somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে বাংলা একাডেমি অনুযায়ী 'যবন' শব্দের অর্থ হলো ম্লেচ্ছ জাতি বা অসভ্য/অহিন্দু জনগোষ্ঠী।


‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে রঠা লিখেছেন –

'আল্লা হো আকবর' শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। একদিকে তিনলক্ষ যবনসেনা, অন্যদিকে তিনসহস্র আর্যসৈন্য। বন্যার মধ্যে একাকী অশ্বত্থবৃক্ষের মতো হিন্দুবীরগণ সমস্ত রাত্রি এবং সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া অটল দাঁড়াইয়া ছিল কিন্তু এইবার ভাঙিয়া পড়িবে, তাহার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। এবং সেইসঙ্গে ভারতের জয়ধ্বজা ভূমিসাৎ হইবে এবং আজিকার ঐ অস্তাচলবর্তী সহস্ররশ্মির সহিত হিন্দুস্থানের গৌরবসূর্য চিরদিনের মতো অস্তমিত হইবে।

হর হর বোম্‌ বোম্‌! পাঠক বলিতে পার, কে ঐ দৃপ্ত যুবা পঁয়ত্রিশজন মাত্র অনুচর লইয়া মুক্ত অসি হস্তে অশ্বারোহণে ভারতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর করনিক্ষিপ্ত দীপ্ত বজ্রের ন্যায় শত্রুসৈন্যের উপরে আসিয়া পতিত হইল? বলিতে পার, কাহার প্রতাপে এই অগণিত যবনসৈন্য প্রচণ্ড বাত্যাহত অরণ্যানীর ন্যায় বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল?-- কাহার বজ্রমন্দ্রিত 'হর হর বোম্‌ বোম্‌' শব্দে তিনলক্ষ ম্লেচ্ছকণ্ঠের 'আল্লা হো আকবর' ধ্বনি নিমগ্ন হইয়া গেল? কাহার উদ্যত অসির সম্মুখে ব্যাঘ্র-আক্রান্ত মেষষুথের ন্যায় শত্রুসৈন্য মুহূর্তের মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়নপর হইল? বলিতে পার, সেদিনকার আর্যস্থানের সূর্যদেব সহস্ররক্তকরস্পর্শে কাহার রক্তাক্ত তরবারিকে আশীর্বাদ করিয়া অস্তাচলে বিশ্রাম করিতে গেলেন? বলিতে পার কি পাঠক। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুবনক্ষত্র।


শুধু ‘রীতিমত নভেল’ই নয়। রবীন্দ্রনাথ তার ‘সমস্যাপুরণ’, ‘দুরাশা’ ও ‘কাবুলীওয়ালা’ গল্পে মুসলমানদের জারজ, চোর, খুনি ও অবৈধ সম্পর্ক কারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া ‘সমস্যাপুরণ’ গল্পে দেখিয়েছে, মুসলিম নারীর গর্ভে পিতা কৃষ্ণগোপালের ঔরষে জন্ম নেয়া ভাইয়ের পরিচয় পিতার মুখ থেকে শুনে ছেলে বিপিনচন্দ্র বিস্ময়ে উচ্চারণ করে ‘যবনীর গর্ভে?’ কৃষ্ণগোপাল বলে, ‘হ্যাঁ বাপু।’

এভাবেই রঠা মুসলিমদেরকে যবন, ম্লেচ্ছ বলে সম্বোধন করতেন।


-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১৯১২ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়, তখন রঠা সেই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন অর্থাৎ রঠার কোনো স্বাক্ষর বা সম্পৃক্ততা ছিলনা তবে ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল বিরোধিতাকারী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, রাজনীতিক সুরেন্দ্রম্যান ব্যানার্জী এবং ড. রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী যে জনসভা হয়েছিল কেউ কেউ বলেন সেখানে রঠা উপস্থিত ছিলেন আবার ভিন্ন মতও আছে যেমন সৈয়দ আবুল মকসুদের 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা' বইয়ে উল্লেখ করেছেন রঠা তখন শিলাইদহে ছিলেন। আবার মেজর জেনারেল এম এ মতিনের তার লেখা বইয়ে দাবি করেছেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন রঠা।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন কর্তৃক বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রঠা "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি" এই গানটি রচনা করেন। লর্ড কার্জনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার রাস্তায় সাধারণ মানুষের সাথে খালি পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং গঙ্গাস্নানের পর মিছিলে নেতৃত্ব দেন। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রঠা ছিলেন অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, যিনি তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও প্রত্যক্ষ ভূমিকার মাধ্যমে অখণ্ড বাংলার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

প্রবল হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সংগে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন রঠা।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
রঠার ননবায়োলজিক্যাল সন্তানলো এগুলো কখনই বিশ্বাস করবেনা করার কথাও না কারণ তাদের ডিএনএতে ভারতপ্রীতি। তাই তো কচিভাই যথার্থই বলেছেন, ভাব ও কর্মকান্ড দেখে মনে হয় রবীন্দ্রনাথের জমিদারী এখনও স্বাধীন বাংলাদেশে রয়ে গিয়েছে!! আর তার আসল জমিদারী শাসন কেমন বর্বরতাপূর্ণ ছিলো তার পদলেহনকারীদের বংশধর গুলোর হিংস্রতা এখন তা বুঝিয়ে দিচ্ছে !!!
জাতীয়তাবাদী নামের ক্যামোফ্লেজড ও মগজশুন্য গুলার জন্যই জাতির/দেশের ভাগ্যে হয়তো খারাপি আছে !!!

রঠার সাহিত্যে অবদান অনন্য ও অনস্বীকার্য বাট তার রন্ধ্রেরন্ধ্রে ছিলো ধর্মীয় গোড়ামী, মুসলিম বিদ্বেষ।



রঠা যথার্থই রচনা করেছিলেন -----

সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জামায়াতে Cockroach" ............... বাংলাদেশের নতুন Cockroach পার্টি

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:০১

রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাও চেয়ে থাকেন (তর্কের খাতিরে) তো তাতে *জামায়াতে cockroach এর কোন বা/লটা ছিড়লো…? জামায়াত যেমন বাংলাদেশ চায়নি, তেমনি পাকিস্তানও চায়নি। মওদুদী এর নাম নামকরন করেছিলো নাপাকিস্তান….।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×