somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন পাঠ::তবু যীশু নয়, মুক্তি আনে স্পাটর্াকাস

১৮ ই জুন, ২০০৬ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার পড়াশোনার আগ্রহ প্রবল নয় কখনোই । একটানা লেগে থাকা হয়ে উঠেনা ।

এর মাঝে ও একেবারে নিজের আগ্রহে যা কিছু নিয়ে পড়াশোনা করেছি , তার ভেতর দাসপ্রথা অন্যতম ।

মানুষ কি করে মানুষের দাস হলো, কতটুকু নির্মম এই দাসত্ব, এই বর্বরতা র বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম --এ সব টানে আমাকে ।

এই ব্লগে আসার পর দেখলাম এখানে সব থেকে বেশী যা নিয়ে আলোচনা হয় তা হলো ধর্ম। ধর্ম বিষয়ে নিজের আগ্রহের ঘাটতি , কম পড়াশোনা, ধর্মের বাস্তবতায় বিরক্তি... সব মিলিয়ে এসব আলোচনায় তেমন জড়াতে পারিনা ।

তবু হঠাৎ ইচ্ছে হলো পড়ে দেখি যা নিয়ে আমার আগ্রহ সেই দাসপ্রথা --- তার প্রয়োগে বা বিলোপে ধর্ম গুলোর ভূমিকা কি ছিলো ?
কদিন ধরে ভাবলাম , পড়লাম ।
দেখলাম এর ব্যপকতা কম নয় । খুব ছোট করে কিছু বলার নয়।

ইচ্ছে হয়েছিল একটা ধারাবাহিক লিখি । দাস প্রথায় প্রত্যেকটাঐশী ধর্মের ভূমিকা , আলাদা আলাদা করে ।
না অতো ধৈর্য্য আমার জন্য নয় ।

শুরু করেছিলাম ইহুদীদের তোরা ( কোরানে উল্লেখিত তাওরাত) দিয়ে । একটা মজার ঘটনা পাই ।

মহাপ্লাবনের পর নুহ নবী তখন চাষাবাদ শুরু করেছেন বন্যার পলি জমা উর্বর মাটিতে । আংগুরের ব্যাপক ফলন হলো । একদিন দ্্রাক্ষা রস খেয়ে দিলেন ঘুম পুরো ন গ্ন হয়ে । পিতার ঘুমন্ত ন গ্ন শরীর দেখে ফেলল পুত্র হেম এবং ঘটনার বর্ননা দিল অপর দু ভাই শেম ও জাফেত কে । দ্্রাক্ষার নেশা কাটিয়ে ঘুম থেকে উঠার পর নবী নুহ জানলেন সব ।
রাগান্বিত নুহ অভিশাপ দিলেন হেমকে। হেমের পুত্র কেনান ও তার বংশধর দাস হবে শেম ও জাফেতের এবং তাদের বংশধরদের ।
ইতিহাস বলে এই কেনানের বংশধরই আফ্রিকার কালো মানুষ ।
হায় কালো মানুষের দল , ঐশী ধর্মই যখন দাসপ্রথাকে জাস্টিফাই করে তখন আর কি করা ? তোমাদের দাস থাকতে হবে আরো হাজার বছর
.......................................................................................

নাজারাতের যীশু একটা বাউন্ডুলে ছিলো । বাপের ঠিক নেই । ইহুদী হলে ও প্রার্থনা সভায় মন নেই ।
সংগী সাথী জেলে আর ধোপাদের নিয়ে যত আকাজ কুকাজ। মানুষের উপকার করে বেড়ানো ।
ও হ্যাঁওই ছোকরা আবার ভালো ম্যাজিক জানে । মাটির পাখীেেক ফুঁ দিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেয়, হাত বোলিয়ে অন্ধের চোখ ভালো করে দেয় , এমনকি মৃতকে ও জীবিত করে ফেলে ।
নাজারাথের ইহুদীরা প্রার্থনা সভার বদলে যীশুর আড্ডায় জোট বাঁধে । যীশু ধর্মের নামে রাবি্বদের শোষনের বিরুদ্ধে কথা বলে । সাধারনরা আদর করে তার নাম দেয় 'ইহুদীদের রাজা' । হায় এই রাজাকে ধর্মের বিরুদ্ধাচারনের অভিযোগে ক্রুশকাঠে বিদ্ধ করে ধার্মিকেরা ।

