somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[is=0033PP] | | iv

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যে কোনো হত্যাকান্ড মাত্রই নিন্দনীয় ।
তারচেয়ে নিন্দনীয় বোধ করি , হত্যাকান্ডের বিচার চাওয়ার অধিকার যদি বন্ধ করে দে য়া হয় ।
আমাদের পরিচিত উদাহরন, শেখ মুজিব, তাঁর পরিবার ও জেলহত্যাকান্ড । রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এর আগে ও হয়েছে , পরে ও হয়েছে । তবে 15 ই আগষ্ট ও 3 রা নভেম্বরের হত্যাকান্ড অন্য গুলো থেকে আলাদা এ ক্ষেত্রে যে , রাষ্ট্র ও শাসক গোষ্ঠী আইন করে এ হত্যাকান্ডগুলো বিচার বন্ধ করে রেখেছিলো ।
রাষ্ট্র যখন আইন ঘোষনা করে যে , এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করা যাবেনা- তার মানে ধরে নেয়া যায় এই হত্যাকান্ডের দায় রাষ্ট্র নিজের কাঁধে নিচ্ছে । কেনো নিচ্ছে? রাষ্ট্রের কোন কল্যান সাধনে এই ইনডেমনিটি?
মাঝে রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটলে হয়তো এই ইনডেমনিটি চলতে ই থাকতো ।

তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র যে কেবল এই হত্যাকান্ডকে ইনডেমনিটি দিয়েছে তা নয়, আরো অনেক ঘোষিত অঘোষিত হত্যা নির্যাতনকে ইনডেমনিটি দিতে দিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্রমশ: নিজেক পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো মানবাধিকারহীন দানবরাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে ।

জিয়ার সরকার ইনডেমনিটি দিয়েছিলো 15 আগষ্ট ও 3 রা নভেম্বরের হত্যাকান্ডকে । খালেদা জিয়া সরকার ইনডেমনিটি দিয়েছে ' অপারেশন ক্লিনহার্ট' কে । সম্ভাব্য অপরাধী কে পাকড়াও করে আদালতে হাজির করা নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ । আদালতে হাজির না করে মেরে ফেলা , কোন অর্থেই কোন দেশেই গ্রহনযোগ্য কোনো প্রক্রিয়া নয় । এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংহন । এ ছাড়া এরকম প্রক্রিয়া নিরপরাধ ব্যক্তির ও ভুক্তভোগী হবার সম্ভাবনা থাকে যা আসলেই ঘটেছে 'অপারেশ ক্লিন হার্ট' এর সময়ের সময় । যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে আইনী আশ্রয় পাওয়া মানুষের অর্জিত অপরাধের অংশ, যদি সে অপরাধী সাব্যস্ত হয় তবু ও । কিন্তু ইনডেমনিটি দিয়ে এই পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ।

এ রকম আরেক অঘোষিত ইনডেমনিটি পাচ্ছে যুদ্ধাপরাধীরা । কোন পরিস্থিতি শেখ মুজিব সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেছিলেন সেটা মনে রেখে ও বলতে হয় যুদ্ধাপরাধীদের ইনডেমনিটি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো তখনই । জিয়া এরশাদের সামরিক সরকার আর পরবতর্ী গনতান্ত্রিক দুবৃত্তরা এই ইনডেনীটি কে পাকাপোক্ত করেছে । কেউ অন্যায় করলে তার শাস্তি হবে , শাস্তি হওয়াটা জরুরী ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ মুক্ত সমাজ গঠনের জন্য । কোনো সাধারন ক্ষমা বা রাজনৈতিক সুবিধার কারনে অপরাধী কে প্রোটেকশন দেয়া , তার অপরাধের চেয়ে ও জঘন্য অপরাধ । জামায়াত শ একাত্তুরের স্বাধীনতা বিরোধী ইসলামী দল গুলো জঘন্য খুনী অপরাধী ছাড়া আর কিছু ই নয় ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্ম লগ্ন থেকেই ইনডেমনিটি দিয়ে আসছে তার ধমর্ীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্্রজাতিস্বত্বাগুলোর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ সমুহকে । পাশর্্ববতর্ী দেশে সামপ্রদায়িক দাংগার রেশ ধরে কিংবা বিভিন্ন নির্বাচন পরবতর্ী সময় গুলোতে সংখ্যালঘু দের উপর কি রকম নিযর্াতন হয়েছে তা কেউ ই অস্বীকার করতে পারবেননা , যদি না শয়তানের কাছে আত্না বিক্রয় করে না থাকেন । জিয়ার আমলে লক্ষ লক্ষ সমতলের মানুষকে পাহাড়ে পুনর্বাসন করে পাহাড়ীদের উচ্ছেদ করা হলো, পার্বত্য চট্রগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহের আদিবাসী রা গত 36 বছরে কি করে ক্রমশ: হারিয়ে গেলো, এই হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলো কোথায় গেলো? তাদের জমি জিরাত এখন কাদের দখলে? রাষ্ট্র এসব প্রশ্নের উত্তর কখনোই দেয়না বরং উস্কে দেয় । রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনেই পাহাড়ে আগুন জ্বলে, গনহত্যা ঘটে, কল্পনা চাকমারা অপহত হয়, খুন হয় সরেন মন্ডল হয় , খুনের তালিকা দীর্ঘতর হয় , যোগ হ য় রিচিলের নাম । লোগাং, দীঘিনালা হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি, কল্পনা চাকমার খোঁজ মেলেনি, সরেনের খুনীরা হেসে খেলে বেড়ায়, চলেশের খুনীরা গনতন্ত্র পাহারা দেয় ।

আমরা আত্না বিক্রয় করে ফেলেছি বলে এই সব ইনডেমনিটি নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই । একটা রাষ্ট্র দানব হয়ে আছে, সেই দানবীয় রুপকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস আমাদের নেই । আমরা গনতন্ত্র, নির্বাচন, দুনর্ীতি বিরোধী জেহাদ, নোবেলের গর্ব নিয়ে বেশ আছি । দানবীয় রাষ্ট্র শক্তির ছায়াতলে থাকতে থাকতে আমরা ও দানব হবো, হয়তো হয়েই আছি!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×