somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

। । 'লোকজ সংস্কৃতি':: সংরক্ষন, বিকাশ ও নাগরিক গাজোয়ারী । ।

০৬ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





[গাঢ়]
এই পোষ্টকে পুর্ববতর্ী পোষ্টের ধারাবাহিকতা ধরা যেতে পারে । মন্তব্যকারী গন বিশেষ করে, আনোয়ার সাদাত শিমুল ও জলিল ভাইয়ের মন্তব্য আরো কিছু ভাবনা সংযুক্তি ঘটায় । ধন্যবাদ তাদের দুজনকেই এবং অন্য সকলকে ও
[/গাঢ়]

প্রায়শ: এরকম অভিজ্ঞান হয় লোকজ গান/ সংস্কৃতি সংরক্ষন করতে হবে । নাগরিকগনের অপার বদান্যতা, ট্টেরোপলিস লাইফে থেকে ও লোকজ হাড় কংকাল তারা সংরক্ষন করতে চান ।
সংরক্ষনের স্বরুপটা কেমন হয়?
আমাদের ড্রয়িংরুমে লালনের পোট্টেট থাকে, শো-পিস হিসাবে একতারা ঝুলে , টিভি স্টুডিও চারকোন ঘরের ভেতর আমরা মাঝে মাঝে ধরে আনি বাউল হিরু শাহ, মন্টু শাহ, আব্দুল করিমদের ।
বাউল গান শুনি কিন্তু বাউলের তত্ব, সাধনা, পাঞ্জাতন, খেলকায় আমরা যাইনা, যেতে পারিনা । সংরক্ষন টা আমরা আমাদের মতো করি । আব্দুল করিম গান গাইতেন একটা একতারা কিংবা বেহালা হাতে । সেই গান আমরা শুনছি যখন এটা পরিবেশিত হচ্ছে গীটার, ড্রাম, কি-বোর্ড সহযোগে , আমাদের পরিচিত ঘরানায় । একতারা বেহালা হাতে সত্তুর বছর ধরে গান গেয়ে চললেও আমরা কোনদিন তাকে খুঁজে ও দেখিনি!

অর্থ্যাৎ লোকজ সংস্কৃতি কে আমরা আমাদের রুচি অনুযায়ী কাস্টোমাইজ করছি, বনসাই করে দিচ্ছি । তার আসল যে রুপে সেই রুপ আমরা গ্রহন করছিনা ।

আমি তাই এ রকম সংরক্ষনের পক্ষপাতি নই । তবে কি নাগরিকের কোনো দায়িত্ব নেই?
নাগরিকের করার আছে, যদি সে সত্যি কিছু করতে চায় । আর সেটা হলো লোকজ সংস্কৃতিকে তার স্বাভাবিক গতিতে বিকাশের সুযোগ করে দেয়া ।
স্বাভাবিক গতিতে বিকাশ বাধা পায় কেনো? অনেক অনেক কার্যকারন জড়িয়ে আছে সেই সাথে ।

গত শতকে ও বাউলদের একতারা ভেংগে দেয়া হয়েছে, বে-শরা ঘোষনা দিয়ে দাড়ি উপড়ে ফেলা হয়েছে । কাজটা করেছেন সে সময়ের 'নাগরিক ' পুজারী ব্রাম্মন ও কট্টর শরীয়তপন্থীরা । লালনের আখড়া পাকা করে দেয়ার চেয়ে বাউল সমপ্রদায় কেনো বিলুপ্ত হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা জরুরী ।
গত শতকে যা হয়েছে, তা হচ্ছে এ সময়ে ও । ক' বছর আগে ও সিলেটের গ্রামে মোল্লারা ঘেরাও করেছেন বাউল শিল্পী ক্বারী আমির উদ্দীনের বাড়ি, জ্বালিয়ে ফেলার হুমকী দিয়েছেন। ফলাফল আমীর উদ্দীন এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ে ইংল্যান্ড!
মুন্সী রহমতুল্লাহর দুর্লভ গান গুলো সংগ্রহ করা যায়নি কারন তাঁর ছেলেরা কট্টর মাওলানা হয়েছেন , বাপের কাজগুলো তাদের কাছে বেদাতি!
বাউল শফিকুন্নুর তাঁর গ্রামে সংগীত বিদ্যালয় তৈরী করেছিলেন । প্রতি সন্ধ্যাবেলা সেখানে বসতো বাউল গানের আসর। আশে পাশের কয়েকগ্রামের মানুষ আসতেন । মাঝে মাঝে এসে গান করতেন আব্দুল করিম, রুহী ঠাকুরেরা । শফিকুন্নুরের মৃতু্যর পর সে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে । তাঁর ছেলেরা প্রবাসী । কয়েক বছর পর দেশে ফিরলে তারা শহরে ' শফিকুন্নুর সংগীত সন্ধ্যা' আয়োজন করেন । আমরা অডিটোরিয়ামের নিয়ন্ত্রীতে শীতাতপে বসে অন্যদের কণ্ঠে তার গান শুনি । কিন্তু যে মানুষদের প্রেরনায় শফিকুন্নুর 'সুজন বন্ধু' রচনা করেছিলেন সেই 'জগদল' গ্রামের মানু ষ তার থেকে বঞ্চিত হয় ।
রিক্সা চড়ে যাচ্ছি কোথাও । রিক্সাওয়ালার আনমনে গেয়ে উঠা ভাওয়াইয়া সুর শুনে চমকে উঠি! নদীভাঙ্গা এই মানুষটা হয়তো কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পাড়ে বসে এই গান গাইতো একদিন!

লোকজ সংস্কৃতি বিকাশের সহজাত পরিবেশ যদি তৈরী করা যায়, তবে তা টিকে থাকবে তার অন্ত:স্থ গুঢ়তার জোরে । সংরক্ষনের নামে বিকৃতির উৎসব শুরু করে বরং আমরা নাগরিকরা তার বিলুপ্তি নিশ্চিত করছি প্রবল উৎসাহে ।

****************************************
[লিংক=যঃঃঢ়://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=খসহ1ফং8ডঋ6ও] এই ভিডিও টা দেখা যেতে পারে [/গাঢ়]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×