আমি গসপেলগুলো পড়ি । ম্যাথিউ , মার্ক, জন, লুক । আমি খুঁজি যীশুকি কোথা ও স্পষ্ট করে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করে গেছেন ? না পাইনা ।তবে কি তার সময় দাসত্ব ছিলোনা? তাতো নয় ! তার ব হু আগে থেকেই তো এই আমানবিকতার শুরু ।

ইউসুফ নবী দাস হিসেবে বিক্রী হয়েছিলেন । মুসা নবী মুক্ত করে নিয়ে আসার আগে বনী ইসরাইলরা তো দাস ছিলো ফেরাউনদের সাম্রাজ্যে ।
আর যীশুর সমসাময়িক সময়ে ই তো চলছে রোমানদের দাসত্ব আর দাসদের দিয়ে গ্লাডিয়েটর খেলা ।
অতো যে মানবিক যীশু, কই দাসত্বকে নিষেধ করে যাননি তো ?
জাহাজ ভরে ভরে কালো দাস নিয়ে আসলো যারা আমেরিকায় , ইংল্যান্ডে তারা তো যীশুর অনুসারী । তারা তো গীজর্ায় যায় । আমেন বলে প্রার্থনা করে যীশুর শান্তির বানীতে । দাস প্রথার হাজার বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে ও তো কোনো পাদ্্রীর নাম দেখিনা যিনি বলেছেন --- মানুষের মানুষের দাস , এর চেয়ে বড় কোনো পাপ নেই ।

অথচ যীশুর জন্মের পাঁচশো বছর আগে স্পার্টাকাস দাস বিদ্্রোহ করেছেন । দাসদের সংগঠিত করে মহাশক্তিশালী রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন কয়েক বছর । স্বপ্ন দেখেছেন একটা স্বাধীন ভূ-খন্ডের যেখানে কেউ দাস থাকবেনা ।

ক্রীস্টানরা যীশুর ক্রুশিফিকেশনকে নিয়ে গেছে একবারে অলৌকিকতায় । অথচ তার ব হু আগে স্পাটর্াকাসের 1200 দাস যোদ্ধাকে রোমানরা ক্রুশিফাইড করেছে নিষ্ঠুর ভাবে ।
........................................................................................

মানুষের দুভর্াগ্য মানুষ কখনোই মুল্যায়ন করেনি তার আসল নায়কদের । আসল নায়কেরা কখনোই অলৌকিকতার আশ্রয় নেয়নি, ছড়ায়নি ধুম্রজাল, সব ফলাফল রেখে দেয়নি পরকালে স্বপ্নময়তায় ।
মানুষ তার প্রকৃত মুক্তিদাতাদের বদলে রহস্যে রোমাঞ্চে ভরপুর , অলৌকিকতার ধোঁয়া ছড়ানোদের আরাধ্য ভেবেছে সবসময় ।

তাই কালো মানুষেরা ও স্পার্টাকাসের বদলে যীশুকেই ত্রাতা ভাবে যেমন বাংগালী হিন্দু মেয়েরা রামকৃষঞ পরমহংসের পুেেজা করে অথচ বিদ্যাসাগর , রামমোহন রায়রা যখন জঘন্য সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে লড়ছেন ,এই ধর্মীয় পুরুষ তখন ব্যস্ত তার ধ্যানে ।

কে জানে হয়তো আগামী দিনের মানুষ ঠিকই চিনে নেবে তার আসল নায়কদের ।
মানুষের চুড়ান্ত মুক্তির জন্য এই চিনে নেয়া বড় প্রয়োজনীয় ।

[আমি ইচ্ছে করেই এই পোস্টে দাসপ্রথায় ইসলামের ভূমিকা নিয়ে কিছু লিখিনি । পোষ্টটা বড় হয়ে যাবে সে জন্য । আর কিছু নয় । হয়তো অন্য কোনো পোস্টে লিখবো । যদি ধৈর্য্যটুকু না হারাই । তবে লিখাটা দরকার । ব্যাপার আছে অনেক ]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×