somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার বাচ্চাও আপনাকে মারার প্ল্যান করবে না তো?

১৭ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকায় একটি ছোট বাচ্চা মেয়ের যোগসাজশে তার বাবা মা দুইজন নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে। এইটাই খবর এখন। টক অফ দ্যা টাউন। আমাদের দেশে কি এমনটা হওয়ার কথা ছিল?

মনে করিয়ে দেই, "ভায়ের মায়ের এত স্নেহ, কোথায় গেলে পাবে কেহ"?

নাহ! এত স্নেহে আসলেই ভাটা পড়েছে এবার। মারামারি, কাটাকাটি নয়। সোজা খুন! কি বীভৎস!

আসুন এবার একটু গভীরে যাই। একটু ভাবি। তাহলেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো (হয়তো!)।

আমেরিকায়, কানাডা, ম্যাক্সিকো আর ইউরোপে এধরণের খুন হয়। বাবা মাকে হত্যা করে স্কুল বয়সী শিশুরা। শুধু তো বাবা মাকেই হত্যা করে তা নয়। এর সাথে যুক্ত হয় উন্মত্ততা। স্কুলের কম্পাউন্ডে ঢুকে গুলি করে ৬-৭ জন শেষ হয়ে গেল।

আমাদের বাবা মারা কখনই সন্তানদের দূরে সরিয়ে রাখেন না। ইউরোপ, আমেরিকায় যেটা করা হয়। এক বছরের বাচ্চাকে আলাদা ঘরে শুতে দেওয়া হয়। ছোট বেলা থেকেই একটা দাগ টেনে দেওয়া। এই দাগ কিন্তু একাকীত্বের দাগ নয়, এটা হলো স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেওয়া।

এই ধারণার একটা ভয়ংকর দিক আছে। বাবা মার সাথে সন্তানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সন্তান স্বাধীন তো হয় ঠিকই, কিন্তু এই স্বাধীনতাই তার কাল হতে পারে। আমেরিকায় "সিরিয়াল কিলার" আর "সাইকো" দুইটা জিনিস খুবই প্রচলিত নয় কি?

আমাদের দেশে মা বাবা এরকম করে সন্তানদের দূরে ঠেলে দেন না। তবে তারা একটা কাজ করেন যা আরও মারাত্মকভাবে ছেলে মেয়ে থেকে বাবা-মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি করে। বিত্তশালী মায়েদের প্রায়শই দেখা যায় কাজের মেয়ের হাতে বাচ্চা তুলে দিচ্ছেন। হয়ত তিনি হাউজ ওয়াইফ, কোন কাজ নাই সারাদিন, তবুও কাজের মেয়ে একটা ক্ষেত্রবিশেষে তিন-চারটা।

ছেলে-মেয়ে রাতের বেলা শুধু বাবা-মায়ের সাথে ঘুমাচ্ছে। বাকিটা সময়? সেই কাজের মানুষের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষে ছোট অবস্থাতেই বাচ্চার এমন হয় যে সে বাবা-মার একটা ধমক শুনতে পারে না, অথচ কাজের মেয়ে বা ছেলের কথায় সব করে। কার্টুন দেখে, সিনেমা দেখে, দেখা যায় তাদের সাথে কাজের লোক।

মা-বাবা সাময়িক ভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলেন। ছেলে মেয়ের দুই একটা বেয়াদবি চর থাপ্পড় দিয়ে সামলে নেন। অথচ, তাঁরা এই সত্যটা বুঝতেই পারেন না যে সন্তানের থেকে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

আমার শৈশবে আমার মা এই কাজটি করতেন না। যদিও দুইজনই চাকরিজীবী ছিলেন। আমার ও আমার বোনকে তাঁরা নিজেদের হাতেই গড়েছেন। তাই তাদের সাথে শত জায়গায় আমার দ্বিমত হলেও নৈকট্য-টাই কিন্তু উপলব্ধি করি। আর তাই অনেক সময় নিজের অনেক ইচ্ছাই বিসর্জন দিতে শিখেছি হাসিমুখে।

পেশাজীবী বাবা-মা হয়েও দুইজনই বাচ্চা নিজের মত লালন করতে পারেন। এমনটা করতে অনেক কষ্ট হয়। তবে এইটাই নিয়ম। বাচ্চাকে দূরে ঠেলে দেওয়া খুবই ভয়ংকর।

ঐশি (টক অফ দ্যা টাউন) এর ক্ষেত্রেও এমনটিই হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস।

এখানে আরেকটি জিনিস লক্ষ্যণীয়। তার আগে অবশ্য আমার একটা অভিজ্ঞতার কথা বলা জরুরী। ১৯৯৭ সালে আমার বাবা-হঠাতই আমাকে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে বাংলা মিডিয়ামে ট্রান্সফার করে দিলেন। আমি খুবই মর্মাহত হলাম। কেন করলেন সেটা জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমরা অত ধনী নই।

ধনী হয়ত আমরা ছিলাম না। তবে আমি জানতাম বাবা ঠিকই স্কুলের খরচটা দিতে পারত। কিন্তু বাবা সেটা করেননি। এখন বুঝি কেন। ইংলিশ মিডিয়ামে বড়-লোকের বড় পোলা অনেক বেশি। এদের সাথে মিশলে আমিও সেরকম বড় পোলা হয়ে যেতে পারতাম। আরে "বাংলা" হইলো তোর ক্ষেতের ভাষা, ক্ষেতের সাহিত্য (এই কথাটা সত্যই আমার এক ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া বন্ধুর মন্তব্য)।

আরেকটা উদাহরণ এরকম। আমরা ছিলাম চরম মধ্যবিত্ত। বাবা ভাবলেন বাংলা মিডিয়ামে দিলে অনেক মধ্যবিত্তের মধ্যেই আমি বড় হবো।

সত্যি তাই হলো। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটা বড় আজব। কোনদিন দশটাকার বেশি টিফিনে খরচ হলে সবাই আফসোস করতাম! আর সেই থেকেই তো আমাদের বুঝতে শেখা।

সুতরাং পারিপার্শ্বিকতাটা নির্ধারণ করাটাও বাবা-মার একটা মুন্সীয়ানা হওয়া উচিৎ। অক্সফোর্ডের মত স্কুলে একটা ছাপোষা পুলিশ অফিসারের মেয়ে কি মানায়? বড়লোকের ছেলে-মেয়েরা বড় হয় টাকার বান্ডিল দেখে। ওদের কাছে খুন, চুরি ড্রাগ হলো কুলনেস। আমাদের কাছে হাস্যকর।

সুতরাং মনে রাখবেন। এই দুইটা জিনিসের ব্যাপারে সতর্ক হোন। তাহলেই বাচ্চা লাইনে থাকবে। আর না হলে, গন কেস!
১৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×