somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সায়ানাইড I

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধারনত আমি কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না।কিন্তু আজকে আমার আসতেই হইল। এর কারন হয়তোবা আজ আমারই বিয়ে। মানুষই একমাত্র বর্বর প্রাণী যারা হাজার বছর ধরে চলা সভ্যতার প্রলেপে কিছুটা হলেও তাদের আদি বন্য রূপকে ঢাকতে পেড়েছে। আর বিয়ের অনুষ্ঠানের মানুষগুলো থাকে আরও কৃত্তিম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের চোখের দৃষ্টির কারনে তারা ধরা পরে যায়। ধরা পরে যায় আমার কাছে।
__
গাঁয়ে হলুদের দিন সকালে আমি গায়েব হয়ে গেলাম। ফিরলাম আজকে সন্ধ্যার কিছু পরে। বাড়ির গেটের কাছাকাছি আসার সময় দেখলাম বড় মামা দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরানোর চেষ্টা করছে। আমাকে দেখতে পেয়েই তিনি সিগারেট ফেলে এমন ভাবে জাপটে ধরলেন যেন সাত আসমান থেকে তিনি আমাকে ধরে নিয়ে এলেন।
-মামা, ছেড়ে দাও। দম বন্ধ হয়ে আসছে তোহ।
-আগে বল হতচ্ছাড়া যে আর পালাবি না।
-কি বলো মামা,পালাবো ক্যান! আজ তো আমার বিয়ে।
__
রাত এগারোটার সময় পারকিং লটে হাফিযের আসার কথা। এগারোটার মধ্যে যদি হাফিয না আসে তাহলে আমি বিয়েটা সেরে ফেলবো। এখানে আমি নিজের সাথে একটা খেলা খেলছি। ভাবছেন বিয়ের মতন বিষয় নিয়ে ছেলা-খেলা। আসলে ওইদিকের পাল্লাটাই বেশি ভারী। মালিবাগের এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর কবর খোঁড়ার দায়িত্ব এখন তার। আজকে আবার আমি হাফিযকে বলেছি কাজ সারার সময় সাদা পাঞ্জাবি পড়তে।
__
রাত এগারোটা প্রায় বাজতে চলল।আমার এখন উঠা প্রয়োজন। আমার পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতন বড় মামা বসে আছে আর আমি বসে আছি সাধারনত বর যেখানে বসে,সেখানে।আমার অনেকগুলো ক্ষমতার মধ্যে একটি হচ্ছে মানুষের দুর্বলতা ধরতে পারা। বড় মামার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে তার আত্ম-অহংকার। আমি উঠে দাঁড়ালাম।
- এই উঠিস ক্যান ? বড় মামা চোখ বড় বড় করে তাকালো।
-মামা, একটু ছেড়ে আসি। বলে আমার কানি আঙ্গুল দিয়ে সিগন্যাল দেখালাম। সাথে একটু মিনকে হাসি।
- চল। বলে বড় মামা উঠে দাঁড়ালেন।
- ছিঃ ছিঃ তুমি কি বডিগার্ডের মতন আমার এখন পিছন পিছন ঘুরবে ? দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে ? তুমি থাকো,আমি এই আসছি।
- আচ্ছা যা। বলে বড় মামা বসে পরলেন।
দাওয়াইতে কাজ হয়েছে। আমি আর কথা না বাড়িয়ে ওয়াশ রুমের দিকে রওনা হলাম।
__
ওয়াশ রুমে ঢুকেই আমি শেরওয়ানিটা খুলে ফেললাম।বিয়ে বাড়িতে সবার আগে মানুষের চোখ যায় পোশাকে । পোশাক এর দিকে তাকিয়ে তারা মানুষ চিনবার চেষ্টা করে। শেরওয়ানির ভিতরে আমার টম অ্যান্ড জেরির একটা টি-শার্ট ছিল। সেটা পড়েই বের হয়ে পরলাম পারকিং লটের দিকে। যা ভেবেছিলাম তাই,কেউ আমার দিকে ঘুরেও তাকালও না।
__
পারকিং লটের কাছে এসে ঘড়ি দেখলাম। রাত এগারোটা বাজে। এর মধ্যে তো হাফিযের কাজ শেষ করে আসার কথা। হঠাৎ একটি ফিসফিসানি শব্দ পেলাম।
-স্যার, স্যার।
তাকিয়ে দেখি হাফিয একটি পিলারের পিছনে লুকিয়ে আছে।
- কি ব্যাপার, ওভাবে ক্যান ?
-মিশন সাকসেসফুল স্যার। বলেই হাফিয তার পান খেয়ে লাল করা জিহ্বা বের করে একটা হাসি দিলো।
-আচ্ছা। এখন তাড়াতাড়ি গাড়ি স্টার্ট দাও।
-আইজকাই যাইবেন, স্যার ?
-হুমম।
-স্যার,আপনার কষ্ট করনের দরকার নাই। আমি আর মছলেম মিলাই ওই দিকটা সামলায় লমু নে।
আমি হাফিযের দিকে একবার তাকালাম তখন। আমার এই চাহনির মানে হাফিয জানে। সে আর কথা না বাড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। আমি পিছনের সিটে বসলাম। গেট পার হওয়ার সময় দেখলাম বড় মামাসহ আরও কয়েকজন দৌড়ের উপর আছেন। খুব সম্ভব আমাকেই খুঁজছেন।
__
পরিবেশ হালকা করা দরকার।
-হাফিয,গান লাগাও।
-স্যার, সিডি প্লেয়ার নষ্ট।
-তাহলে তুমি নিজেই গাও একটা।
-কোনটা গাবো স্যার ?
হাফিযের মতন গায়কদের কখনও দ্বিতীয়বার বলতে হয় না। তারা অন্যদের মতন বলে না, আজ যে গলা ভাঙ্গা, আজ সকালে যে রেওয়াজ করা হয় নি। এরা অবলীলায় রাজি হয়ে যায়।
- আজকে তো আমার বিয়ে ছিল। একটা বিয়ের গানই গাও, তাহলে।
- “ও বন্ধু ভবের ভাবানি, তোমার শবের চাহিনি। কই রইলো রে………”
মনে মনে বলি,হাফিয মনে হয় বিয়ের গান কোনগুলি তাও জানে না। গানের কথাগুলিও তার সঠিক জানা নেই।ভুল সুরে,অশুদ্ধ উচ্চারণেও সে গেয়ে যাচ্ছে।আর খুব আশ্চর্যভাবে হলেও চারপাশের এই নির্জনতার গানটি অদ্ভুত ভাবে মানিয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×