তারা একে তাদের প্রতি অন্যায়ভাবে আরোপিত মনে করেছে। তাদের কে নিন্মশ্রেণীর কিংবা বর্বর বুঝাতেই এই শব্দটা ব্যবহার করা হত। বার্টন এই বক্তব্যেকে স্বীকার করেন। তিনিও মনে করেন যে গাল্লার কাছাকাছি অনেক বর্বর শব্দ অন্যান্য জাতির ভাষায় পাওয়া যায়, যেগুলো ওরোমোদের কে বুঝাতে ব্যবহৃত হত। যেমন প্রকৃতি পুজারি, বর্বর, নিন্মশ্রেণীর, শত্রু, ধর্মহীন ইত্যাদি। আফার ভাষায় পাওয়া যায় ওরোমোদের কে বুঝাতে যে শব্দ ব্যবহৃত হয় তা’হল মোরিন (Morin), গল্লি (Galli- Plural of Galla ) মানে হল জনতা ও বিদেশি। এই শব্দগুলো সাধারণত মোডাই শব্দের বিপরীতে ব্যবহৃত হত। মোডাই (Moddai) মানে হল উচ্চবংশীয়। অন্যদিকে আনুয়াক ভাষায় উচু মালভূমিতে থেকে অভিবাসনকারী জনগণ একসাথে গাল্লা বলে ডাকা হয়। এতে করে ওরোমো সহ আমহারা সবাইকে গাল্লা নামে ডাকা হয়। অন্যদিকে তিগরে ভাষায় আমহারা জাতিকে অর্ধেম গাল্লা বলে স্বীকার করে। এখানে উল্লেখ্য ১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত ওরোমোদের কে তিরস্কার না করেই ইউরোপীয়রা গাল্লা শব্দটি ব্যবহার করে। তবে ওরোমোরা এই শব্দটিকে তাদের প্রতি অবিচার, অন্যায়, অন্যায্যতার প্রতিক হিসাবে দেখে; তারা একে জাতিবিদ্বেষাক্তক আক্রমন হিসাবে মনে করে। বর্তমানে সবাই একমত যে ওরোমো শব্দের অর্থহিসাবে বলা হয়, “জন্মগতভাবে স্বাধীন মানুষ” ।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×