স্ফুলিংগ" ব্যাপারটা যতবার আমি সেই মানুষটাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমাকে খুব শক্তভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হত এই বাস্তববাদী পৃথিবীতে আমার উচ্ছ্বাসগুলো রীতিমত বোকামি ছাড়া আর কিছু না। আমিও মহা উৎসাহে তর্ক করে যেতাম। আমি যদি কোন ক্লাসিক উপন্যাসের উদাহরণ টানতাম তার কাছে মনে হত এই সব আবেগ মাত্রই কেতাবি। প্রতিদিন বাইরের দুনিয়ার খারাপ দিকটাই আমার সামনে তুলে আনার উপায়ের তার কোনই অভাব ছিল না আর আমি রীতিমত সবচেয়ে আশাবাদী মানুষের দলে। অনেক সময় লেগেছিল আমার বুঝতে, ওই নেতিবাচক লেবাস তার নিজের অনুভূতিগুলো লুকানোর জন্য। এবং যেদিন আমি প্রথম অনুভব করলাম যে বর্ণান্ধ মানুষটা নিজেকে যত দেয়াল তুলে আড়াল করুক দোলন চাঁপা আর কাঠ গোলাপের গন্ধ চেনে ততদিনে আমি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। খুব চেষ্টা করতাম,কথায় কাজে বা আচরণে যেন কিছু প্রকাশ না পায়। কারণ মানুষটা অনেক আগেই পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিল তার পরিবারের অনুশাসনের মাঝে নিজস্ব সিদ্ধান্ত আর আবেগী সিদ্ধান্ত কোনটাই গ্রহনযোগ্য না। ভেবে নিয়েছিলাম বন্ধু হয়েই থাকবো যতদিন পারা যায়, কিন্তু বিধিবাম মানুষটা ক্রমেই দেয়াল তুলে দিতে লাগলো; পরে জানতে পেরেছিলাম সেটা ছিল আমাকে বাস্তবতা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। ব্যাক্তিগত আর পেশাগত জীবনে মানুষটার খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, তার বিক্ষিপ্ত মেজাজ সদা সর্বদা জানান দিতো আমাকে। কখনো আমাকে দূরে ঠেলার জন্য আর কখনো .................কারণ আর কিছু করবার থাকতো না। কিন্তু সব ছাপিয়ে আমি দেখতে পেতাম একটা মানুষের নিজের উপর কতখানি নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে, হয়তো স্কুল কো-এড হওয়ার কারণে আর সব কিছুর উপরে একটা ছেলের মানসিক শক্তি সব খারাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখার ক্ষমতাই আমাকে টানতো বেশী, আবার হতে পারে আমি শুধু প্রেমেই পড়েছিলাম। তবে যতবার কৃষ্ণচূড়া ঢাকা ক্যাম্পাসে থেকে সূর্যাস্তের সময় ফিরতাম আমার শুধু ওই মানুষটার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছা করতো। তার চোখে গোধূলীর আকাশ লাল হোক আর কমলা তাতে তো আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্য কমে যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





