somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মানবিক আবেদনঃ আমরা কি পারিনা একজন অদম্য মেধাবী’র পাশে দাঁড়াতে?

২৮ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা যারা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টর, বেসিস ও আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গেজড়িত আছি তারা অনেকেই ‘জ়াহিদুল ইসলাম’কে চিনি। তিনি তার স্বীয় দক্ষতা ওচেষ্টার ফলে ২০১৩ সালে ঢাকা জেলা ক্যাটাগরিতে বেসিস আউটসোর্সিংঅ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।

বাবা-মা এর একমাত্র ছেলে ও বড় সন্তানের জন্মটা ছিল খুব আনন্দের। কিন্তু এই আনন্দ বেশী দিন টিকেনি, বিষাদের কালো ছোঁয়া নেমে আসে জাহিদ কে পোলিও টিকা খাওয়ানোর পর পরই। ধীরে ধীরে জাহিদের শরীরের এর নীচের অংশ অনুভূতিহীন হীন হতে হতে চলাচলে অক্ষম হয়ে ওঠেন তিনি। সেই থেকে হুইল চেয়ার হলো তাঁর সঙ্গী।



তবে এই শারীরিকঅক্ষমতা তাঁকে পরাস্ত করতে পারেনি। হতাশ হন নি জাহিদ ভাই এর অসাধারণ মনোবলের অধিকারী বাবা-মাও। তাঁদের অক্লান্ত ও কঠোর পরিশ্রম তাকে যেন এক অন্য মানুষে পরিণত করেছিলো। তাই তিনি নিজেকে আলাদা করে দেখেন নি, স্কুলে গেছেন শত ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে। স্কুল পেরিয়ে কলেজের গেছেন। উচ্চ শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকায় হুইল চেয়ারেবসেই তিনি সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং নর্থ সাউথবিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পড়েছেন। তার শারিরিক প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনাকরে উভয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে শতভাগ ওয়েভার দেয়।



জাহিদ ভাই আমাদের সকলের থেকে একজন ব্যতিক্রমি একজন মানুষ। তিনি কখনোই চান নি পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে। তাই দৃঢ়তাঁর সাথে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। তারপক্ষে চাকরি করা সুবিধাজনক নয়, তাই ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেন। ফ্রিল্যান্সিং করেই নিজের পড়া লেখার খরচ এবং পরিবারের খরচ যোগাতেন তিনি। তিনি এই কাজে এতোটাই সাফল্য অর্জন করেছিলেন যে বেসিস তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে বেসিসের বর্ষসেরা ফ্রিল্যান্সারের পুরস্কার প্রদান করে। যা তাঁর জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
আমরা জানি যে তিনি শুধু তাঁর নিজের গন্ডির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বাংলাদেশের শারিরিক প্রতিবন্ধি মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধিরা যাতে এই পেশায় এসে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকে, সেই বিষয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টাও করেছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই আজ এই পেশায় এসেছেন।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাবা-মার অসীম ত্যাগ ও জাহিদ ভাই এর মেধা ও শ্রম যখন তাঁকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনই তিনি ‘SCOLIOSIS’ (মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যাওয়া) রোগেআক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করার ফলে তাঁর মেরুদন্ড ৫৫ ডিগ্রী বাঁকা হয়ে গেছে। এখন পিঠে ও ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা এবং বাঁকা মেরুদন্ড হার্টে আঘাত করছে। এতে প্রচন্ড বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ হচ্ছে তাঁর । তিনি এখন ১০ মিনিটও বসে থাকতে পারেন না।



দিনে দিনে জাহিদ ভাইয়ের মেরুদন্ড আরও বেশি বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই তার সুস্থতার জন্য দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে তাঁর এই চিকিৎসার জন্য ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার হিসেবে বাবা’র পক্ষে এতো তাকা যোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। অন্যদিকে এতোদিন জাহিদ ভাই ফ্রিল্যান্সিং করে পরিবারকে যে সহায়তা করতেন, মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যাওয়ার কারণে সেটাও বন্ধ। এখন ফ্রিল্যান্সিং দুরের কথা, কম্পিউটারের সামনে কিছুক্ষণ বসেই থাকতে পারেন না তিনি।

এমতাবস্থায় ফ্রিল্যান্স-আউটসোর্সিং তথা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সফল তরুণকে বাঁচিয়ে রাখতে সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বেসিসের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা এই ফ্রিল্যান্সারের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সকল সদস্যের সাধ্যমতো সহায়তায় হয়তো বেঁচে যেতে পারে এই তরুণের জীবন। তিনি আবার স্বপ্ন দেখতে পারবেন নিজেকে স্বাবলম্বী করার, পরিবারকে সহায়তা করার ও দেশের শারীরিক প্রতিবন্ধিদের স্বাবলম্বী হওয়ার।তাই বেসিসের পক্ষ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

শুধু আইটি ক্ষেত্রে কর্মরত ভাই-বোনরা না, এর বাইরেও অনেকেই আছেন, যারা মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়েছেন অতীতে, তাঁদের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, প্লিজ জাহিদের পাশে আসুন, আপনার সাহায্যের হাতটিই হয়তো বা পারবে আমাদের এই অদম্য মেধাবী ভাই টিকে বাঁচাতে।

আপনার সাহায্য পাঠিয়ে দিন নিম্ন লিখিত ব্যাংক এ্যাকাউন্টে:

জাহিদ ভাইয়ের বাবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর
Account Owner: Md. Salauddin,
A/c No: 103.151.31213
Dutch-Bangla Bank Ltd.
Banani Branch.
=====================

Bank Name : United Commercial Bank(UCBL)
Account Name: BASIS Welfare Fund
Account Number: 0044-13200000676
Branch Name : Kawran Bazar

bKash wallet No. is 01798323118
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×