somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য ৭১-র-গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ করা হোক

১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসান ইমাম সাগর: বাংলাদেশের একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী গুচ্ছ ভাস্কর্য “৭১-র-গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি” । ভাস্কর্যটি অবস্তিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নতুন ভবনের সামনে। ভাস্কর্যটির সামনে ও পেছনে দুটি অংশ রয়েছে । অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন শিল্পি ভাস্কর রাসা। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির চিত্রকে তিনি উপস্থাপন করেছেন তাঁর শৈল্পিক ভাস্কর্যের মাধ্যেমে। এই শিল্পকর্মে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন সহকারি ভাস্কর রাজীব সিদ্দিকী,রূমী সিদ্দিকী,ইব্রাহীম খলিলুর রহমান ও মিয়া মালেক রেদোয়ান । ভাস্কর্যটির কাজ শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ অক্লান্ত প্ররিশ্রমের পর এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ১৯৯১ সালে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম খান ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এর শুভ উদ্বোধন করেন। ভাস্কর্যের এক পাশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চ রাতে ঢাকায় পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরচিত গণহত্যার দৃশ্য। ইয়াহিয়া খান মাতাল অবস্থায়, পাকিস্তানী হানাদাররা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, গর্ভবতী মাকে অত্যাচার করে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। যে নারীকে কখনো চার দেয়ালের বাইরে আসতে দেখা যায় না, তার দেহটাও বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছে। গায়ে লেগে আছে নরপিচাস পাক হানাদার বাহীনির নির্যাতনের নির্মম চিত্র। একপাশে আছে একটি পত্র-শূন্য বৃক্ষ। তাঁর উপর একটি শকুন বসা। লাশের উপর লাশের স্তুপ। দেশটা যেন শশ্মানে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ ধরে এনে সারি বদ্ধভাবে দাড়করিয়ে হত্যা করে হয় এই জগন্নাথের অভ্যন্তরে। হত্যা পর লাসের স্তুপ সাজিয়ে গণকবর দেয়া হয় বর্তমান ভাস্কর্যটির নিচে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর এখান থেকে কয়েক ট্রাক মৃত মানুষের দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। গণহত্যায় নিহত এ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের স্মৃতি রক্ষার্থে ভাস্কর্যের এক অংশে নির্মাণ করা হয়েছে ৭১ র গণহত্যা। যুদ্ধের সময় নিহত ব্যক্তিদের এই সর্ববৃহৎ বদ্ধভূমির স্বাক্ষি স্বরূপ দাড়িয়ে আছে ভাস্কর্যটি। তার বিপরীত পাশেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ভাস্কর্য। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জালাময়ী ভাষণে বলেছিলেন, “তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে”। ভাস্কর্যটির এক অংশে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। বাংলার কামার ,কুমার , জেলে, কৃষিজীবি মানুষ , মোট কথা সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে। যার যা কিছু আছে দা, বটি, খুন্তি ,কোচ, বর্শা , সবকিছু নিয়ে যুদ্ধের মুখোমুখি হয়। পরের অংশে দেখা যায়, সবাই আধুনিক অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। যুদ্ধে নামার পরে যখন যোদ্ধারা বুঝতে পারলো যে, পুরাতন পদ্ধতি দিয়ে তাঁদের সাথে পেরে ওঠা সম্ভব না তখন সবাই প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করলো। যেখানে রয়েছে ছোট, বড়, নারী, পুরুষ সব বয়সের মানুষ। একেবারে ডান দিকে দাঁড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ নেওয়া সাহসী এক কৃষকের ছেলে। যার চোখে যুদ্ধ জয়ের নেশা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে সকলের চোখেই প্রতিশোধের নেশা। সবার মাথা একটু সোজা। মুখ লাল রং হওয়ার কারণ, রাগ হলে কালো মানুষের চেহারাও লাল বর্ণ ধারণ করে। আবার অন্যদিকে গণহত্যার রং ধুসর কারণ এটি আমাদের স্মৃতি তাই ।
বর্তমানে ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যলয়ের শোভা বর্ধনের এক অদ্বিতীয় শিল্পকর্ম । এর চারিদিকে আছে অপরূপ সৌন্দর্যময় পানির ফোয়ারা। ফোয়ারা ছাড়লে নয়নভিরাম এক দৃশ্যের অবতারনা হয়। রাতের বেলায় রঙ্গিন বাতির আলোয় এর রূপ যেন আরো মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। ভাস্কর্যের নিচে রয়েছে পানি, এটি হলো নদী মাতৃক বাংলাদেশের চিহ্ন,পানির ভিতরে রয়েছে বাংলা বর্ণমালা এটি আমাদের মাতৃভাষা চেতনাকে প্রমাণ করে। ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মানুষের মাঝে স্বাধীনচেতা ভাবনা আসে। আর বাংলার কাদা মাটির সংমিশ্রণে মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর পর বাংলার মাটি, মানুষ আর ভাষা নিয়ে একাকার হয়েই ভাস্কর্যটি উপরে উঠতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনায় সারাক্ষণ মুখরিত থাকে এই ভাস্কর্য চত¦র। ভাস্কর্যটি ঘিরে আছে দুটি শিক্ষাভবনে প্রায় ১২টি বিভাগ। নানা ধরনের উৎসব অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে এই চত্বরটি। সামরিক আইন বলবৎ,বাংলাদেশের স¦াধীনতা সূচনা,সামরিক দমন,যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তান্ডবলীলার মত একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকে এই স্মারক “৭১-এর গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি” ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠাতা শিল্পি ভাস্কর রাসা মন্তব্য করে বলেন, এই ভাস্কর্যটি করতে পেরে আমার অনেক ভাল লেগেছে। তবে এর সাথে আছে আত্মতুষ্টির অভাব। কারণ এটি আমি সম্পূর্ণ করতে পারিনি । আমি ভার্স্কযের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গণইতিহাসকে পাঁচটি ভাগে প্রকাশ করতে চেয়েছি, একাত্তরের গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি,ঘাতক, মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ এবং বিজয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্যে আমি দুটি করতে পেরেছি- গণহত্যা এবং প্রস্তুতি কিন্তু বাকি রয়েছে তিনটি- ঘাতক, মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ এবং বিজয়। তাই বাকি কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ চত্বর নামে ভাস্কর্যটি পূর্ণতা লাভ করবে। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থদের দাবি এই ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ করা হোক।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×