বড়বেলার দুপুরবেলার ঘুম বিলাসিতা হলেও ছোটবেলার সহজপ্রাপ্য জিনিসটা ছিল বেশ বিরক্তিকর। আম্মু যতই গল্পের বই আর ছড়ার বইএর আড়ম্বর করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুক নাছোড়বান্দা আমি কিছুতেই ঘুমাবো না.l সারাদিনের ব্যাস্ত আম্মু এক সময় ছড়াগান আর গল্পের স্টক শেষ করে এলিয়ে পড়ার অপেক্ষা। অবশ্য আম্মু ঘুমিয়ে গেছে নিশ্চিত করতে খানিক্ষন অপেক্ষা করতে হয় অবশ্য, ততক্ষন পুরানো বাড়ির কড়িকাঠ গোনা আমার বেশ প্রিয়। আম্মুর ঘুম গাঢ় নিশ্চিত হতেই কোল থেকে সাবধানে বেড়িয়ে আমি দৌড় । ডেস্টিনেশন ছাদ। দুপুরের খাওয়ার পর ছাদে যাওয়া আমার একদম নিষেধ । আব্বু অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সময় বার বার আম্মুকে সাবধান করে দিয়েছে আমি যেন একা ছাদে না যাই, ছাদের সিড়িটার রেলিং নেই এই নিয়ে আব্বুর খুব ভয়।আমি নাকি পড়ে যাব।আব্বুটা যে কি বোকা ! সিড়ি থেকে আবার পড়ে যায় কেউ ? আমি তো শুধু বড় বাথ্রুমের নিচের হাউজ(ট্যাঙ্কি) আর শিমুল মামা আর আমদের কমন কুয়াটা ভয় পাই। আম্মু বলে কুয়ার ভিতর চুলবুড়ি থাকে,দুষ্টুমি করলে বাচ্চাদের টেনে মাটির নিচে নিয়ে যায়।
সে যাই হোক এই দুপুর বেলাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়। এই সময়ে দাদা আর নানা স্কুলে থাকে (আমার দুই খালাত ভাই) চাবি নিয়ে ওদের ঘর খুল্লেই থরে থরে সাজানো কমিক্স আর গল্পের বই,আম্মুর এনে দেওয়া ডিজনি আর রাশিয়ান রুপকথা আর ঝলমলে বইএর গল্পগুলো প্রায় মুখস্ত সেই কবেই। এখন শুধু দাদার জমানো আর পুরস্কার।পাওয়া বইগুলো পড়তে ভাল লাগে।কেমন যেন নেশার মত। ইশ কেন যে ছেলে হলাম না,অনেক পড়াশোনা করে আমিও সেইন্ট গ্রেগরীতে চান্স পেতাম আর এতগুলো করে বই! সেই কখন রেলিং এর পাশে বসে কড়া রোদকে সন্ধ্যা বানিয়ে ফেললাম কিন্তু ভাগ্যিস এমন হাজারো দুপুরকে বইএর পাতায় সন্ধ্যা বানিয়েছিলাম না হলে আজ হাজারো দুঃখ কষ্টে বইকে সঙ্গী বানাতে পারতাম কিভাবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





